যন্তর-মন্তরে ‘বিপথগামী বাচ্চারা’ আমাকে গালি দিয়েছে, তবু ওদের ক্ষমা করে দিচ্ছি: মোদি
দিল্লির যন্তর মন্তরে মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষার প্রশ্নফাঁসবিরোধী বিক্ষোভের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গালাগালি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সরকারি দল। এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে মোদি দাবি করেন, তার পাশাপাশি তার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে। তারপরও ওই 'দুষ্টু বাচ্চাদের' ক্ষমা করে দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
মোদির মতে, ছোটবেলায় ভুল হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। আর দিকভ্রান্ত বাচ্চাদের শাস্তি না দিয়ে বুকে জড়িয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোদি বলেন, 'যন্তর মন্তরে যা কিছু হয়েছে, তা দেশ ও দুনিয়া দেখেছে। কিছু দুষ্টু বাচ্চা নোংরা নোংরা গালিগালাজ করেছে। কোনো সভ্য সমাজে শোভা পায় না, এমন শব্দ প্রয়োগ করেছে। আমাকে তো গালাগালি দেওয়া হয়েছে, আমার স্বর্গীয় মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে। বিষয়টি যে কতটা কদাকার ছিল, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। তবে আজ আমি এটুকু বলতে চাই যে, যৌবনে ভুল-ত্রুটি হয়েই থাকে এবং সেই ভুল থেকে নিজেকে শুধরে নেওয়ার সুযোগও থাকে। আর এই বিষয়টিই হলো এক ধরনের ছেলেমানুষি।'
মোদি আরও বলেন, তাকে যেভাবে গালিগালাজ করা হয়েছে বা তার প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে সমাজে ক্ষোভ তৈরি হলেও তরুণ প্রজন্মকে আইনি লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিবর্তে সঠিক পথ দেখানোই মনোযোগ দেওয়া উচিত। তার ভাষ্যমতে, 'এরা বিপথগামী বাচ্চা, আর তাদের সঠিক পথ দেখানো আমাদেরই দায়িত্ব; তাদের শাস্তি দিয়ে, আদালতের চক্কর কাটাতে বাধ্য করে কিংবা সমাজে হেনস্তা করে আমরা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারব না।'
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিতে চান। সমাজকেও একই কাজ করার আহ্বান জানা। একটি উপমা দিয়ে তিনি বলেন, ভুলবশত জিভে কামড় লাগলে মানুষ যেমন নিজের দাঁত ভেঙে ফেলে না, তেমনই কোনো ভুলের কারণে সমাজেরও উচিত নয় নিজেদের ছেলেমেয়েদের পরিত্যাগ করা।
