Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Saturday
August 22, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
SATURDAY, AUGUST 22, 2026
‘বিদায় হও, নয়তো কফিনে ফিরবে’: প্রাণভয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ছেন অভিবাসীরা, নেপথ্যে কী?

আন্তর্জাতিক

সিএনএন
29 June, 2026, 03:10 pm
Last modified: 29 June, 2026, 03:12 pm

Related News

  • আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র
  • দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে নারায়ণগঞ্জের ৬ জন নিহত
  • অভিবাসীদের আইনি মর্যাদা বাতিল: কর্মী সংকটের আশঙ্কায় মার্কিন নিয়োগকর্তারা
  • দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও
  • বিশ্বকাপ খেলে ফেরার পরই দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলার জেডেন অ্যাডামসের মৃত্যু

‘বিদায় হও, নয়তো কফিনে ফিরবে’: প্রাণভয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ছেন অভিবাসীরা, নেপথ্যে কী?

বর্তমান অস্থিরতা মূলত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন প্রচারণার ফলাফল। এর নেতৃত্বে রয়েছে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ আন্দোলন এবং ‘অপারেশন দুদুলা’-র মতো গোষ্ঠীগুলো।
সিএনএন
29 June, 2026, 03:10 pm
Last modified: 29 June, 2026, 03:12 pm
২৭ জুন কেপটাউনের উপশহর পার্কল্যান্ডসে নথিবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক মিছিলে প্রায় ৮০ জন বিক্ষোভকারী (যাদের কেউ ব্যানার ও দক্ষিণ আফ্রিকার পতাকা বহন করছিলেন) দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ সদস্যদের ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করেন। ছবি: এএফপি

দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে গত কয়েক মাস ধরে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব তীব্র হচ্ছিল। এবার তা সরাসরি কাউঙ্গা নিয়ারেন্ডার দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। জোহানেসবার্গের উপকণ্ঠে বসবাসরত এই মালাউইয়ান মালিকে দুইজন ব্যক্তি এক ভয়াবহ আল্টিমেটাম দিয়েছেন: 'হয় এখনই দেশ ছাড়ো, নয়তো মৃত্যুর মুখোমুখি হও।'

নিয়ারেন্ডা সেই আল্টিমেটাম সম্পর্কে বলেন, 'ওরা আমাকে জিজ্ঞেস করল—তুমি কবে দেশ ছাড়ছ? আমরা আমাদের দেশ ঠিক করতে চাই। তুমি যদি এখনই বিদায় না নাও, তবে তোমাকে কফিনে ফিরতে হবে। কারণ ৩০ জুনের পর আমাদের আর কাউকে প্রয়োজন নেই।'

নিয়ারেন্ডার এই অভিজ্ঞতা মূলত দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়তে থাকা অভিবাসীবিরোধী মনোভাবেরই প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন প্রতিবাদী গোষ্ঠী এবং স্বঘোষিত 'ভিজিল্যান্টে' দলগুলো বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। তারা এসব বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ বললেও, বাস্তবে তা বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরণের বিদেশি নাগরিকদের ওপর সহিংস হামলার জন্ম দিচ্ছে। 

২৪ জুন কেপটাউনে জিম্বাবুয়ের কনস্যুলেটের বাইরে অবস্থান নেন জিম্বাবুয়ের অভিবাসীরা। ৩০ জুনের মধ্যে নথিবিহীন অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার দাবি জানানোয় সম্ভাব্য অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার আশঙ্কায় তারা সেখানে জড়ো হন। ছবি: রয়টার্স

দক্ষিণ আফ্রিকানদের চাকরি কেড়ে নেওয়া, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং জনসেবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির জন্য এই বিদেশিদেরই দায়ী করছেন বিক্ষোভকারীরা।

৩০ জুনের সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে একটি বড় ধরণের সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার বিদেশিদের দেশ ত্যাগের এই তথাকথিত 'ডেডলাইন' প্রত্যাখ্যান করেছে। 'মার্চ অ্যান্ড মার্চ' নামক একটি গোষ্ঠী তাদের দাবি পূরণ না হলে মঙ্গলবার গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো—বর্তমানে দেশে থাকা সকল অবৈধ বিদেশিকে অবিলম্বে এবং বড় আকারে বিতাড়ন করতে হবে।

বিক্ষোভের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সতর্ক করে বলেছেন, পদযাত্রা বা অন্য কোনো উপায়ে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা সরকার বরদাস্ত করবে না। তিনি বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের মনোভাব বা সরকারি নীতির প্রতিফলন নয়।

২৭ জুন কেপটাউনে জিম্বাবুয়ের কনস্যুলেটের বাইরে নিজেদের মালপত্র নিয়ে জড়ো হন শত শত জিম্বাবুয়ের অভিবাসী। তারা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছিলেন। ছবি: এএফপি

