১৫ মিনিট বই পড়লেই মিলছে অর্থ: পড়ার অভ্যাস গড়তে নাগরিকদের পুরস্কার দিচ্ছে যে দেশ
অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা কমানো, 'ব্রেন রট' প্রতিরোধ এবং দেশে বই পড়ার সংস্কৃতি আরও জোরদার করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। এর অংশ হিসেবে নাগরিকদের প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়তে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি নতুন জাতীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দেশটি।
চলতি মাসের শুরুর দিকে দেশটির ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ড 'রিড-এসজি' নামের এই বিশেষ প্রচারণা শুরু করে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় নাগরিকেরা তাদের প্রতিদিনের বই পড়ার সময়ের হিসাব রাখতে পারবেন এবং এর বিনিময়ে 'ভার্চ্যুয়াল রিওয়ার্ড' বা পুরস্কার অর্জন করতে পারবেন।
আগ্রহী নাগরিকেরা এই কর্মসূচির নির্ধারিত ওয়েবসাইট কিংবা মোবাইল অ্যাপে লগইন করে প্রতিদিনের পড়ার অগ্রগতি ও সাফল্য নথিভুক্ত করতে পারবেন।
প্রচারণার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, 'প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট সময় দিলেই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। তিনটি এমআরটি স্টপেজের মধ্যবর্তী সময়, বাসের জন্য অপেক্ষা করা কিংবা সকালে এক কাপ কফি খাওয়ার সময়টুকুই এর জন্য যথেষ্ট।'
ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়, 'এমন ছোট ছোট মুহূর্তগুলো মিলেই বড় বড় গল্পের সৃষ্টি হয়। দিনে মাত্র ১৫ মিনিট বই পড়লে আপনি কতটা দূর এগিয়ে যেতে পারেন, তা নিজেই পরখ করে দেখুন!'
দীর্ঘ পরিসরে পড়ার মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতার সাহায্যে পাঠকেরা যাতে বাস্তব দুনিয়ার পথচলায় এগিয়ে থাকতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা ট্যাম।
ট্যাম বলেন, 'সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু বা লেখা আমাদের তথ্যসমৃদ্ধ থাকতে সহায়তা করলেও দীর্ঘ পাঠ মানুষের মনোযোগ, বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং কল্পনাশক্তিকে শক্তিশালী করে তোলে।'
তিনি আরও বলেন, 'দিনশেষে আমরা এমন একটি পাঠক জাতি দেখতে চাই—যারা হবে অনুসন্ধিৎসু, চিন্তাশীল ও দূরদর্শী এবং ক্রমশ জটিল হতে থাকা এই পৃথিবীর গতিপ্রকৃতির সঙ্গে তাল মেলাতে পুরোপুরি সক্ষম।'
এই কর্মসূচিতে আগ্রহীদের আকৃষ্ট করতে পড়ার অভ্যাসের ভিন্ন ভিন্ন ধরন তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে 'কুয়ে লাপিস' ধরনটিকে বর্ণনা করা হয়েছে 'বহুস্তরবিশিষ্ট, উদ্দেশ্যমূলক এবং অন্যরা যা এড়িয়ে যায় তা লক্ষ্য করার মতো অভ্যাস' হিসেবে; 'কুলফি' হলো 'সুস্বাদু, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং যা ক্ষেত্রবিশেষে কিছুটা বিশৃঙ্খলও হতে পারে'; 'অ্যাং কু কুয়ে'-কে বলা হয়েছে 'ভাবুক, কল্পনাপ্রবণ ও ভবঘুরে, তবে বিস্মৃত নয় এমন'; আর 'তাং ইউয়ান'-এর রূপ দেওয়া হয়েছে 'অহংকারহীন, উষ্ণ এবং সম্পূর্ণ নিজের নিয়মে চলা' বৈশিষ্ট্য হিসেবে।
এই কর্মসূচির আওতায় অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়ার প্রতিটি সেশনের জন্য পাঠকেরা ২০টি করে ভার্চ্যুয়াল কয়েন অর্জন করতে পারবেন। এভাবে এক হাজার কয়েন জমা হলে তার আর্থিক মূল্য দাঁড়াবে এক ডলারের সমান।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের গবেষক লোহ চিন ই জানিয়েছেন, পড়াকে আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় করে তোলা এবং এটিকে অভ্যাসে পরিণত করাই সিঙ্গাপুরের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সিএনএনকে তিনি বলেন, 'যারা অনেক পড়েন, তাদের কাছে ১৫ মিনিট খুবই অল্প সময় মনে হতে পারে। তবে আমার মনে হয়, সময়টা বেশ ভালোভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।'
পড়ার অভ্যাস নিয়ে গবেষণা করা এই গবেষক বলেন, 'পর্দায় লেখা পড়ার কথা বললে দেখা যায়, অনেক মানুষ এখনো পড়েন। তবে গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়া, সময় নিয়ে পড়া এবং পড়ার প্রতি নিয়মিতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার বিষয়টি হয়তো আগের তুলনায় কমে গেছে।'
