ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান হলেন আইআরজিসির কমান্ডার বাকের জোলকাদর
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অভিজ্ঞ কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আলী লারিজানির স্থলাভিষিক্ত হলেন জোলকাদর।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের যোগাযোগ ও তথ্য বিষয়ক উপ-প্রধান মেহেদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জোলকাদর ইরানের শাসনব্যবস্থার একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তি। তিনি দেশটির সামরিক, বেসামরিক এবং বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানে উচ্চপর্যায়ের নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি আইআরজিসি-র একটি ডিভিশন কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন। সে সময় ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত আধা-সামরিক গোষ্ঠীগুলোর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে।
দীর্ঘ চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে জোলকাদর কয়েক বছর আইআরজিসি-র দ্বিতীয় শীর্ষ কমান্ডার [সেকেন্ড-ইন-কমান্ড] হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তিনি 'এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল'-এর প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন, যা মূলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে পরামর্শ দেয় এবং পার্লামেন্ট ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে বিরোধ মেটাতে সালিশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পদের কারণে তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন। যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি বাসিজ এবং আনসার-ই-হিজবুল্লাহর মতো অভ্যন্তরীণ আধা-সামরিক গোষ্ঠীগুলোর সাথেও নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন, যারা মূলত ভিন্নমত ও বিরোধী পক্ষ দমনে সক্রিয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আলী লারিজানির মৃত্যুর পর জোলকাদরের মতো একজন যুদ্ধ-অভিজ্ঞ এবং কট্টরপন্থী ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে তেহরান তার জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে আরও কঠোর অবস্থানের জানান দিল। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আইআরজিসি-র নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হলো।
