ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে ‘আজ রাতেই একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’: ট্রাম্প; বর্বর শক্তি জয়ী হবে না: ইরান
বর্বর শক্তি জয়ী হবে না: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাগাই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাগাই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, "একটি 'সভ্য' জাতির সংস্কৃতি, যুক্তি এবং তাদের ন্যায্য উদ্দেশ্যের প্রতি অবিচল বিশ্বাসের শক্তি নিঃসন্দেহে পাশবিক শক্তির ওপর জয়ী হবে।"
তিনি আরও বলেন, "যে জাতি তার পথের ন্যায্যতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে, তারা নিজেদের অধিকার ও বৈধ স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের সক্ষমতা ও সামর্থ্য কাজে লাগাবে।"
ট্রাম্পের হুমকি তার 'ক্রোধ ও ক্রমবর্ধমান হতাশার' লক্ষণ: তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
ইরানকে একটি 'গোটা সভ্যতা' মুছে ফেলার যে হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তা মূলত তার 'ক্রমবর্ধমান ক্রোধ ও বেপরোয়া' পরিস্থিতিরই বহিঃপ্রকাশ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান এ মন্তব্য করেন।
আহমাদিয়ান বলেন, 'ট্রাম্পের বক্তব্যের সুর দিন দিন আরও কঠোর হচ্ছে, যা দেখে আমার মনে হচ্ছে তিনি সংকটে আছেন। তিনি চাইছেন তার হুমকিগুলো ইরানিদের মনে আতঙ্ক তৈরি করুক এবং তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করুক।'
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেওয়া হুমকি (সভ্যতা ধ্বংস করা) পুরোপুরি কার্যকর করতে না পারলেও ইরানের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার চেষ্টা করতে পারেন। তবে তেহরানও এর উপযুক্ত ও পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করে রেখেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি 'জটিল চোরাবালি' হিসেবে বর্ণনা করে আহমাদিয়ান বলেন, 'এই যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়েছেন, যেখানে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন ছাড়াই লড়াই অব্যাহত রয়েছে।'
ইরানে সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, যুদ্ধবিরতির আশায় যুক্তরাষ্ট্র: জেডি ভ্যান্স
ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানের লক্ষ্যগুলোর বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ভ্যান্স আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আজকের রাতের সময়সীমার (ডেডলাইন) মধ্যেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া সম্ভব বলে ওয়াশিংটন এখনও বিশ্বাস করে।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে আজ রাতেই একটি সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে: ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলে আজ রাতেই 'একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে ইরানে 'শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের' ইঙ্গিত দিয়ে বিষয়টিকে তিনি বিশ্বের দীর্ঘ ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, 'আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কোনোদিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। আমি চাই না এমনটা ঘটুক, তবে সম্ভবত এটি ঘটতে যাচ্ছে। তবে, যেহেতু এখন আমরা একটি 'সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্ত শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন' দেখতে পাচ্ছি; যেখানে ভিন্ন, বুদ্ধিমান এবং তুলনামূলক কম উগ্র মানসিকতার মানুষের প্রাধান্য থাকবে। তাই হয়তো দারুণ ও বৈপ্লবিক কিছু ঘটতে পারে। কে জানে?'
তিনি আরও বলেন, 'বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আজ রাতেই আমরা তা জানতে পারব। দীর্ঘ ৪৭ বছরের জবরদস্তি, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবশেষে অবসান ঘটবে। ইরানের মহান জনগণের মঙ্গল হোক!'
ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'মেহের নিউজ' আজ এই তথ্য জানিয়েছে।
মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপটিতে 'বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ' অনুভূত হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানায়নি সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ইরানের উৎপাদিত প্রায় সব জ্বালানি তেল এই দ্বীপটির মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দ্বীপে বোমা হামলা চালানো বা এটি দখল করার বিষয়ে একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন। গত ৩০ মার্চ এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের 'বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খারগ দ্বীপ' ধ্বংস করে দিতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত ইরানের সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরবের জুবাইলে পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইরানের হামলা
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের জুবাইল শিল্প নগরীতে অবস্থিত একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'ফার্স নিউজ' এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি আরবের ওই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনা লক্ষ্য করে এই আক্রমণ পরিচালনা করে। জুবাইল শহরটি মূলত সৌদি আরবের একটি বৃহৎ শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
তবে এই হামলার বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলায় ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৩৩
ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অব্যাহত হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে অন্তত ১৩৩ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় জানায়, গতকাল সকাল ৭টা থেকে আজ সকাল ৭টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই ১৩৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া ৫ জনের অবস্থা গুরুতর (মাঝারি) এবং বাকি ১২৭ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এখন ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহরগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, লেবানন সীমান্ত থেকে উত্তর ইসরায়েলে ক্রমাগত রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হিজবুল্লাহ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি: প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের সুরক্ষায় এ পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি ইরানি নাগরিক তাদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই তথ্য জানান।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পেজেশকিয়ান বলেন, 'আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি, করছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।'
