৬০ বছরের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিদাল হাসানের সাজা ফায়ারিং স্কোয়াডে (গুলি করে) কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগনের শীর্ষ মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাবেক সেনাসদস্য ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিদাল হাসানের এই দণ্ড কার্যকর হলে, বিগত ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তিনি হবেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম কোনো সৈনিক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শন পার্নেল লেখেন, 'প্রতিরক্ষামন্ত্রী (পিট হেগসেথ) সুপারিশ করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত সন্ত্রাসী নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড মার্কিন সেনা ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন।'
তিনি আরও লেখেন, 'সেনাবাহিনী সচিব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন। হাসানের বিচারের চূড়ান্ত দিন অবশেষে এসে গেছে।'
এর আগে ২০১৩ সালে একটি সামরিক জুরি আদালত ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে নির্বিচার গুলিবর্ষণের দায়ে হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচার চলাকালে তিনি নিজেই আত্মপক্ষ সমর্থনের দায়িত্ব নেন; তবে তিনি কোনো সাক্ষী ডাকেননি, কোনো সাক্ষ্য দেননি এবং অভিযোগ অস্বীকার করারও কোনো চেষ্টা করেননি।
সে সময় আদালত নিযুক্ত আইনজীবীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, তিনি সম্ভবত নিজেই নিজের মৃত্যুদণ্ড চাইছেন।
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নিদাল হাসান ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ওই বিশাল সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নির্বিচারে গুলি চালান। ঘাঁটিটি মূলত ইরাক ও আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েনের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন এবং আহতদের মধ্যে ৩০ জনই ছিলেন সেনাসদস্য। হামলার সময় এক বেসামরিক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে হাসান নিজেও আহত হন এবং আংশিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
আদালতের শুনানিতে জানানো হয়, হাসান ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরোধী ছিলেন। এ ছাড়া তিনি 'আল-কায়েদার চরমপন্থী প্রচারক আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ রক্ষা করতেন'। পরবর্তীতে ইয়েমেনে মার্কিন ড্রোন হামলায় আওলাকি নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বিচারে বন্দুক হামলার ঘটনা নিয়মিত দেখা গেলেও, সামরিক স্থাপনায় এ ধরনের ঘটনা বিরল। এর আগে, ২০২৫ সালে জর্জিয়ার একটি ঘাঁটিতে এক সেনার গুলিতে পাঁচ সহকর্মী আহত হন।
২০১৯ সালে হাওয়াই ও ফ্লোরিডার সামরিক ঘাঁটিতে পৃথক হামলায় প্রাণহানি ঘটে। এ ছাড়া, ২০১৫ সালে টেনেসিতে 'বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী' দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে চালানো এক হামলায় পাঁচ সেনা সদস্য এবং ২০১৩ সালে ওয়াশিংটন নেভি ইয়ার্ডে বন্দুকধারীর হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছিলেন।
