ইরান যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে দরপতন
চতুর্থ সপ্তাহে পা দিল ইরান যুদ্ধ। তার মধ্যেই আমেরিকা ও ইরান পারস্পরিক আক্রমণ আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এর জেরে সোমবার এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতে বড়সড় দরপতন হয়েছে।
এদিন সকালে লেনদেন শুরু হতেই জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫-এর ৩.৪ শতাংশ দরপতন হয়। পাশাপাশি প্রায় ৫ শতাংশ দরপতন দেখা যায় দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো 'গুঁড়িয়ে' দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা তেহরানের বক্তব্য, এমন কোনো হামলা হলে গোটা অঞ্চলের জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে নিশানা করা হবে।
মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়েই বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আমদানি করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তাই যুদ্ধের জেরে এই দুই দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর হামলা চালায় আমেরিকা-ইসরায়েল। তারপর থেকেই বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে তেহরান।
গোটা বিশ্বের অন্তত ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথেই পরিবাহিত হয়। ফলে এই যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম লাফিয়ে বাড়ছে।
সোমবার ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল জানান, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ব গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বর্তমান পরিস্থিতিকে গত শতকের সাতের দশকের জ্বালানি সংকট এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রভাবের সঙ্গে তুলনা করেন বিরল। তার ভাষ্যমতে, 'বর্তমানে পরিস্থিতি যে জায়গায় পৌঁছেছে, একে এককথায় দুটি তেল সংকট ও একটি গ্যাস বিপর্যয়ের সম্মিলিত রূপ বলা যায়।'
শনিবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, 'ঠিক এই মুহূর্ত থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি কোনো রকম হুমকি ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে আমেরিকা তাদের একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেবে। আর শুরুটা হবে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার মধ্যে দিয়ে!'
ইসরায়েলের দিমোনা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঠিক পরেই এই হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ওই বার্তার কিছুক্ষণের মধ্যেই দিমোনার কাছাকাছি আরাদ শহরে দ্বিতীয় হামলা চালায় তেহরান।
ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব এসেছে ইরানের দিক থেকেও। রোববার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাগের গালিবফ বলেন, তাদের দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উপর হামলা হলে এই গোটা অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি পরিশোধন অবকাঠামো এমনভাবে ধ্বংস করা হবে, যা আর আগের অবস্থায় ফেরানো যাবে না।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এমন আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের ঘটনা সংঘাতের মাত্রাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম, তৈরি হয়েছে জ্বালানির ঘাটতি।
সোমবার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য শেয়ারবাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। হংকংয়ের শেয়ারবাজারে ২.৫ শতাংশ ও তাইওয়ান ওয়েটেড ইন্ডেক্স-এর ২ শতাংশ দরপতন হয়েছে। পাশাপাশি সাংহাই কম্পোজিট সূচক ২.৩ শতাংশ কমে হয়েছে ৩,৮৬৭.৫১।
সোমবার গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমস সূচক ২.১ শতাংশ নেমে ৪,৮৮৪.৭১-এ পৌঁছেছে। পতন দেখা গেছে ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ডের বাজারেও। ফিলিপিন্স স্টক এক্সচেঞ্জ-এর ৩.১৭ শতাংশ ও স্টক এক্সচেঞ্জ অভ থাইল্যান্ড-এর দরপতন হয়েছে ২.১৫ শতাংশ।