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ক্ষমতাধর সচিব আলী লারিজানি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২,০৭৬ জন নিহত এবং ২৬,৫০০ জন আহত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরানের আলবোর্জ প্রদেশে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, ২ শিশুসহ নিহত ১৮
ইরানের আলবোর্জ প্রদেশের আবাসিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, আলবোর্জ প্রদেশের উপ-গভর্নর এই নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, এ হামলায় আরও অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
মধ্য ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ক্লাস্টার বোমায় ক্ষয়ক্ষতির খবর
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ছোঁড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এর ফলে বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'কান' জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর প্রভাবে একটি যানবাহন উল্টে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তবে প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
'দ্য টাইমস অব ইসরায়েল' উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মূলত ইরানের ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ছড়িয়ে পড়া 'ক্লাস্টার সাব-মিউনিশন' বা ক্ষুদ্র বোমার কারণে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য ইসরায়েলের রোশ হেইন এবং রামাত হাশারনসহ বেশ কিছু এলাকা এই হামলার শিকার হয়েছে। এসব স্থানে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ধ্বংসের দাবি নেতানিয়াহুর
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, ইসরায়েল ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ধ্বংস করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টে বলা হয়েছে, 'আমরা পদ্ধতিগতভাবে আইআরজিসি-র (ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) অর্থ উপার্জনের যন্ত্রটিকে ধ্বংস করছি।'
পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরানের দুটি বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি সক্ষমতার ৮৫ শতাংশেরও বেশি অচল হয়ে পড়েছে।
আইডিএফ আরও দাবি করেছে যে, আসালুয়েহ-র একটি কেন্দ্র 'ইরানি শাসনের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান' তৈরির প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
'অজ্ঞান' আছেন মুজতবা খামেনি, কোম শহরে চলছে চিকিৎসা: মার্কিন-ইসরায়েলি গোয়েন্দা রিপোর্ট
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন এবং পবিত্র নগরী কোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একটি গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমস' এ তথ্য জানিয়েছে। ওই রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, তিনি বর্তমানে দেশ পরিচালনা করার অবস্থায় নেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে শেয়ার করা একটি কূটনৈতিক মেমোতে বলা হয়েছে, নিহত সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মুজতবা বর্তমানে 'অচেতন' এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত 'সংকটজনক'।
দ্য টাইমসের দেখা ওই মেমোতে প্রথমবারের মতো ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। তেহরান থেকে ৮৭ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এই কোম শহরটি শিয়া ইসলামে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। মেমোতে বলা হয়েছে, 'মুজতবা খামেনি কোমে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তিনি বর্তমান প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না।'
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস
ইরানি হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব-বাহরাইন সংযোগকারী সেতু বন্ধ
ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে সৌদি আরব এবং দ্বীপ রাষ্ট্র বাহরাইনকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ 'কিং ফাহাদ কজওয়ে' মঙ্গলবার ভোরের দিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কিং ফাহাদ কজওয়ে কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ইরানি হামলার আশঙ্কায় 'সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে' যান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি বাহরাইনের সাথে আরব উপদ্বীপের একমাত্র সড়ক যোগাযোগ মাধ্যম। বাহরাইন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত।
তথ্যসূত্র: গার্ডিয়ান
ইরানকে এক রাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হতে পারে, সেটি হতে পারে কাল রাতে: ট্রাম্প
ইরান যদি তার বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত না হয়, তবে 'এক রাতেই' পুরো দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিশ্ব জ্বালানি পথটি পুনরায় সচল করার জন্য তিনি তেহরানকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।
ওয়াশিংটন ডিসির সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে একটি 'গ্রহণযোগ্য' চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরানের কিছু 'যুক্তিবাদী' নেতা 'সততার সঙ্গে' আলোচনা করছেন, তবে চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
ইরান ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে তারা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং দেশটির ওপর থেকে সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উপস্থিত ছিলেন। কয়েক দিন আগে দক্ষিণ ইরানে ভূপাতিত একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুই ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করার ঘটনাটিকে ট্রাম্প 'বীরত্বপূর্ণ' হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প বলেন, 'পুরো দেশটি এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে—আর সেই রাতটি হতে পারে আগামীকালের (মঙ্গলবার) রাত।'
তথ্যসূত্র: বিবিসি
চুক্তি না করলে ইরানের প্রতিটি সেতু ধূলিসাৎ করে দেওয়া হবে: ট্রাম্প
ইরান যদি যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে না আসে, তবে দেশটির প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এবার তা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ইরানকে 'ক্রেজি বাস্ট*আর্ডস' বলে গালিগালাজ করা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'আমি পরোয়া করি না।' যারা তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি ক্ষমতায় আসার আগে বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকানো হচ্ছিল।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) মধ্যরাতের মধ্যে ইরানের প্রতিটি সেতু ধূলিসাৎ করে দেওয়া হবে। যদিও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সময়ের কথা উল্লেখ করেননি, তবে এর আগে এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন যে, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা শুরু হবে।
