শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলকেই উইকেন্ডের আড্ডার জায়গা বানালেন জেন-জিরা
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শনিবার বিকেলে পদত্যাগ করার পরও দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের প্রধান সড়কগুলোতে রাত পর্যন্ত উদ্যাপন চলতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের এলাকা ছাড়তে বলা হলেও শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জনসমাগমে কোনো ভাটা পড়েনি। তখনও অনেকে ছবি তুলছিলেন, রিল বানাচ্ছিলেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন।
সেখানে মানুষ আনন্দে নাচছিলেন, জাতীয় সঙ্গীত গাইছিলেন, কেউ কেউ আবেগে কাঁদছিলেন এবং লাফিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সেখানে 'তরুণরা জেগেছে, প্রধান ভেগেছে' লেখা নতুন নতুন পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড শোভা পাচ্ছিল।
কনট প্লেস, সংসদ মার্গ এবং টলস্টয় মার্গ এলাকাগুলো যেন একেকটি উৎসবের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তখনও প্রায় ৪ হাজার মানুষের সমাগম ছিল।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্ব সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে চলে যেতে আহ্বান জানিয়ে মঞ্চ ছাড়লেও মানুষ আসতে থাকে।
দলের স্বেচ্ছাসেবক ২৯ বছর বয়সী নিশি বলেন, 'শেষ ব্যক্তি চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা থাকব। এখনও এখানে প্রচুর মানুষ রয়েছে, আমাদের প্রয়োজন হতে পারে।'
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকলেও মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ প্রবেশ ও প্রস্থানের কিছু ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়। সংসদ মার্গে লাউডস্পিকারে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা এবং সৌরভ দাস মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে চলে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন।
রাত ৮টার দিকে পুলিশও হ্যান্ডমাইকে লোকজনকে এলাকা খালি করার ঘোষণা দিতে শুরু করে। তবে রাত ১০টা পর্যন্ত সংসদ মার্গ, টলস্টয় লেন এবং প্রধান সমাবেশস্থল মানুষে ঠাসা ছিল।
এরই মধ্যে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিজেপি মুখপাত্র রঙ্কা ও দাস পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের সাথে দেখা করেন এবং তার কিছুক্ষণ পরেই এলাকা ছেড়ে যান। সিজেপি-র কেন্দ্রীয় দলের এক সদস্য বলেন, 'আমরা মানুষকে চলে যেতে বলেছি, কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনছে না।'
অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবকেরা বিক্ষোভস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু করেন এবং মানুষকে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টলস্টয় রোডে দেখা যায়; সেখানে একদল স্বেচ্ছাসেবক বৃত্তাকার মানববন্ধন তৈরি করে তাঁদের ভেতরে থাকা চার-পাঁচজন স্বেচ্ছাসেবককে নিরাপদে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া এবং আবর্জনা ব্যাগে সংগ্রহ করতে সহায়তা করছিলেন।
