পশ্চিম তীরে সহিংসতায় জড়িত ইসরায়েলি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ ৬ দেশের নিষেধাজ্ঞা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় জড়িত অর্থায়ন, সহায়তা ও হামলা পরিচালনাকারী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (৯ জুন) সমন্বিতভাবে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স এবং নরওয়ে।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ক্রমাগত বাড়ছে বলে কূটনীতিকরা সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এসব সহিংসতা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ডে কয়েক লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে পাশাপাশি বসবাস করছে। প্রায় সব দেশ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে। যদিও ইসরায়েল এই অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এবং ঐতিহাসিক ও বাইবেলভিত্তিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে।
চারটি দেশের এই পদক্ষেপের সঙ্গে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। এতে পশ্চিমা বিশ্বের বহু দেশের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, কারণ তার সরকার বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।
যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, নরওয়ে এবং অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো 'অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ মাত্রার বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য কট্টর বসতি স্থাপনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পশ্চিম তীরে সহিংসতার ঘটনায় অর্থবহ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইসরায়েল সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা আহ্বান জানাচ্ছে।
মঙ্গলবার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাগুলো সব দেশ একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর দেয়নি। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানান, তার দেশ ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, বসতি স্থাপনকারী সংগঠনের চারজন নেতা এবং ২১ জন সহিংস বসতি স্থাপনকারীকে ফ্রান্সে নিষিদ্ধ করেছে।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তাদের নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো সেই আর্থিক প্রবাহ বন্ধ করা, যা পশ্চিম তীরে চরমপন্থী বসতি গোষ্ঠীগুলোকে 'নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ' দিয়েছে। এই প্যাকেজে এমন একটি নির্মাণ কোম্পানিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাদের সম্পদ ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে কানাডার নিষেধাজ্ঞায় একটি পৃথক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং তার মালিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কানাডীয় নাগরিকদের লেনদেনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সরকার যদি 'স্থল পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ' না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা দাবি করেছে, এসব পদক্ষেপ গ্রহণকারী সরকারগুলো নিজেদের দেশে 'ইহুদিবিদ্বেষ' নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে এবং উল্টো এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তা আরও উসকে দিচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব পদক্ষেপের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংঘাত এবং পশ্চিম তীরে ইহুদিদের বসবাসের অধিকার নিয়ে একটি রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, যা 'সহিংসতা বিরোধী পদক্ষেপের আড়ালে লুকানো'।
পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি পরিষদ ইয়েশা কাউন্সিলের প্রধান ইসরায়েল গান্জ বলেন, 'ইসরায়েলি পার্লামেন্টের উচিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করা এবং পুরো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের উপস্থিতি ও সার্বভৌমত্ব আরও জোরদার করা।'
যদিও ইসরায়েল সরকার মাঝে মাঝে এসব সহিংসতার নিন্দাও জানায়, তবে তারা পশ্চিম তীর সংক্রান্ত বিষয়ে বিদেশি নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। সরকারের দাবি, ইহুদিদের সেখানে বসবাসের অধিকার রয়েছে।