তিনি এই সহিংসতার জন্য 'সুবিধাবাদী' এক গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন, যারা 'কমিউনিটি অ্যাক্টিভিজম'-এর আড়ালে দরিদ্র মানুষের অভিযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। রামাফোসা জানান, যেকোনো বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় অভিবাসীরা 

উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে দক্ষিণ আফ্রিকায় বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক হত্যার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মে মাসের শেষ দিকে ওয়েস্ট কান্ট্রির মোসেল বে-তে সহিংসতার সময় দুই মোজাম্বিকান নাগরিক নিহত হন। সেখানে একটি বস্তির ৫০টিরও বেশি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মোজাম্বিক পরে জানিয়েছে, 'বিদেশিবিদ্বেষী হামলায়' তাদের মোট পাঁচজন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এছাড়া ডারবানের কাছে পিটারমারিৎজবার্গ শহরের একটি বস্তিতে গণপিটুনিতে এক মালাউইয়ান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এসএবিসি-র মতে, হামলার ভয়ে শত শত অভিবাসী গির্জা ও মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন।

৪ জুন মোসেল বেয়ের কোয়াননকাবা এলাকায় অভিবাসীদের যেসব বাড়িঘর অভিবাসীবিরোধী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার একটি দৃশ্য। ছবি: এএফপি

মাস শেষ হওয়ার সাথে সাথে অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার হিড়িক শুরু হয়েছে। দরিদ্র এলাকা এবং বস্তিগুলোতে মব বা গণ-হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সময়সীমা পার হওয়ার পর অভিবাসী বিরোধী গোষ্ঠীগুলো ঠিক কী করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক যুবক রামদা হাতে নিয়ে সময়সীমা গণনা করছেন—যা নিয়ারেন্ডার মতো অভিবাসীদের চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

৩০ জুনের 'ডেডলাইন': নেপথ্যে কী?

বর্তমান অস্থিরতা মূলত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন প্রচারণার ফলাফল। এর নেতৃত্বে রয়েছে 'মার্চ অ্যান্ড মার্চ' আন্দোলন এবং 'অপারেশন দুদুলা'-র মতো গোষ্ঠীগুলো। জুলু ভাষায় 'দুদুলা' শব্দের অর্থ হলো 'পিছনে ঠেলে দেওয়া' বা 'বিতাড়িত করা'।

অপারেশন দুদুলা গোষ্ঠীটি বিদেশিদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, রাস্তায় সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্র যাচাই করছে এবং বিদেশি নাগরিকদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এই প্রচারণার অন্যতম প্রধান মুখ এনকোসিখোনা এনদাবানদাবা, যিনি 'ফাকেলুমথাকাথি' নামে পরিচিত। ফেসবুকে তার ১৭ লাখেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। তিনি জুলু যোদ্ধাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত পুরুষদের নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সিএনএন-কে তিনি জানিয়েছেন, ৩০ জুনের এই ডেডলাইন নির্ধারণের মূল পরিকল্পনাকারী তিনি নিজেই।

৮ জুন জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় স্প্রিংসে নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন এনকোসিখোনা 'ফাকেলুমথাকাথি' এনদাবানদাবা। ছবি: এএফপি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি কঙ্গোর একজন নাগরিককে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন—অথচ ওই ব্যক্তি সেখানে বৈধভাবে আছেন কি না, তা তিনি জানতেও চাননি। তিনি বলেন, '৩০ জুন শেষ সময়, তবে তার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই—এখনই চলে যান।'

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবারের পর 'দক্ষিণ আফ্রিকার সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।'

পরবর্তীতে এনদাবানদাবা সিএনএন-কে বলেন, তার এই প্রচারণা সকল দেশের অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এবং তিনি তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে আনা সহিংসতার অভিযোগ অস্বীকার করে এর জন্য অন্য গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে মালাউই, জিম্বাবুয়ে, ঘানা এবং নাইজেরিয়ার নাগরিকসহ ১৩,০০০-এরও বেশি বিদেশি নাগরিককে হয় স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে অথবা বিতাড়িত করা হয়েছে।

১৯ জুন পিটারম্যারিটজবার্গে 'মার্চ অ্যান্ড মার্চ' নামে একটি তৃণমূল নাগরিক সংগঠনের আয়োজিত অবৈধ অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: পিয়ের-এন্ডারস পিটারসন

প্রেসিডেন্ট রামাফোসা 'অবৈধ অভিবাসনের চ্যালেঞ্জ' স্বীকার করে বলেছেন, তার সরকার এটি মোকাবিলা করছে। তিনি জানান, অনিয়মিত অভিবাসন জনসেবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং শ্রমবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ কিছু নিয়োগকর্তা সস্তা শ্রমের সুযোগ নিয়ে তাদের শোষণ করে। তা সত্ত্বেও, দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানানোর বিরুদ্ধে তিনি সতর্কবার্তা দেন।

