মাইন অপসারণে হরমুজ পেরিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা যখন একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসেছেন, তখন শনিবার মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, প্রণালিটি থেকে মাইন অপসারণের অভিযান শুরু করতেই তারা সেখানে প্রবেশ করে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর তদারকিকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসন' এবং 'ইউএসএস মাইকেল মারফি' নামে দুটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। ইরান এই জলপথে যে সব সামুদ্রিক মাইন পেতে রেখেছে, সেগুলো শনাক্ত ও অপসারণ করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। এর উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় নিরাপদ করে তোলা।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান এই জলপথটি পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি ধীরগতির হওয়ার অন্যতম কারণ হলো তেহরান তাদের পেতে রাখা সমস্ত মাইনের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে না এবং সেগুলো অপসারণের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তাদের নেই। ফলে এই কাজে আমেরিকার সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'আগামী দিনগুলোতে' পানির নিচে কাজ করতে সক্ষম ড্রোনসহ আরও মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম এই মাইন অপসারণ অভিযানে যুক্ত হবে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি প্রণালির কাছাকাছি এসেছে বা প্রবেশ করেছে এ দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখনো এই জলপথের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিন নিউজ এজেন্সিও শনিবার দাবি করেছে, 'বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের চলাচল নেই' এবং তেহরান প্রণালি অতিক্রম করতে চাওয়া একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে 'অনুমতি' দিতে অস্বীকার করেছে। অবশ্য একজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবিটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কোনো মার্কিন জাহাজই ইরানি বিরোধিতার কারণে প্রণালি এড়িয়ে চলেনি।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনের এই সংযোগস্থলটি কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল এবং এই এলাকায় মাইন পেতেছিল। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ধীর হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সেন্ট্রাল কমান্ডের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন দল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধের একটি স্থায়ী সমাধান নিয়ে সেখানে আলোচনা চলছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেন্দ্রীয় দাবি। ইরান ইতোমধ্যে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিলেও তাদের কাছ থেকে টোল বা মাশুল আদায়ের চেষ্টা করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা এখন জনসমক্ষে জোর দিয়ে বলছেন, যেকোনো শান্তি চুক্তিতে ভবিষ্যতে এই জলপথ থেকে তেহরানের রাজস্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
