মামলা করতে দেরি করায় ওপেনএআই-এর সাথে আইনি লড়াইয়ে হারলেন ইলন মাস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে করা মামলায় হেরে গেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার অভিযোগে মাস্ক এই মামলা করেছিলেন। তবে আদালত ওপেনএআই-কে এই দায় থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড ফেডারেল কোর্টে সর্বসম্মত রায়ে জুরি বোর্ড জানায়, মাস্ক মামলা করতে অনেক বেশি দেরি করে ফেলেছেন এবং আইনি সময়সীমা পার করে দিয়েছেন। জুরিরা দুই ঘণ্টারও কম সময় আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
যদিও বিচার চলাকালে জুরি বোর্ড একটি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিল, তবে বিচারক ইভন গঞ্জালেজ রজার্স জুরির রায়কে আদালতের নিজস্ব রায় হিসেবে গ্রহণ করেন এবং মাস্কের দাবিগুলো খারিজ করে দেন। বিচারক রজার্স বলেন, 'জুরির সিদ্ধান্তের সমর্থনে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, যে কারণে আমি তাৎক্ষণিকভাবে মামলাটি খারিজ করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।'
মাস্কের আইনজীবীরা আপিল করার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানালেও বিচারক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটি একটি কঠিন লড়াই হবে। কারণ আইনি সময়সীমা শেষ হওয়ার বিষয়টি একটি প্রতিষ্ঠিত তথ্যগত ইস্যু।
২০২৪ সালে দায়ের করা মামলায় মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন যে ওপেনএআই, এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তাকে কৌশলে ৩৮ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে তার অগোচরে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে লাভজনক ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর করে মাইক্রোসফটসহ অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার গ্রহণ করে। মাস্ক ওপেনএআই-এর এই আচরণকে 'একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান চুরি করা' বলে অভিহিত করেন।
ওপেনএআই পাল্টা যুক্তিতে বলে, ইলন মাস্ক নিজেই অর্থের লোভে এই অভিযোগ তুলছেন এবং মামলা করতে অনেক দেরি করে ফেলেছেন।
ওপেনএআই-এর আইনজীবী উইলিয়াম স্যাভিট তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, 'মিস্টার মাস্কের কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য থাকতে পারে, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে তা নেই।'
২০১৫ সালে অল্টম্যান, মাস্ক এবং আরও কয়েকজন মিলে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মাস্ক ২০১৮ সালে এর বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরের বছরই ওপেনএআই একটি লাভজনক ব্যবসায়িক শাখা খোলে।
বর্তমানে ওপেনএআই অ্যানথ্রোপিক এবং মাস্কের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মাইক্রোসফট ইতিমধ্যে ওপেনএআই-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আইপিও-তে গেলে ওপেনএআই-এর বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে মাস্কের স্পেসএক্স-এর অংশ হিসেবে এক্সএআই-ও আইপিও-র প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ওপেনএআই-কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
