নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রেকর্ড: অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় গ্রিডের ৮০ শতাংশ চাহিদা মেটাল সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ
শনিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বিদ্যুৎ গ্রিডের ৮০.৪ শতাংশ চাহিদা পূরণ করেছে রোদ ও বাতাস, যা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
এদিন দুপুরের দিকে প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ বাজারে ব্যবহৃত বিদ্যুতের অর্ধেকেরও বেশি এসেছে বাসাবাড়ির ছাদে বসানো সোলার প্যানেল থেকে। এই গ্রিড মূলত পূর্বাঞ্চলীয় সব রাজ্য, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এর পাশাপাশি সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সামান্য পরিমাণে জলবিদ্যুৎ (১ শতাংশ) ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি কয়লা ও গ্যাস থেকে এসেছে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বাওয়েন বলেন, এই মাইলফলক অর্জনের অর্থ হলো 'আমাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি পরিচ্ছন্ন, সস্তা ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।'
ইউনিভার্সিটি অভ নিউ সাউথ ওয়েলসের জ্বালানি ব্যবস্থাবিষয়ক গবেষক ডিলান ম্যাককনেল এই সময়টিকে নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য 'রেকর্ডের মৌসুম' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পরিষ্কার রৌদ্রোজ্জ্বল দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছিল, সেইসঙ্গে ঘর গরম বা ঠান্ডা করার জন্য বিদ্যুতের চাহিদাও ছিল কম। সাধারণত এই সময়টাতেই বছরজুড়ে চালু হওয়া নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার প্রতিফলন দেখা যায়, যার ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির ভাগ বেড়ে যায়।
'এসব রেকর্ড হয়তো খুব বেশিদিন টিকবে না, সম্ভবত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এগুলো ভেঙে নতুন রেকর্ড তৈরি হবে।'
অস্ট্রেলিয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় এ সময় বেশি নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদিত হয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্যুতের কিছুটা পাম্পড হাইড্রো ও ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
তবে সিস্টেমের নিরাপত্তার নিয়ম, নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা ও বিদ্যুতের দাম কম হওয়ায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের অনেকটাই বাতিল করা হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার এনার্জি মার্কেট অপারেটরের তথ্যমতে, গত জুন মাস পর্যন্ত এক বছরে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গড় হিস্যা ছিল ৪৪ শতাংশ।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩ লাখেরও বেশি পরিবারের ছাদে সোলার প্যানেল রয়েছে।
