হরমুজ প্রতিরক্ষা অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি যুক্তরাজ্যের
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক মিশনে ড্রোন, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার (১২ মে) প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি এই ঘোষণা দেন। এই মিশনের আওতায় নৌ-মাইন শনাক্ত ও তা অপসারণে সক্ষম স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, ড্রোন বোট এবং আকাশপথে টহলের জন্য টাইফুন যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জ্বালানি পরিবহন পথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৪০টিরও বেশি দেশ এই মিশনে অংশ নিচ্ছে। জন হিলি জানান, অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়া মাত্রই এই মিশনের কার্যক্রম শুরু হবে।
কয়েক মাস ধরে ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন পথটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
অন্যদিকে, নিজেদের শর্ত মানতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
গত এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে অতি নাজুক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, এই যুদ্ধবিরতি বর্তমানে 'লাইফ সাপোর্ট'-এ রয়েছে। ইতোমধ্যে উভয় দেশই এই প্রণালিতে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোন-প্রতিরোধী দল এবং ফাস্ট জেট স্কোয়াড্রনসহ বর্তমানে এক হাজারেরও বেশি ব্রিটিশ সেনাসদস্য এই অঞ্চলে বিদ্যমান রক্ষণাত্মক অভিযানে নিয়োজিত আছেন।
গত মাসে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উদ্যোগে ঘোষিত এই বহুজাতিক মিশনটি সম্পর্কে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে যে, এটি সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক এবং এর মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা ও আস্থা তৈরি করা।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই অবদানে মাইন শনাক্তকারী ড্রোন এবং ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থার জন্য নতুন করে ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড অর্থায়ন করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে জন হিলি বলেন, 'আমাদের মিত্রদের সাথে নিয়ে এই বহুজাতিক মিশনটি হবে রক্ষণাত্মক, স্বাধীন এবং নির্ভরযোগ্য।'
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ 'এইচএমএস ড্রাগন' বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে এবং প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি 'যেকোনো মিশনের জন্য প্রস্তুত' থাকবে। এছাড়া 'আরএফএ লাইম বে' নামক আরেকটি ব্রিটিশ জাহাজকে আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি এই অভিযানে অংশ নিতে পারে।
এমন এক সময়ে এই ঘোষণাটি এল যখন লেবার পার্টির ডজনখানেক এমপি প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তবে এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই জন হিলি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তার জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
