মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে ৪৩,০০০ বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত; খারগ দ্বীপে ৯০ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (১৪ মার্চ) ১৫তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরইমধ্যে যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন; যদিও এর আগে ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যেতে তারা আগ্রহী নয়। তবে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শান্তির জন্য ইরানের সার্বভৌম অধিকার, পরবর্তীতে দেশটির ওপর হামলা না হওয়ার আন্তর্জাতিক গ্যারান্টিসহ ৩ দফা দাবি জানিয়েছিলেন।
ইসফাহানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৫
ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসফাহানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মধ্য ইরানের শিল্পনগরী ইসফাহানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ১৫ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, রোববার এই হামলা হয়েছে। যদিও লক্ষ্যবস্তু এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বন্ধের আহ্বান হামাসের
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস তাদের অন্যতম প্রধান ও কৌশলগত মিত্র ইরানকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
তেহরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে ইরানকে 'ভাই' সম্বোধন করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং 'ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে' এই অঞ্চলের সব দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
তবে একই সঙ্গে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী এই গোষ্ঠীটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকারকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানের ভেতরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে তাদের প্রতিশোধমূলক হামলাগুলো মূলত 'মার্কিন সামরিক স্থাপনা' লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে নয়।
শনিবার এক বার্তায় হামাস জানায়, তারা মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর 'গভীর উদ্বেগ' নিয়ে নজর রাখছে। যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য তারা বিশ্বের সব রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
হামাসের এই বিবৃতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গনে দুটি ড্রোন হামলা হয়েছে। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, শনিবার দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুটি ড্রোন হামলা হয়েছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
জ্বালানি স্থাপনায় যেকোনো হামলার জবাব দেবে ইরান: আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা করা হয়, তাহলে দেশটি এই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর স্থাপনায় হামলা চালাবে।
"যদি ইরানের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা করা হয়, তাহলে আমাদের বাহিনী এই অঞ্চলে থাকা আমেরিকান কোম্পানিগুলোর স্থাপনা বা যেসব কোম্পানিতে আমেরিকার শেয়ার রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে", বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, যদিও হরমুজ প্রণালি "খোলা রয়েছে", তবে ইরান তার "শত্রু ও তাদের মিত্রদের তেলবাহী জাহাজ ও নৌযান" এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেবে না।
হরমুজ প্রণালির তীরে 'ভয়াবহ' বোমাবর্ষণের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, "অনেক দেশ, বিশেষ করে যেগুলো ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রণালিটি খোলা ও নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।"
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রাম্প বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে "তাদের জন্য একটি–দুটি ড্রোন পাঠানো, একটি মাইন ফেলা বা কাছ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা সহজ''।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র "(হরমুজ প্রণালির) তীরে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করবে" এবং তিনি "যেকোনো উপায়ে" প্রণালিটি খুলে দেবেন।
ইরানের রূপান্তরে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত রেজা পাহলভি
ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহর নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি বলেছেন, 'ইসলামিক রিপাবলিকের পতন হলে' তিনি রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রেজা পাহলভি ওই পোস্টে বলেন, তিনি যেটিকে 'রূপান্তরের প্রক্রিয়া' বলছেন, সেখানে কাজ করার জন্য তিনি ইতোমধ্যে ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা ব্যক্তিদের বাছাই করার কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, "ইসলামি গণতন্ত্রের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই আমার নেতৃত্ব দেশের রূপান্তর প্রক্রিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকবে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং ইরানের সমৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠা করবে।"
আবুধাবি ও দুবাইয়ের বন্দর এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিল ইরান
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই ও আবুধাবিসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের 'অবিলম্বে' সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাইয়ের জেবেল আলি, আবুধাবির খলিফা এবং ফুজাইরা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়েছে।
হামলার কারণ উল্লেখ করে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ওইসব এলাকায় বেসামরিক স্থাপনার আড়ালে মার্কিন সামরিক বাহিনী অবস্থান করছে। এর ফলে এসব বন্দর ইরানের কাছে এখন 'বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব স্থানে হামলা চালানো হতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।
ইরানের ক্ষমতা হস্তান্তরে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত রেজা পাহলভী
ইরানের শেষ শাহ'র নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভী জানিয়েছেন, বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটলে তিনি দেশটির ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে তার পিতাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রেজা পাহলভী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, একটি 'ট্রানজিশনাল সিস্টেম' বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের লক্ষ্যে তিনি ইতিমধ্যে ইরানের ভেতরে ও বাইরে থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাছাই করার কাজ শুরু করেছেন।
পাহলভী বলেন, 'ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন হওয়ার সাথে সাথেই' তিনি এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিতে তৈরি আছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী ধাপগুলো পরিচালনার জন্য তিনি একটি দক্ষ দল গঠন করছেন।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৪৩ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৩ হাজার ইউনিটের মধ্যে ৩৬,৫০০টিই আবাসিক ভবন। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মুখপাত্র আরও জানান, কেবল আবাসিক ভবনই নয়, জীবন রক্ষাকারী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, ৪৩টি জরুরি সেবা কেন্দ্র, ৩২টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ১২০টি স্কুল সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে।
হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির চিত্র তুলে ধরে মোহাজেরানি বলেন, এখন পর্যন্ত অন্তত ২২৩ জন নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৬ জনে।
এর আগে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিও এক প্রতিবেদনে প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।
ইরানের খারগ দ্বীপে ৯০ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এই হামলায় দ্বীপটির ৯০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সেন্টকম এই অভিযানকে একটি 'বড় মাপের নিখুঁত হামলা' হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, গত রাতের এই হামলায় ইরানি নৌবাহিনীর মাইন মজুদাগার, ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার এবং আরও বেশ কিছু সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী ৯০টিরও বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেও দ্বীপটির 'তেল অবকাঠামো' সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ইরানের তেল খাতের কোনো ক্ষতি না করে কেবল সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই ছিল এই হামলার লক্ষ্য।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার দাবি করা হয়েছে। একজন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্বীপটি থেকে তেল রপ্তানি কার্যক্রম 'পুরোদমে' চলছে এবং তেল কোম্পানিগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালিয়েছে। ফ্লোরিডার উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার কিছুক্ষণ পর ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
আবুধাবি, বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে কয়েক দফায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির বরাতে ইরানি গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।
অ্যাডমিরাল তাংসিরি জানান, ইরানি নৌবাহিনী ওই অঞ্চলের তিনটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে 'পরপর কয়েক দফায়' শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। ঘাঁটিগুলো হলো, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত আল-ধাফরা, কুয়েতের আল-আদিরি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি।
তিনি আরও দাবি করেন, এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, যুদ্ধবিমান এবং বিমানের জ্বালানি সংরক্ষণের ট্যাংক লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সৌদিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫ মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ওই সময় ঘাঁটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি এবং বর্তমানে সেগুলো মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। এই হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই দাবি করলেও বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউয়ানে দাম মেটানো হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন করতে দিতে পারে ইরান
ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিতসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে তেহরান। তবে এক্ষেত্রে একটি শর্ত রাখা হবে—তেলের দাম মেটাতে হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ান-এ।
ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলের পথ সুগম করতে একটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ইরান সরকার।
বিশ্ববাজারে তেলের লেনদেন মূলত ডলারে হয়ে থাকে। কেবল পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়ার তেলের কারবার চলে রুবল বা ইউয়ানে।
বিশ্বের জ্বালানি-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া। ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর তেলের দাম যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল, এখন তা সেই সীমাকেও ছাপিয়ে গেছে।
এশিয়া-প্যাসিফিকে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র "নির্ভরযোগ্য" জ্বালানি সরবরাহ দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম।
টোকিওতে অনুষ্ঠিত ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি মিনিস্টেরিয়াল অ্যান্ড বিজনেস ফোরামে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "এনার্জি ডমিন্যান্স" নীতির লক্ষ্য হলো দেশে সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি রাখা এবং মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর কাছে জ্বালানি বিক্রির সক্ষমতা তৈরি করা।
১৭টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই ফোরামে বার্গাম বলেন, এতে অঞ্চলটি "নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ" জ্বালানি সরবরাহ পাবে, যা "কোনো সন্ত্রাসী শাসনের কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না।"
তিনি আরও বলেন, চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশগুলো যে চেষ্টা করছে, সে প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই ফোরামের আয়োজন করা হয়। এতে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোও অংশ নিয়েছে; তাদের লক্ষ্য বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করা।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রথম স্থলসেনা হিসেবে ২,৫০০ মেরিন সেনা মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের
জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থানরত ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা এখন ইউএসএস ত্রিপোলি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে রওনা হয়েছেন।
ইউএসএস ত্রিপোলি একটি উভচর যুদ্ধজাহাজ (অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ)। এ জাহাজ থেকে মেরিন সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হতে পারে।
প্রয়োজনে কোনো সংকটে সাড়া দেওয়া বা ইরানের কোনো অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো অভিযানে তাদের ব্যবহার করা হতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধে এদেরই প্রথম স্থলসেনা হিসেবে মোতায়েন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও মেরিন বাহিনী স্থল ও সমুদ্র—উভয় ক্ষেত্রেই অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে যুদ্ধক্ষেত্রে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং শিগগিরই সংঘাত শেষ করার তেমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ফ্রান্স ও ইতালির আলোচনা শুরু: এফটি
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ফ্রান্স ও ইতালি।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজনের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুনরায় চালু করার উপায় খুঁজছে ইউরোপীয় দেশগুলো। তবে এই আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
