হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ও ‘সার্ভিস ফি’ থেকে প্রাপ্ত আয় ভাগাভাগি নিয়ে চুক্তির কাছাকাছি ইরান-ওমান
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ইরান ও ওমান। চুক্তিটি কার্যকর হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর অভূতপূর্ব নিয়ন্ত্রণ পাবে ইরানের। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করা জাহাজকে ইরানের উপকূলের কাছাকাছি চ্যানেল দিয়ে যেতে হবে। এই রুটের নিয়ন্ত্রণ থাকবে তেহরানের হাতে। এখান দিয়ে চলাচল করতে হলে জাহাজগুলোকে গুনতে হবে 'সার্ভিস ফি'।
অন্যদিকে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজগুলো ব্যবহার করবে ওমান উপকূলের কাছের রুট।
ইরানি কর্মকর্তারা জানান, চুক্তিতে কোনো টোল নেওয়ার কথা নেই। তবে জাহাজ চলাচলের পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলা, কার্গো জাহাজ ও ট্যাংকারের নিরাপত্তা প্রদান এবং কর্মী নিয়োগের ব্যয় মেটাতে সার্ভিস ফি নেওয়া হবে।
দুই ইরানি কর্মকর্তা জানান, এই ফি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব ইরান ও ওমানের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে নেওয়া হবে।
তবে চুক্তির বিষয়ে ইরানের এই ব্যাখ্যাকে 'ভুল' বলে দাবি করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নতুন চালু হতে যাওয়া এই 'অস্থায়ী' রুট ব্যবহারের জন্য ইরানের অনুমোদন গ্রহণ বা টোল দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, চুক্তি যা-ই হোক না কেন, পারস্য উপসাগরে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ না তোলা পর্যন্ত এই প্রণালি বন্ধই থাকবে। সেইসঙ্গে দুই দেশকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) উল্লেখিত ১৪ দফা পরিকল্পনায় ফিরে যেতে হবে।
কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেলে বাজারের চাপ আরও কমে যেতে পারে। এর ফলে ইরান বৈধভাবে তেল বিক্রি ও সরবরাহ করতে পারবে।
তবে ইরান যদি শেষপর্যন্ত এই হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখে, তাহলে নৌপথটি ফের চালু হলেও সেক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হতে পারে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দিতেই তারা এই চুক্তিটি এমনভাবে সাজাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তারা এমন একটি কৌশলগত সুবিধা ধরে রাখতে চান, যা যুদ্ধের আগে কাজে লাগাননি।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত কয়েক দশক ধরে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবেই পরিচালিত হয়ে আসছিল।
এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ইরান ও ওমান ৬০ দিন সময় পাবে। তবে আশা করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের আলোচনা শুরু করবে। এর মধ্যে প্রায় আধা টন জ্বালানি বোমা তৈরির মানের কাছাকাছি।
তবে পেন্টাগনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা বলছেন, ওমান ও ইরানের এই সমঝোতা নিয়ে উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তা সন্দিহান। তাদের আশঙ্কা, এটি ইরানিদের কাছে আত্মসমর্পণের সমতুল্য। তারা বলেন, ওমানের জলসীমা হয়ে উপসাগর থেকে প্রণালিতে যাওয়ার রুটে এখনও এত বেশি মাইন রয়েছে যে নিরাপদে চলাচল করতে হলে জাহাজগুলোকে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করতেই হবে।