'আপার্টহাইট' ব্যবস্থার অবসানের তিন দশকেরও বেশি সময় পার হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো উচ্চ বেকারত্ব, বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ খুনের হার এবং গভীর জাতিগত বৈষম্যের সাথে লড়াই করছে। উল্লেখ্য, 'আপার্টহাইট' প্রথাটি কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের সস্তা শ্রমে সীমাবদ্ধ রেখে দেশের অধিকাংশ জমি, উন্নত শিক্ষা এবং উচ্চ বেতনের চাকরি শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত রেখেছিল।

সহিংসতার পুরোনো চক্র 

বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলা দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন কিছু নয়; দেশটি বারবার বিদেশিবিদ্বেষী সহিংসতার শিকার হয়েছে। জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ বা ৩০ লাখেরও বেশি অভিবাসী এখানে বসবাস করেন, যাদের অধিকাংশই কাজের সন্ধানে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এসেছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ কাজ হারানোর পর দক্ষিণ আফ্রিকার বেকারত্বের হার বর্তমানে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে তরুণরা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

২৮ জুন জোহানেসবার্গে জিম্বাবুয়ের কনস্যুলেটের বাইরে একটি পিকআপ ভ্যানে নিজেদের মালপত্র নিয়ে পৌঁছায় একটি পরিবার। জিম্বাবুয়েতে ফিরে যেতে সহায়তা চাইতেই তারা সেখানে যায়। ছবি: এএফপি

এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আফ্রিকার অন্যতম প্রধান শিল্প অর্থনীতি হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো অভিবাসীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। তারা মূলত গৃহকর্মী, নিরাপত্তা প্রহরী এবং কৃষি খাতে নিম্ন বেতনের কাজগুলোতে যুক্ত হন।

নর্থ-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির গবেষণা পরিচালক আন্দ্রে ডুভেনেজ বলেন, অভিবাসীদের প্রায়ই নিয়োগ দেওয়া হয় কারণ নিয়োগকর্তারা মনে করেন তারা কম মজুরিতে কাজ করতে আগ্রহী। এছাড়া বিদেশি হওয়ায় তারা স্থানীয়দের মতো সব ধরণের আইনি সুরক্ষা পান না। নিয়োগকর্তারা তাদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকেও স্থানীয়দের তুলনায় বেশি ইতিবাচকভাবে দেখেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসী বিরোধী ক্ষোভ দীর্ঘকাল ধরে জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক এবং মালাউই থেকে আসা মানুষদের ওপর বেশি ছিল। তবে বর্তমানে ঘানা এবং নাইজেরিয়ার নাগরিকদের প্রতিও একই ধরণের বৈরিতা দেখা যাচ্ছে।

২৩ জুন পিটারম্যারিটজবার্গে পরিত্যক্ত একটি পৌর ভবন থেকে মালাউইয়ের বাস্তুচ্যুত নারী ও শিশুরা বাসে ওঠেন। অভিবাসীবিরোধী হামলা ও অবৈধ অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন। ছবি: এএফপি

নাইজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় সৌরশক্তি ব্যবসার সাথে যুক্ত টনি ইরিমস সিএনএন-কে বলেন, এই শত্রুতা মূলত 'দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান জনবসতির কাছাকাছি বসবাসরত বা ব্যবসা করা যেকোনো কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান অভিবাসীর' বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি এই সহিংসতাকে চরমভাবে জাতিগত এবং শ্রেণিগত হিসেবে বর্ণনা করেন এবং উল্লেখ করেন, ধনী বিদেশি বা শ্বেতাঙ্গ বাসিন্দারা খুব কমই এর শিকার হন।

সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা ২০০৮ সালের সেই ভয়াবহ দাঙ্গার স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে অন্তত ৬২ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। ২০১৫ এবং ২০১৯ সালেও দেশটিতে প্রাণঘাতী বিদেশিবিদ্বেষী হামলা ছড়িয়ে পড়েছিল।

অভিবাসীবিরোধী মনোভাবের নেপথ্যে কী? 

