যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর স্মারক পাসপোর্টে থাকছে ট্রাম্পের ছবি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ইস্যু করা একটি নতুন এবং সীমিত সংস্করণের পাসপোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি স্থান পাবে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এবার পাসপোর্টের মাধ্যমে জনজীবনে যুক্ত হচ্ছে।
আগামী জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাইলফলক বার্ষিকী উদযাপনের যে বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, এই স্মারক পাসপোর্টগুলো তারই অংশ। এই উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, পাসপোর্টের নকশায় ট্রাম্পের প্রতিকৃতি যুক্ত করা হয়েছে। এর পটভূমিতে রয়েছে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার বিভিন্ন অংশ। এছাড়াও পাসপোর্টে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরটি সোনালি রঙে খোদাই করা থাকবে।
পাসপোর্টের অন্য একটি পাতায় যুক্তরাষ্ট্রের 'ফাউন্ডিং ফাদারস'দের (প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তিরা) স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করার একটি ছবি থাকবে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিট বলেন, 'আগামী জুলাইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন তার ২৫০তম বার্ষিকী পালন করবে, তখন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই ঐতিহাসিক উপলক্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে সীমিতসংখ্যক বিশেষ নকশাকৃত পাসপোর্ট প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।'
এই স্মারক পাসপোর্টগুলো ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করে সংগ্রহ করা যাবে। চলতি গ্রীষ্ম থেকেই এর বিতরণ শুরু হবে এবং মজুত থাকা পর্যন্ত নাগরিকরা এটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
বর্তমানে ব্যবহৃত মার্কিন পাসপোর্টগুলোতে দেশটির ইতিহাস ও পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ছবি থাকে। যেমন— পাসপোর্টের ভেতরের কভারের পাতায় ফোর্ট ম্যাকহেনরির যুদ্ধের পর ফ্রান্সিস স্কট কি-র একটি চিত্রকর্ম রয়েছে। ওই যুদ্ধে আক্রমণের পরও তিনি মার্কিন পতাকাকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন, যা তাকে একটি কবিতা লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই কবিতাটিই পরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীতে পরিণত হয়।
পাসপোর্টের অন্য পাতাগুলোতে আমেরিকান ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেমন— অ্যাপোলো ১১-এর চাঁদে অবতরণ এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো প্রতীকগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত এই বিশেষ সংস্করণ।
পাসপোর্টের এই নতুন নকশাটি মূলত ওয়াশিংটনসহ পুরো দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের ওপর ট্রাম্পের নাম, ছবি বা স্বাক্ষর বসানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার সর্বশেষ উদাহরণ।
এ ধরনের কিছু উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এ বছরের ন্যাশনাল পার্ক পাসে জর্জ ওয়াশিংটনের ছবির পাশেই ট্রাম্পের ছবি স্থান পেয়েছে। সাধারণত এই পাসে প্রাকৃতিক দৃশ্যকে প্রাধান্য দেওয়ার যে ঐতিহ্য ছিল, এটি তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি পদক্ষেপ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ১ ডলারের একটি মুদ্রার খসড়া নকশা প্রকাশ করেছে 'ইউনাইটেড স্টেটস মিন্ট', যেখানে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি থাকবে।
মুদ্রার জন্য প্রস্তাবিত নকশায় তার ছবির সঙ্গে 'লিবার্টি' এবং 'ইন গড উই ট্রাস্ট' কথাগুলো লেখা থাকবে। মুদ্রার উল্টো পাশে দেখা যাবে তিনি আমেরিকান পতাকার সামনে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন এবং সেখানে 'ফাইট ফাইট ফাইট' স্লোগানটি লেখা আছে। ২০২৪ সালে পেনসিলভেনিয়ার বাটলারের এক নির্বাচনী সভায় তার ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর তিনি এই স্লোগানটি দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প নিউ ইয়র্কের 'পেন স্টেশন'-এর নাম পরিবর্তন করে তার নামে করার জন্য ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর চাক শুমারের ওপর চাপ দিয়েছিলেন। বিনিময়ে তিনি ফেডারেল অবকাঠামো তহবিল ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তার এই প্রচেষ্টাটি সফল হয়নি।
এছাড়াও, ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন সরকারি ভবনে বড় বড় ব্যানারের মাধ্যমে নিজের ছবি প্রদর্শন করছেন।
এমনকি মার্কিন রাজধানীর স্থাপত্যশৈলীতেও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রুচির প্রতিফলন ঘটছে। গত বছরের অক্টোবরে একটি বিশাল বলরুম তৈরির জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের 'ইস্ট উইং' ভেঙে ফেলেন। এছাড়া ফ্রান্সের প্যারিসের মতো রাজধানীতে একটি 'বিজয় তোরণ' নির্মাণের পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসির 'কেনেডি সেন্টার'-এর সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা হয়। ট্রাম্পের মনোনীত বোর্ড সদস্যদের একটি বিতর্কিত ভোটের ঠিক একদিন পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নাম দায়িত্বরত কোনো প্রেসিডেন্টের নামে করা হলো।
এর কয়েক দিনের মধ্যেই কর্মীরা ভবনটির বাইরের অংশে ধাতব হরফে নতুন নাম যুক্ত করেন। বর্তমানে কেন্দ্রটির নাম রাখা হয়েছে 'দ্য ডোনাল্ড জে ট্রাম্প অ্যান্ড দ্য জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস'।
