সরবরাহ বাড়ার আশায় ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার জেরে বিশ্ববাজারে আরও কমল তেলের দাম
সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ একটি পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ২১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের (অপরিশোধিত তেল) দাম ১ দশমিক ০৯ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৫০ ডলার বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ০১ ডলারে নেমে আসে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে 'ধ্বংস করে দেওয়ার' হুঁশিয়ারি দিলেও একই সঙ্গে জানান, তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, 'আমার মনে হয়, তাদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।'
মূলত, সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশা এবং প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে উদ্যোগের কারণে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। ফলে ৮ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, 'কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারে বেশি আশাবাদ তৈরি হয়েছে।'
মঙ্গলবার সৌদি আরব লোহিত সাগরের দিকে পরিচালিত ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ড্রোন হামলার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছিল। হামলার জন্য ইরাকের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল দেশটি। পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়।
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরব পাইপলাইনটি ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল বা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার সৌদি আরব হরমুজ প্রণালির বাইরে বিভিন্ন স্থান থেকে তেল নেওয়ার জন্য এশিয়ার শোধনাগারগুলোর কাছে বাড়তি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।
ইরাকও তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ইরাক এখন প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে। তুরস্কের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়িয়ে প্রতিদিন ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সা ও কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ইরাক প্রতিদিন গড়ে ২৩ লাখ ও ২১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। জুলাইয়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির তুলনায় তা এখনো কম।
এদিকে তেলের দাম কমার আরেকটি কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়ে যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত ১৮ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে, রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
