হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘দ্রুতই চুক্তি’র আশা যুক্তরাষ্ট্রের, চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ইরান
হরমুজ প্রণালি পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা খুব শীঘ্রই একটি চুক্তির প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে, চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে তেহরান এখন তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, 'আমরা শীঘ্রই একটি চুক্তির আশা করছি। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দূর করার লক্ষ্যে একবার চুক্তি ঘোষনা করা হলে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেবে।'
তবে মার্কিন ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো হবে 'পারফরম্যান্স-ভিত্তিক' এবং ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করছে তার ওপর নির্ভরশীল।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানি জ্বালানি স্থাপনায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করে নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই তিনি একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আসছেন।
সংবাদ মাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত এই অস্থায়ী চুক্তির বিষয়ে ইরান তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা করছে। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়, খুব শীঘ্রই এই অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে 'এমএস নাউ' (সাবেক এমএসএনবিসি) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অবরুদ্ধ থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি ফ্রেমওয়ার্ক বা রূপরেখা চুক্তি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো টোল বা ফি নেওয়া হবে না। তবে মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কেবল তখনই এই চুক্তিতে সমর্থন দেবে যদি এতে কোনো ধরনের ফি এবং 'বাধা' (যেমন কোনো পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা) না থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরান সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের পথটি ইরান এবং বহির্গমনের পথটি ওমান নিয়ন্ত্রণ করবে। তেল পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন-ও যুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ-এর সদস্য দেশগুলোও এই চুক্তিকে সমর্থন দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরেই এই আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে নানা খবর আসছিল। প্রাথমিকভাবে এটি ৬০ দিনের একটি অস্থায়ী চুক্তি হবে। এই সময়ের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এর আগে গত জুনেও একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ভেস্তে যায়।