তবে আল জাজিরা স্বাধীনভাবে এই প্রতিবেদন যাচাই করতে পারেনি।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ রাখতে একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে ফ্রান্স। ফরাসি দুই কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজকে যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপ, এশিয়া এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে ফ্রান্স।
জার্মানিভিত্তিক সিইএসআইফো গবেষণা নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং এলএনজির প্রায় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে।
ইরাকে মার্কিন দূতাবাসের হেলিপ্যাডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একটি হেলিপ্যাডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন দেশটির একজন কর্মকর্তারা।
এর আগে আল জাজিরা এরাবিকের এক প্রতিবেদক জানান, হামলার পর দূতাবাস এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলার সময় সেখানে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেনও বেজে ওঠে।
ইসরায়েলের উত্তর গালিলি অঞ্চলে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের গালিলি অঞ্চলে কফার গিলাদি, কফার ইউভাল ও মেতুলা এলাকায় রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২২ মিনিটে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে।
এর আগে, ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর এক্স পোস্টে শুক্রবার সকালে 'আপার গালিলি' এলাকায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গাড়ির ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের তেল স্থাপনায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামো ছাই বানিয়ে দেওয়া হবে: ইরান
খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার দাবির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে মুখপাত্র বলেন, ইরানের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে "অঞ্চলজুড়ে যেসব তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় মার্কিন অংশীদারিত্ব রয়েছে বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে—সেগুলোকে ধ্বংস করে ছাইয়ে পরিণত করা হবে।"
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে এবং প্রয়োজনে সেখানে তেল অবকাঠামোতেও হামলা করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
'যতদিন প্রয়োজন ততদিনই চলবে'—ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প
ইরানের খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার কিছুক্ষণ আগে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এ সময় তাকে 'যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হতে পারে?'–জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, "আমি আপনাদের তা বলতে পারি না।"
তিনি বলেন, "আমার নিজের একটা ধারণা আছে, কিন্তু সেটা বলে কী লাভ? যতদিন প্রয়োজন ততদিনই চলবে। তারা (ইরান) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
ট্রাম্প আগেও বলেছেন, ইরান যদি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে তাহলে যুদ্ধ শেষ হতে পারে। আত্মসমর্পণ বলতে তিনি বোঝাচ্ছেন—ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সামরিক শক্তির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়া।
তিনি বলেন, "খুব সহজভাবে বললে, আমরা এমন এক প্রভাবশালী অবস্থানে আছি যা আগে কেউ দেখেনি।"
ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার লক্ষ্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একই কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "সম্ভবত কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে তিনি আপনাকে বলবেন—যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তি আগে কখনো ছিল না।"
খারগ দ্বীপ কোথায় এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের খারগ দ্বীপে থাকা সব সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে।
খারগ হলো ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত ছোট একটি দ্বীপ, যার দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ মাইল।
দ্বীপটিকে ইরানের 'অয়েল লাইফলাইন' বা 'তেলের জীবনরেখা' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সেখানে স্থায়ী বাসিন্দা খুব কম থাকলেও ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানিযোগ্য অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়। বড় বড় তেলবাহী ট্যাংকার ইরানের বিভিন্ন এলাকা থেকে তেল এনে এই দ্বীপে জমা করে। এরপর সেখান থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়, যার বড় একটি অংশ যায় চীনে। ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাই হলো চীন।
এই দ্বীপে প্রবেশ বা ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেলে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদন জানায়, খারগ দ্বীপ দখলে নিতে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের খারগ দ্বীপে বোমা হামলার দাবি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালিয়েছে। ফ্লোরিডার উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার কিছুক্ষণ পর ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
ট্রাম্প বলেন, "মাত্র কিছুক্ষণ আগে যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা পরিচালনা করেছে এবং ইরানের 'ক্রাউন জুয়েল' খারগ দ্বীপে থাকা সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমি দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।"
ট্রাম্প ইরানকে অস্ত্র ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "তাদের দেশের যা অবশিষ্ট আছে—যা খুব বেশি নয়—তা বাঁচানোর জন্যই এটি করা উচিত।"
ইরানের নেতাদের ধরিয়ে দিতে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর "গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের" সম্পর্কে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার (প্রায় ৭৬ লাখ পাউন্ড) পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা এক নোটিশে মোট ১০ জন ব্যক্তির উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তাদের মধ্যে নাম প্রকাশ করা হয়েছে ছয়জনের।
ওই তালিকায় নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানির নাম রয়েছে। এর আগে তেহরানে সরকারপন্থী এক সমাবেশে লারিজানিকে দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা ইরানের আইআরজিসির সামরিক শাখার বিভিন্ন অংশের নেতৃত্ব ও নির্দেশনা দেন।
ইসরায়েলের দিকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির দিকে লক্ষ্য করে ফের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। ফলে ইসরায়েলের সম্ভাব্য আক্রান্ত এলাকাগুলোয় জনগণকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে মধ্যরাতের দিকে একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যখন ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যৌথভাবে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়।
খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলায় বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সাইরেন বেজে ওঠে এবং মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়।
