একদিকে ট্রাম্পের মুখে আলোচনার কথা, অন্যদিকে ইরানে আক্রমণের তীব্রতা বাড়াচ্ছে ইসরায়েল
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল হামলা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে আসার সম্ভাবনা দ্রুত কমছে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা। দু-পক্ষই এখন উত্তেজনা বাড়ানোর দিকে বেশি ঝুঁকছে।
আল জাজিরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ-এর বিশ্লেষক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতি থেকে স্পষ্ট যে, কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে যুদ্ধরত দুই শিবির। তার কথায়, 'উত্তেজনার পারদ যত চড়বে, যেকোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতায় পৌঁছনো ততই কঠিন হয়ে পড়বে।'
এলমাসরি মন্তব্য করেন, ইসরায়েলই এই উত্তেজনা সচেতনভাবে বাড়িয়ে চলেছে। তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়, ইসরায়েল আদতে কোনো আপস চাইছেই না। তারা যুদ্ধও থামাতে চায় না।'
প্রমাণ হিসেবে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোগুলোর উপরে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার দিকে আঙুল তোলেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া (হামলা স্থগিতের) প্রতিশ্রুতি ভেঙে ইরানের ইস্পাত কারখানা ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল।
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক জায়গায় হামলার মাত্রা ক্রমশ বাড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। ফলে সংঘাত আগামী দিনে আরও ভয়াবহ চেহারা নিতে পারে বলে সতর্ক করেন এলমাসরি। তার আশঙ্কা, 'চুক্তির দিকে এগোনোর বদলে আমরা সম্ভবত আরও বড় কোনো সংঘাতের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।'
এই বিশ্লেষণ আরও বলেন, 'আমেরিকার ১৫ দফা প্রস্তাবটি যদি দেখেন, সেটি আদতে একটি আত্মসমর্পণের দলিলের মতো। অন্যদিকে রয়েছে ইরানের ৫ দফার প্রস্তাব। এই দুটি প্রস্তাব দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়, দুই শিবিরের অবস্থান পরস্পর থেকে ঠিক কতটা দূরে।'
