লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখায় হুথিদের দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, নিহত আরও ৭
ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী মোখা (আল-মাখা) বন্দর নগরীতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে হামলা জোরদার করে গত ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে অন্তত আরও সাতজনকে হত্যা করেছে তারা। এর আগে প্রথম দফার হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছিলেন।
গত রবিবার সন্ধ্যায় মোখা শহর এবং এর বাণিজ্যিক বন্দরে প্রথম দফার হামলার পর গভীর রাতে এই দ্বিতীয় দফার হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী গত সোমবার জানিয়েছে, সর্বশেষ এই হামলায় চারজন সামরিক কর্মকর্তা এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক সাধারণ মানুষ।
সশস্ত্র বাহিনী আরও জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাকারী ১১টি ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সাগরে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
হুথি-নিয়ন্ত্রিত 'আল মাসিরাহ' টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে বেশ কয়েকটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ করতে দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেছেন যে, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল এলাকার সৌদি সৈন্য সমাবেশ এবং অস্ত্রের ডিপোগুলো।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলাকারীরা সামরিক অবস্থানের পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো, সাধারণ মানুষের বাড়িঘর, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং শহরের ভেতরে অন্যান্য স্থানেও আঘাত হেনেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি-র বরাত দিয়ে জানা গেছে, এর আগে গত রবিবার মোখা শহরে প্রথম দফার হামলায় আটজন সামরিক কর্মকর্তা এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ১১ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছিলেন।
প্রথম দফার হামলায় মোখা বন্দরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে 'অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস' বন্দর অবকাঠামো, বাণিজ্যিক পণ্য এবং খাদ্য সরবরাহ ধ্বংস হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে।
সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা বাণিজ্যিক বন্দরের দিকে ধেয়ে আসা একটি বিস্ফোরক বোঝাই চালকবিহীন বোটকেও (বোম্ব বোট) রুখে দিয়েছে এবং ধ্বংস করেছে। রবিবার রাতে নতুন করে হামলা শুরু হলে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সহযোগী দল 'ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস' মোখা শহরের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার অনুরোধ জানায় এবং হুথিদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে গোলাবর্ষণের অভিযোগ তোলে।
হুথিরা জানিয়েছে, এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এবং ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও তাইজ প্রদেশে সৌদি সামরিক বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি ও তাদের মিত্রদের অস্ত্র সরবরাহ করার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
হুথিদের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিজাম আল-আসাদ আলাদাভাবে দাবি করেছেন যে, বন্দরে লাগাতার বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী মূলত সেখানে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের কারণেই ঘটেছে।
সংঘাতের এই তীব্রতা কেবল মোখা শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা উপকূলীয় শহর হোদেইদাহ-এর দক্ষিণে আল-খোহা জেলাতেও আঘাত হেনেছে।
প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য তারেক সালেহ-এর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের সহযোগী টেলিভিশন 'আল-জুমহুরিয়া' জানিয়েছে, গত রবিবার আল-খোহা জেলায় হোদেইদাহর সরকারি গভর্নর আল-হাসান তাহের-এর বাসভবনে হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে এই হামলায় গভর্নর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
