জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়াতে অতি-গভীর কূপ খননের দিকে ঝুঁকছে চীন
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চলছে অস্থিরতা। এরই মধ্যে দেশীয় সরবরাহ বাড়াতে 'আল্ট্রা-ডিপ' বা অতি-গভীর ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে খনিজ তেল উত্তোলনের কার্যক্রম জোরদার করেছে চীন।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি– পেট্রোচায়না দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াংয়ের প্রদেশের হাদে-ফুমান তেলক্ষেত্র থেকে ভূপৃষ্ঠের ৬,০০০ মিটার (১৯,৬৮৫ ফুট) গভীরে খনন করা কূপগুলো থেকে—২৬ মিলিয়ন টনের বেশি তেল ও গ্যাস উৎপাদন করেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সাধারণত ৬,০০০ মিটার বা তার চেয়ে বেশি গভীরতার ভূগর্ভস্থ খনিগুলোকে 'আল্ট্রা-ডিপ' বা অতি-গভীর হিসেবে বিবেচনা করা হয়—যা খনন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে বেশ কঠিন।
চীন হাদে-ফুমান তেলক্ষেত্রে এ পর্যন্ত মোট ৪৮৫টি অতি-গভীর কূপ খনন করেছে। এটি বর্তমানে চীনের বৃহত্তম মরুভূমি তেলক্ষেত্র এবং দেশটিতে অতি-গভীর তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক চীন খনিজ তেল আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। সেই লক্ষ্যে অতি-গভীর ভূস্তর ও মহাদেশীয় শিলাস্তরে দেশীয় খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গতি বাড়িয়েছে বেইজিং।
এদিকে চীনের অপর রাষ্ট্রীয় জ্বালানি জায়ান্ট সিনোপেক সিচুয়ান প্রদেশের জিয়াং ডংফেং ক্ষেত্রে ২৩৫.৬৮৭ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রমাণিত ভূগর্ভস্থ গ্যাস মজুদ উত্তোলনের জন্য সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পর—বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চায়না পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কেমিক্যাল কর্পোরেশন বা সিনোপেক গত মে মাসে জানায় যে, চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের ওই শেল গ্যাস ক্ষেত্রের মজুদ নিশ্চিতকরণের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চীনের প্রথম অতি-গভীর ও ১০০-বিলিয়ন-ঘনমিটার স্তরের বৃহৎ শেল গ্যাসক্ষেত্র চালু হলো।
প্রযুক্তিগত ও ভূতাত্ত্বিকভাবে জটিল ভূখণ্ড এবং অতি-গভীর ভূস্তর হলেও—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিনোপেক চীনের অভ্যন্তরীণ প্রধান অববাহিকাগুলোতে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে শেল তেল ও গ্যাসের ক্রমবর্ধমান মজুদ আবিষ্কার করে যাচ্ছে।
যাবতীয় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, বাইরে থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপক নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ হিসেবে অভ্যন্তরীণ তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের এই অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তেল ও গ্যাস দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় সরবরাহকারী থাকা সত্ত্বেও, বিকল্প ও নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারের পাশাপাশি প্রচলিত হাইড্রোকার্বন শক্তিতে নিজস্ব আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বেইজিং।
