ফের ট্রাম্প প্রশাসনে ফিরছেন ইলন মাস্ক, কাজ করবেন পেন্টাগনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশল নিয়ে
আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও ট্রাম্প প্রশাসনে ফিরছেন প্রযুক্তি ধনকুবের ইলন মাস্ক। এবার ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশল নিয়ে পেন্টাগনের একটি সমীক্ষা প্রকল্পে সহ-নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়ে হোয়াইট হাউসে তার প্রত্যাবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন মাস্ক। পরবর্তীতে তিনি 'ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি'র (ডোজ) প্রধান হিসেবে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন এবং ২০২৫ সালের মে মাসে সেই দায়িত্ব ছাড়েন।
বুধবার কোয়ান্টিকো সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া এক ভাষণে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ জানান, 'প্রজেক্ট মেরিডিয়ান' হবে 'ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশল পর্যালোচনায় আমেরিকার সেরা মেধাবীদের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি প্রয়াস।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা আমেরিকার এমন এক অনন্য সুবিধাকে কাজে লাগাচ্ছি, যা আমাদের শত্রুপক্ষের নেই: আমাদের উদ্ভাবক, আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং আমাদের প্রযুক্তিবিদরা।'
প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে মাস্কের সঙ্গে সহ-নেতৃত্বে থাকবেন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ'-এর ৩৪ বছর বয়সী সহ-প্রতিষ্ঠাতা পালমার লাকি এবং ৮৩ বছর বয়সী রিপাবলিকান দলের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার নিউট গিংরিচ।
পেন্টাগনের সঙ্গে মাস্কের সংশ্লিষ্টতা অবশ্য নতুন কিছু নয়; তার প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বড় ঠিকাদার। এর মধ্যে ট্রাম্পের পরিকল্পিত 'গোল্ডেন ডোম' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরি করছে তার মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। এ ছাড়া চলতি বছর সামরিক বাহিনীর গোপন সিস্টেমে 'গ্রক' চ্যাটবট ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই।
২০২৪ সালের নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্টের ব্যয় সংক্রান্ত আইন নিয়ে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তাঁদের সেই সম্পর্কের বরফ গলে যায় এবং মাস্ক আবারও নিয়মিত হোয়াইট হাউসে যাতায়াত শুরু করেন। অবশ্য আগের মেয়াদের তুলনায় এবার তাঁর উপস্থিতি কিছুটা কম প্রকাশ্য। আগের মেয়াদে ওভাল অফিসে তিনি প্রায়ই যেতেন, বিশেষ করে কাঁধে ছোট ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল।
গত মঙ্গলবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের নির্বাহীদের নিয়ে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজে ট্রাম্পের পাশেই বসেছিলেন মাস্ক। সেখানে অন্যান্য প্রযুক্তি নেতাদের সঙ্গে তিনি এআই নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ঐচ্ছিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যাকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প 'নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক' বলে বর্ণনা করেছেন। এর আগে গত সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে ট্রাম্পের আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেন মাস্ক। এমনকি গত মে মাসে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে প্রেসিডেন্টের বিমান 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এ চড়ে বেইজিং গিয়েছিলেন তিনি।
রিপাবলিকানদের তহবিলে অনুদান দেওয়াও পুনরায় শুরু করেছেন মাস্ক। যার মধ্যে ব্যক্তিগত প্রার্থী ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া কোটি কোটি ডলারের অনুদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের নথির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকানদের সমর্থনে ২৫ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করা মাস্ক আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্যও ইতিমধ্যে অন্তত ৯ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন।
হেগসেথ জানান, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো 'ভবিষ্যতের দিকে সৃজনশীল দৃষ্টি রাখা এবং যেসব ক্ষেত্র আমাদের জয় করতে হবে ও যে সক্ষমতাগুলো আয়ত্ত করতে হবে তা চিহ্নিত করা।' উদ্ভাবন, অ্যাকাডেমিক এবং নীতি-নির্ধারণী অঙ্গন থেকে বাছাই করা বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দ ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্পের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। আগামী ১২০ দিনের মধ্যে প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান হেগসেথ।
