ইরানে সরকার পরিবর্তনে ব্যর্থতা: দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিলেন মোসাদ প্রধান
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের একটি পরিকল্পনা কাঙ্ক্ষিতভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার দায়ে সংস্থার দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পরিচালক রোমান গফম্যান। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন-১২ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপসারিত কর্মকর্তাদের একজন হলেন মোসাদের ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেটের প্রধান, যিনি গত ডিসেম্বরে এই পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। অন্যজন সংস্থাটির ইরান বিভাগের প্রধান। তবে প্রতিবেদনে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এন-১২-কে জানিয়েছেন, মোসাদ প্রধান গফম্যানের সঙ্গে শুরু থেকেই ওই দুই কর্মকর্তার কাজের সমন্বয় বা পেশাদার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। ফলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই তাদের মেয়াদের ইতি টানা হয়েছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থাটির একটি বড় পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের মোসাদের অন্য কোনো পদে রাখা হতে পারে।
তবে এন-১২ এই রদবদলকে সরাসরি ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সেই ব্যর্থ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুই কর্মকর্তাই মূলত ওই পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করেছিলেন। ইসরায়েলের নিরাপত্তায় তাদের অসামান্য অবদান থাকলেও গফম্যান মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরিকল্পনাটি উপস্থাপনের পরও তা মাঠপর্যায়ে কার্যকর না হওয়ায় এর পরিকল্পনাকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।
এন-১২-এর তথ্য অনুযায়ী, মোসাদ ও সিআইএ-র সেই গোপন পরিকল্পনায় ইসরায়েল ও আমেরিকার ব্যাপক বিমান সহায়তায় কুর্দি স্থল বাহিনীকে ইরানে প্রবেশের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, ইরানের সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো বর্তমান ইসলামিক রিপাবলিকের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সহায়তা করবে, যার ফলে বিকল্প ইরানি নেতাদের ক্ষমতায় বসার পথ সুগম হবে।
গত মে মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিল—ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দেশটির পরবর্তী নেতা হিসেবে বসানো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর এই পরিকল্পনাটি প্রাথমিকভাবে ইসরায়েল তৈরি করেছিল এবং তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনাও করা হয়েছিল।
মার্কিন কর্মকর্তা এবং আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই পুরো অভিযানটি ভেস্তে যেতে শুরু করে। গৃহবন্দি অবস্থা থেকে তাকে মুক্ত করার চেষ্টার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানে তার বাসভবনে হামলা চালায়। ইসরায়েলের উদ্দেশ্য ছিল আহমাদিনেজাদকে আটকে রাখা রক্ষীদের হত্যা করা। কিন্তু সেই হামলায় আহমাদিনেজাদ প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হন। এন-১২ জানিয়েছে, এই ঘটনার পর থেকেই বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার সেই পরিকল্পনার সফলতা নিয়ে আহমাদিনেজাদ নিজে সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেন। মূলত এই জটিলতার কারণেই পরিকল্পনাটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
