গত বছর আমেরিকায় প্রতিদিন গড়ে তৈরি হয়েছে ১,২০০ নতুন মিলিয়নিয়ার
দেশটিতে সম্পদের বৈষম্য আরও বাড়তে থাকায় গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নতুন মিলিয়নিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইউবিএস সম্প্রতি তাদের 'বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদন' প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে নতুন সৃষ্টি হওয়া মিলিয়নিয়ারদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের। এ সময় দেশটিতে ৪ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ মিলিয়নিয়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির মোট সম্পদের ৩১ দশমিক ৬ শতাংশের মালিক ছিল শীর্ষ এক শতাংশ পরিবার। বিপরীতে, নিচের ৫০ শতাংশ পরিবারের হাতে ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ সম্পদ।
আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মুডিস অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি জানুয়ারিতে সিবিএস নিউজকে বলেন, 'পরিবারগুলোর সম্পদ অত্যন্ত অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত, এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কেন্দ্রীভবন আরও বাড়ছে।'
ইউবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিগত সম্পদ ১০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র ও মূল ভূখণ্ড চীনে কেন্দ্রীভূত।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ইলন মাস্ক, যিনি ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, গত মাসে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হন। তার রকেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজার নাসডাকে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে স্পেসএক্স এবং তার বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায় দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তার মোট সম্পদের মূল্য আবার এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।
গত মাসে প্রকাশিত তার আর্থিক তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গত বছর অন্তত ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এসেছে ক্রিপ্টো মুদ্রা থেকে।
অন্যদিকে, সাধারণ মার্কিন নাগরিকেরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, যেমন খাদ্যসামগ্রী ও জ্বালানি কেনার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ।
সরকার পণ্য ও সেবার মূল্য পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে যে ভোক্তা মূল্যসূচক ব্যবহার করে, তার তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে খাদ্যের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং জ্বালানি ব্যয় ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
জানুয়ারিতে প্রকাশিত ইকোনমিস্ট ও ইউগভের এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন সম্পদ বৈষম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।
জরিপে অংশ নেওয়া ৫২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেন, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান একটি অত্যন্ত বড় সমস্যা। আরও ২৮ শতাংশের মতে, এটি মোটামুটি বড় একটি সমস্যা।
আরও ১৪ শতাংশ মনে করেন, সম্পদ বৈষম্য একটি ছোটখাটো সমস্যা। মাত্র ৬ শতাংশ বলেন, এটি কোনো সমস্যাই না।
