মেয়র মামদানির গ্রেপ্তারের আহ্বানের মধ্যেই জাতিসংঘে ভাষণ দিতে সংক্ষিপ্ত সফর করবেন নেতানিয়াহু
বার্ষিক জাতিসংঘ সাধারণ সভা উপলক্ষে চলতি মাসে নিউইয়র্কে যাবেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সফরটি হবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার।
গাজা যুদ্ধের কারণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে এবং "আর কোনো উপায় না থাকায়" তিনি খুব অল্প সময়ের জন্য সেখানে গিয়ে ভাষণ দিয়ে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি দানন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে "রাজনীতি করার" অভিযোগ তোলেন, যখন তিনি নেতানিয়াহুকে "যুদ্ধাপরাধী" আখ্যা দিয়ে তার গ্রেফতারের দাবি জানান। তবে পরবর্তীতে মেয়রকে এ অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়, কারণ নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের নেতানিয়াহুকে হেফাজতে নেওয়ার মতো কোনো আইনি এখতিয়ার নেই।
দানন আরও বলেন, 'আপনারা জানেন, ইসরায়েলকে দোষারোপ করে রাজনীতি করাটা এখন খুব ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। আমাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আগমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধের পর থেকে নেতানিয়াহু ক্রমেই বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। মামদানির দপ্তর থেকে মঙ্গলবার মন্তব্যের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে বিশ্বের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তাকে এবং আরেক ইসরায়েলি কর্মকর্তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওই পরোয়ানায় বলা হয়, হামাসের বিরুদ্ধে অভিযানে নেতানিয়াহু মানবিক সহায়তা সীমিত করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে "ক্ষুধাকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে" ব্যবহার করেছেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ অভিযোগ ইসরায়েল অস্বীকার করে আসছে।
আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনি অধিকার নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের না থাকলেও মামদানি ফেডারেল সরকারকে তা কার্যকর করার আহ্বান জানান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল কেউই এ আদালতের সদস্য নয়। ট্রাম্প প্রশাসন আদালতটিকে অকার্যকর করার অভিযানের অংশ হিসেবে আইসিসি কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
দানন জানান, নেতানিয়াহুর আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং সে রাতেই আবার ইসরায়েলে ফিরে যাবেন।
দানন আরও জানান, ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের নেতাদের এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইহুদিদের ধর্মীয় ছুটি চলছে এবং ইসরায়েলে নির্বাচনী প্রচার চলছে, যেখানে নেতানিয়াহু নিজের প্রধানমন্ত্রীর পদ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
দানন বলেন, ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সপ্তাহে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কারণে নিউইয়র্কের রাস্তায় "আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে"।
গত বছর নেতানিয়াহু যখন মঞ্চে ভাষণ দিতে ওঠেন, তখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা বেরিয়ে গিয়েছিলেন। দানন বলেন, 'আমার ধারণা এবারও এরকম আরেকটি নাটকীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।'
তবে রাষ্ট্রদূত বলেন, 'নেতানিয়াহু যথেষ্ট অভিজ্ঞ, এবং আমি নিশ্চিত যে এসব বাধা সত্ত্বেও তিনি বক্তব্য দেবেন।'
