বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের আগে বিহারের স্বার্থকে আমলে নেয়ার আশ্বাস জয়শঙ্করের
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বিহারের খাবার পানি এবং শিল্প-কারখানার পানির চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে 'উপযুক্ত সিদ্ধান্ত' নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক দল জনতা দল (ইউনাইটেড)—জেডি(ইউ)-কে তিনি এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে জেডি(ইউ)-এর জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি এবং রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝাকে লেখা এক চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এই আশ্বাসের কথা জানান।
গত ২৮ আগস্ট সঞ্জয় কুমার ঝাকে পাঠানো ওই চিঠিতে জয়শঙ্কর বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে বিহারের উদ্বেগ ও আশঙ্কার বিষয়টি 'সম্পূর্ণ' বোঝে এবং প্রাসঙ্গিক সব বিষয় মাথায় রেখেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির বাস্তবায়ন এবং এর ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অংশীজনদের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভারতের রাজ্যসভায় এক বিশেষ নোটিশের মাধ্যমে জেডি(ইউ)-র সংসদ সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের স্বার্থ রক্ষার জোর দাবি জানিয়েছিলেন। তার সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এই চিঠিটি লিখেছেন।
ফারাক্কা ব্যারেজে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনার জন্য ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মেয়াদ চলতি বছর শেষ হতে যাচ্ছে।
চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর লিখেছেন, 'গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে আপনার উদ্বেগের বিষয়টি আমরা সম্পূর্ণ বুঝতে পেরেছি। সরকার এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে একটি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।'
তিনি ঝাকে জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির বাস্তবায়ন এবং এর ভবিষ্যৎ গুরুত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন অংশীজন অংশ নিয়েছেন।
জয়শঙ্করের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে—২০২৩ সালের ২২ আগস্ট, ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর, ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ এবং ২০২৪ সালের ৩১ মে অনুষ্ঠিত হওয়া উচ্চপর্যায়ের কনসালটেশন বা বৈঠকগুলোতে বিহার সরকারের একজন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। ওই বৈঠকগুলোতে বিহারের খাবার পানি ও শিল্প-কারখানার পানির চাহিদাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চিঠির জবাবে বিহারের সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝা বলেন, 'আমি ড. জয়শঙ্করের সময়োচিত এবং ইতিবাচক সাড়ার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে ভারত সরকার যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তাতে বিহারের স্বার্থ সম্পূর্ণ এবং ন্যায্যভাবে রক্ষা করা হবে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'বিহার কোনো বাড়তি সুবিধা চাইছে না। আমাদের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে যে প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে, আমরা কেবল সেটুকুই দাবি করছি—যাতে আগামী ৩০ বছরের জন্য আমাদের ১৩ কোটি মানুষকে খাবার পানি, সেচ এবং শিল্প-কারখানার পানির তীব্র সংকটে পড়তে না হয়।'
সঞ্জর কুমার ঝা স্পষ্ট করেন যে, গঙ্গা এবং তার উপনদীগুলোর পানিতে বিহারের একটি স্থায়ী এবং বৈজ্ঞানিক হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য জেডি(ইউ) তাদের দাবি অব্যাহত রাখবে।