টনি ইরিমসের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতির বড় অংশ এখনো ধনী শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকান সংখ্যালঘুদের নিয়ন্ত্রণে, যার ফলে কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের জন্য দায়ী উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বা কর্পোরেট কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করতে না পেরে অনেকে তাদের সব ক্ষোভ 'অসহায় কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসীদের' ওপর ঝেড়ে ফেলছেন।

দেশটির রাজনীতিতে 'আপার্টহাইট' আমলের অসমতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চললেও, শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘুদের প্রতি ক্ষোভ মূলত আইনি এবং রাজনৈতিক পথেই প্রকাশ পায়। অন্যদিকে, কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান অভিবাসীরা রাজপথের সহিংসতার শিকার হন।

ইরিমস একে একটি বৈপরীত্য হিসেবে দেখছেন। অভিবাসীরা চরম সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকলেও তারা খুব সামান্যই আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পান। তিনি বলেন, অন্যদিকে, 'যে গোষ্ঠীটি (শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান) বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ ভোগ করছে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী ও সুরক্ষিত বসতিতে বসবাস করছে, তারা বিদেশের মাটিতে দ্রুত রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে যাচ্ছেন।'

২৭ জুন ডারবানের ডারবান ড্রাইভ এলাকায় নথিপত্রবিহীন অভিবাসীরা আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছেন। নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিবাসন কর্মকর্তারা সেখানে তাদের নিবন্ধন করবেন। ছবি: এএফপি

তিনি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই সিদ্ধান্তের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের পুনর্বাসনের কথা বলা হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের ওপর 'গণহত্যা চালানো হচ্ছে এবং তাদের জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।'

মালাউইয়ান মালি নিয়ারেন্ডার কাছে এই বিক্ষোভগুলো চরম 'ভণ্ডামি', কারণ এগুলো কেবল কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান অভিবাসীদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে।

বিগত ১৬ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিজের ঘর বানিয়ে নেওয়া ৩৮ বছর বয়সী নিয়ারেন্ডা এখন মালাউই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সিএনএন-কে বলেন, 'বিক্ষোভকারীদের সব শক্তি কেবল তাদের মতোই দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের বিরুদ্ধে।'

তার প্রশ্ন, 'যারা আপনার সম্পদ কেড়ে নিয়েছে তাদের ছেড়ে দিয়ে কেন আপনার মতোই অন্য একজন ক্ষুধার্ত মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন?'

Related Topics

টপ নিউজ

দক্ষিণ আফ্রিকা / অভিবাসী / সহিংসতা

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: স্ক্রিনগ্র্যাব
    কারা অধিদপ্তরে ফিরছেন এক-এগারোর আলোচিত সাবেক ডিআইজি শামসুল হায়দার সিদ্দিকী
  • ওমানের মুসান্দাম থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। ১৫ জুন ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
    ‘স্টেলথ অপারেশন’ চালিয়ে হরমুজ দিয়ে নীরবে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করছে যুক্তরাষ্ট্র
  • ফাইল ছবি: টিবিএস
    ধানমন্ডি ৩২ নম্বর স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর: ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
  • ছবি: সংগৃহীত
    একীভূত হলো বিডা, বেজা ও পিপিপিএ; ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর যাত্রা শুরু 
  • ছবিতে উপরে বাঁ থেকে রুমিন ফারহানা, মির্জা আব্বাস ও ওসমান ফারুক; নিচে বাঁ থেকে মোস্তফা কামাল পাশা, আবুল হাসান ও গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৬ সংসদ সদস্য
  • জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ। ছবি: রয়টার্স
    সৌদি আরবের পাঠ্যবই থেকে বাদ দেয়া হলো ‘মুসলিমরা কখনোই জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্য

Related News

  • আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র
  • দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে নারায়ণগঞ্জের ৬ জন নিহত
  • অভিবাসীদের আইনি মর্যাদা বাতিল: কর্মী সংকটের আশঙ্কায় মার্কিন নিয়োগকর্তারা
  • দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও
  • বিশ্বকাপ খেলে ফেরার পরই দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলার জেডেন অ্যাডামসের মৃত্যু

Most Read

1
ছবি: স্ক্রিনগ্র্যাব
বাংলাদেশ

কারা অধিদপ্তরে ফিরছেন এক-এগারোর আলোচিত সাবেক ডিআইজি শামসুল হায়দার সিদ্দিকী

2
ওমানের মুসান্দাম থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। ১৫ জুন ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

‘স্টেলথ অপারেশন’ চালিয়ে হরমুজ দিয়ে নীরবে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করছে যুক্তরাষ্ট্র

3
ফাইল ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর: ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

4
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

একীভূত হলো বিডা, বেজা ও পিপিপিএ; ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর যাত্রা শুরু 

5
ছবিতে উপরে বাঁ থেকে রুমিন ফারহানা, মির্জা আব্বাস ও ওসমান ফারুক; নিচে বাঁ থেকে মোস্তফা কামাল পাশা, আবুল হাসান ও গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৬ সংসদ সদস্য

6
জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবের পাঠ্যবই থেকে বাদ দেয়া হলো ‘মুসলিমরা কখনোই জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্য

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net