ট্রাম্প আরও মন্তব্য করেন যে, যুদ্ধ শেষে ইরানকে পুনর্গঠনের একমাত্র পথ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নেওয়া। তিনি বলেন, "আমরা হয়তো তাদের দেশ পুনর্গঠনে সহায়তা করতেও পারি।" এমন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, যুক্তরাষ্ট্র সেটিই পছন্দ করবে বলে তিনি জানান।
একই সঙ্গে ট্রাম্প আবারও ন্যাটোর কঠোর সমালোচনা করেছেন এই যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার জন্য। তিনি অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের নামও উল্লেখ করেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ এই অভিযানে সহায়তা করছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যা ইরানি যোদ্ধাদের দমাতে পারবে না: মুজতবা খামেনি
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি বলেছেন, শীর্ষ কমান্ডারদের গুপ্তহত্যা করে ইরানি বাহিনীকে দমানো সম্ভব নয়। সোমবার ভোরে রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত হওয়ার পর এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
মজিদ খাদেমির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে খামেনি বলেন, তিনি কয়েক দশক ধরে নিরাপত্তা, গোয়েন্দা এবং প্রতিরক্ষা খাতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সেবা দিয়ে গেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, 'ইসলামি ইরানের অদম্য যোদ্ধারা এবং আত্মত্যাগী সশস্ত্র বাহিনী এমন এক সুউচ্চ ও সুগভীর ফ্রন্ট তৈরি করেছে যে, সন্ত্রাসবাদ এবং অপরাধের মাধ্যমে তাদের জিহাদি আদর্শের সংকল্পে সামান্যতম ফাটলও ধরানো সম্ভব নয়।'
মুজতবা খামেনি এই মন্তব্যগুলো একটি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে তার বাবা আলী খামেনিই নিহত হওয়ার পর তিনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নিলেও এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানজুড়ে কয়েক ডজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েল। গোয়েন্দা প্রধান খাদেমি হত্যার বিষয়টি তেহরান এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ—উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। কাটজ খাদেমিকে আইআরজিসি-র শীর্ষ তিন নেতার একজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী ছিলেন।
এদিকে সোমবারই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তাদের বিমান বাহিনী আইআরজিসি কুদস ফোর্সের স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরিকে 'নির্মূল' করেছে। আসগর ২০১৯ সাল থেকে ওই ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল ইরান
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের একদিন আগে এই ঘোষণা এল। উল্লেখ্য, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি না খুললে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, 'ইরান যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে।' যদিও সংবাদ সংস্থাটি তাদের সূত্রের নাম বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। ইরনা আরও জানিয়েছে, '১০ দফার এই জবাবে ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এই সংঘাতের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী অবসানের ওপর জোর দিয়েছে।'
তেহরানের পক্ষ থেকে যেসব দাবি জানানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ পারাপারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা (প্রটোকল), যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং ইরানের ওপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তেহরান ভবিষ্যতে আর কোনো হামলার শিকার হবে না এমন নিশ্চয়তা চেয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে তারা।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি মার্কিন সামরিক বাহিনীর
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে তাদের বাহিনী এ পর্যন্ত ১৩ হাজারেরও বেশি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম আরও জানায়, এ পর্যন্ত ইরানের ১৫৫টিরও বেশি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে। বাহিনীটি উল্লেখ করেছে যে, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'তে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী এবং সাবমেরিনের পাশাপাশি এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান ও বি-৫২ বোমারু বিমানের একটি বিশাল বহর অংশ নিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধে আমরা 'জিতেছি', আমরাই হরমুজে টোল বসাব: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আদায় করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে এই জলপথের ওপর সরাসরি মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হবে।
গত সোমবার ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানকে যদি এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তিনি সেই চুক্তি মেনে নেবেন কি না। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমরা টোল আদায় করলে কেমন হয়? ইরানকে এই সুযোগ দেওয়ার চেয়ে আমি নিজেই তা করতে পছন্দ করব। আমরা কেন নেব না? আমরা তো বিজয়ী। আমরা জিতেছি।'
ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিন থেকেই তিনি এই দাবি করে আসছেন, যদিও ইরান এই অঞ্চলে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের অবরোধ এখনো বজায় রেখেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
সুযোগ থাকলে ইরানের তেল দখল করতাম, কিন্তু আমেরিকানরা চায় আমরা দেশে ফিরে আসি: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, তিনি ইরানের তেল 'দখল' করতে চান—তবে আমেরিকানরা এই যুদ্ধের অবসান চায় বলেই তিনি তা করছেন না।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত বার্ষিক ইস্টার উৎসবে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'সুযোগ থাকলে আমি সব তেল দখল করতাম, কারণ তা নেওয়ার জন্যই সেখানে আছে। এ নিয়ে তাদের (ইরান) কিছুই করার সাধ্য নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'দুর্ভাগ্যবশত আমেরিকানরা চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। আমার ইচ্ছামতো চললে আমি তেল নিতাম, নিজের কাছে রাখতাম এবং তা থেকে প্রচুর অর্থ আয় করতাম। পাশাপাশি আমি ইরানি জনগণেরও এখনকার চেয়ে অনেক ভালো দেখাশোনা করতাম।'
তথ্যসূত্র: পলিটিকো
