‘দেশের ভবিষ্যতের চেয়েও গায়ের চামড়া বেশি উজ্জ্বল’: মোদির ভিডিও নিয়ে ককরোচ পার্টির অভিজিতের ব্যঙ্গ
সংসদে পাবলিক পরীক্ষা সংশোধন বিল, ২০২৬ পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশের পর তাকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
গত বৃহস্পতিবার পোস্ট করা সেলফি-স্টাইলের ওই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই আইনটিকে একটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা পদ্ধতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে 'প্রশ্ন ফাঁস মাফিয়া'দের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর আইনের মাধ্যমে সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার অব্যাহত রাখবে।
এই ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় ইনস্টাগ্রামে দিপকে মন্তব্য করেছেন, 'দেশের ভবিষ্যতের চেয়ে আপনার গায়ের চামড়া বেশি উজ্জ্বল।'
ক্রমাগত প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মাঝেই এই মন্তব্য করলেন সিজেপি প্রধান। পরীক্ষা ব্যবস্থার পদ্ধতিগত সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং বারবার ঘটে চলা অনিয়মের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে সিজেপি।
চলতি সপ্তাহে সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া প্রশ্ন ফাঁস বিরোধী বিলটি মূলত ২০২৪ সালের আইনটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর আওতায় পরীক্ষার জালিয়াতির জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে এবং রাজ্যগুলোকে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরে নতুন করে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে এই আইনটি আনা হয়। এই আন্দোলনের জেরেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং পরে প্রহ্লাদ জোশী এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন।
তবে সংসদে বিলটি পাস হওয়ার আগেই সিজেপি এর সমালোচনা করে বলেছিল যে, এই সংশোধনীর মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করার চেয়ে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় বিতর্কের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা বলেছিলেন, প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ করে দেওয়া পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলো দূর করতে এই বিলটিতে কার্যকর কিছুই বলা হয়নি।
রঙ্কা বলেন, 'আপনারা প্রশ্ন ফাঁসের পরের সব বিষয় নিয়ে কথা বলছেন; তা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত হোক, কঠোর শাস্তি হোক কিংবা জরিমানা হোক। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করার জন্য আপনারা কী করছেন, সে বিষয়ে কিছুই বলছেন না।'
তিনি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) পুনর্গঠন এবং পরীক্ষার সময়সূচীতে স্বচ্ছতা আনাসহ কাঠামোগত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের প্রতি আহ্বান জানান।
গত বুধবার সাংবাদিকদের দিপকে বলেন, 'আমার মনে হয় বিল আসতেই থাকবে, কিন্তু যতক্ষণ না এই মানুষগুলোর সদিচ্ছা ঠিক হচ্ছে, ততক্ষণ কিছুই হবে না। এই দেশে সংস্কারের মাধ্যমে অনেক ভালো আইন তৈরি হয়েছে। এখানে একের পর এক আইন পাস হতেই থাকে।'
সরকার প্রস্তাবিত ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিপকে বলেন, 'তিন দিন আগে নরেন্দ্র মোদি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং মানুষ খুব খুশি হয়েছিল যে প্রশ্ন ফাঁসের মামলার জন্য একটি দ্রুত বিচার আদালত হবে। কিন্তু কী হলো? সিবিআই-এর আইনজীবী উপস্থিত না হওয়ায় প্রথম শুনানিটিই স্থগিত হয়ে গেল। তাই আপনারা যত খুশি আইন তৈরি করতে পারেন, কিন্তু যারা সেগুলো বাস্তবায়ন করবে তারা ভালো না হলে এই আইনগুলোর কী মূল্য রয়েছে?'
প্রশ্ন ফাঁস ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত মোট চারটি সেলফি-স্টাইলের ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের বার্তাটি ছিল সর্বশেষ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদির এই ধরনের বার্তা দেওয়ার বিষয়ে সিজেপি-র ধারাবাহিক আক্রমণেরই অংশ দিপকের এই সর্বশেষ বিদ্রুপ। এর আগের দিন তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, মোদির উচিত প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে একজন সোশ্যাল মিডিয়া 'ইনফ্লুয়েন্সার' হয়ে যাওয়া।
গত বুধবার মহারাষ্ট্রে নিজের আদি শহরে সাংবাদিকদের দিপকে বলেন, 'আমার মনে হয় তার (প্রধানমন্ত্রী মোদি) একজন ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া উচিত। তিনি এতে খুব ভালো করছেন। তিনি যদি এতই ভালো ইনফ্লুয়েন্সার হন, তবে তার উচিত প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে দিয়ে ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া এবং অন্য কাউকে এই কাজটি করতে দেওয়া।'
একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেস এমপি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। তিনি বলেছিলেন, 'নতুন নতুন কোণ (অ্যাঙ্গেল) থেকে ভিডিও বানিয়ে আপনি জেন জি-এর সমর্থন পাবেন না। প্রধানমন্ত্রীকে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল নয়, তার হৃদয়ের অ্যাঙ্গেল পরিবর্তন করতে হবে।'
