থাইল্যান্ডে সরকারি কর্মকর্তাকে খুনের পর ইউটিউব লাইভে এসে সাবেক এমপির স্বীকারোক্তি
থাইল্যান্ডের নোনথাবুরি প্রদেশে এক সরকারি কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার পর ইউটিউবের একটি লাইভ অনুষ্ঠানে ফোন করে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন দেশটির একজন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি)।
নোনথাবুরির সাবেক এমপি চালোং রেওরেং গত সোমবার রাজনৈতিক ভাষ্যকার আঞ্চালি পাইরীরাকের একটি ইউটিউব লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালীন সরাসরি ফোন করেন। সে সময় তিনি জানান, তিনি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা থংচাই ইয়েনপ্রাসার্টকে তার অফিসের সামনে গুলি করেছেন।
লাইভ চলাকালীন আঞ্চালি ফোনটি ধরলে চালোং তাকে বিস্তারিত জানান। ভিডিওতে দেখা যায়, ফোন পাওয়ার পর উপস্থাপিকা আঞ্চালি বেশ স্তম্ভিত হয়ে যান। তিনি ফোনে চালোংকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'সে কি মারা গেছে? আপনি কি তার মাথায় গুলি করেছেন? আপনি সেখানে পুলিশের জন্য অপেক্ষা করুন। কোথাও যাবেন না।'
নিহত থংচাই ইয়েনপ্রাসার্ট নোনথাবুরি প্রাদেশিক প্রশাসনিক সংস্থার (পিএও) প্রেসিডেন্ট এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্নেল ছিলেন। গুলিতে তার ঘাড় মারাত্মকভাবে জখম হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থংচাইয়ের গাড়িচালকও হাতে ও বাহুতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ঘটনার পরপরই চালোংকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ স্টেশনে বসেই সিগারেট হাতে সংবাদ সম্মেলন করার অনুমতি পান তিনি। সেখানে নিজের কৃতকর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে চালোং দাবি করেন, থংচাই তার 'ভালো বন্ধু' ছিলেন এবং তাকে হত্যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তার ছিল না।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। চালোং সাংবাদিকদের বলেন, তিনি থংচাইয়ের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু থংচাই তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। তিনি বলেন, 'আমি যখন বন্দুক বের করি, তখন তাকে গুলি করার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু তার গাড়িচালক আমার দিকে বন্দুক তাক করলে আমি পাল্টা গুলি চালাই।'
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন দিন আগে থাইল্যান্ডে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে ৮ জন নিহত হওয়ার এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৈধ অস্ত্রের হারের দিক থেকে থাইল্যান্ড শীর্ষে রয়েছে। পরপর এসব গোলাগুলির ঘটনায় দেশটিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবারের স্কুল শ্যুটিংয়ের পর থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশকে তল্লাশি বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে সাবেক এমপির হাতে এই খুনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।
