টিকিটের দাম নিয়ে বিতর্ক: বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই গ্যালারিতে হাজারো আসন খালি
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই গ্যালারিতে হাজার হাজার আসন খালি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আর এর মাধ্যমে এই মেগা ইভেন্টের টিকিটের দাম নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে চলমান বিতর্ক আরও জোরালো হলো।
মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় 'এ' গ্রুপের এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
কিন্তু বিশ্বকাপের টিকিটের দাম নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই এস্তাদিও আকরন-এর গ্যালারিতে হাজার হাজার লাল আসন খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। অথচ টুর্নামেন্টের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টিকিটের 'ডায়নামিক প্রাইসিং' বা পরিবর্তনশীল দামের নীতির পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে কয়েকটির টিকিটের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফার অফিশিয়াল রিসেল পোর্টালে (যেখানে কেনা টিকিট আবার বিক্রি করা যায়) প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টিকিট অবিক্রীত ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে।
এই প্রাইসিং নীতির কারণে বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দামও ৫ হাজার ৭৮৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, আর কিছু টিকিটের দাম পাঁচ অঙ্কের ঘর ছাড়িয়েছে।
টিকিট নিয়ে এই বিতর্ক বিশ্বকাপের আমেজকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। অথচ ফিফা দাবি করেছিল যে তারা টিকিটের জন্য ৫০০ মিলিয়নেরও বেশি বুকিং রিকোয়েস্ট পেয়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপ এনবিএ ফাইনালের চেয়েও বড় ইভেন্ট—টিকিটের বাড়তি দামের পক্ষে ইনফান্তিনোর এই ধারণা কাজ করেছে। উল্লেখ্য, এনবিএ ফাইনালে নিকস বনাম স্পারস সিরিজের টিকিটের দামও আকাশছোঁয়া ছিল।
টিকিটের অতিরিক্ত দাম নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে ভক্তদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ওঠার পর নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির রাজনীতিকরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন। অনলাইনে টিকিট কাটার সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা এবং শেষ পর্যন্ত সফল হলেও টিকিটের দাম নিয়ে কোনো স্বচ্ছতা না থাকার মতো বিষয়গুলোর বিরুদ্ধেই মূলত অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে কানায় কানায় পূর্ণ না হলেও, ম্যাচজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ভক্তদের উল্লাসে স্টেডিয়ামের পরিবেশ বেশ প্রাণবন্ত ছিল। ম্যাচে লাদিস্লাভ ক্রেজসি চেক প্রজাতন্ত্রকে প্রথমে এগিয়ে নিলেও পরে হোয়াং ইন-বমের সমতাসূচক গোল এবং ওহ হিয়ন-গিউয়ের জয়সূচক গোলে শেষ হাসি হাসে দক্ষিণ কোরিয়া।
