ইরানের সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের খরচ ৮৯০ মিলিয়ন ডলার
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও এর শেষ কোথায়, তা এখনো অনিশ্চিত। এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—মার্কিন করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত এই 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র পেছনে আসলে কত ব্যয় হচ্ছে?
পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই অভিযানের ব্যয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব জানায়নি। এমনকি যুদ্ধের খরচ মেটাতে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত কোনো বিশেষ বরাদ্দের আবেদনও এখনো করেনি তারা।
ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজ-এর 'ন্যাশনাল প্রায়োরিটিস প্রজেক্ট'-এর পরিচালক লিন্ডসে কোশগারিয়ান বলেন, 'এই পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর প্রকৃত ব্যয় জানা সম্ভব নয়।' তিনি এই যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, এই অর্থ দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য অন্যান্য জনকল্যাণমূলক নীতি গ্রহণ করা সম্ভব ছিল।
ইরাক যুদ্ধের উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, 'ইরাক যুদ্ধের ব্যয় শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে ঠেকেছিল। ফলে এই যুদ্ধের খরচও খুব সহজেই আকাশচুম্বী হয়ে উঠতে পারে।'
প্রতিদিন খরচ হচ্ছে ৮৯০ মিলিয়ন ডলারের বেশি
ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি থিঙ্ক ট্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পেন্টাগনের দেওয়া তথ্য (আক্রান্ত লক্ষ্যবস্তু এবং অভিযানে ব্যবহৃত সরঞ্জাম) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, এই যুদ্ধে প্রতিদিন প্রায় ৮৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার ব্যয় হচ্ছে।
তবে 'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ' (সিএসআইএস) মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ব্যয়বহুল অস্ত্রের পরিবর্তে 'সাশ্রয়ী গোলাবারুদ' ব্যবহার শুরু করবে এবং ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কমে আসবে, তখন এই খরচ কিছুটা কমে আসবে। সিএসআইএস তাদের প্রতিবেদনে যোগ করেছে, "ভবিষ্যৎ ব্যয় মূলত নির্ভর করবে অভিযানের তীব্রতা এবং ইরানের পাল্টা হামলার কার্যকারিতার ওপর।'
ব্যয়ের প্রধান খাতসমূহ
সিএসআইএস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিমান, নৌ ও স্থল অভিযানই হবে খরচের প্রধান উৎস। প্রতিদিন বিমান অভিযানে ৩০ মিলিয়ন ডলার এবং নৌ অভিযানে ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, স্থল অভিযানে দৈনিক খরচ হতে পারে ১৬ লাখ ডলার।
২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার' নামে যে হামলা চালানো হয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমান অভিযানের খরচ অনেক বেশি। গত শনিবার ভোরে শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই ব্যয় হয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, গত বছরের সেই অভিযান স্থায়ী হয়েছিল মাত্র আড়াই ঘণ্টা।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির 'কস্টস অব ওয়ার' প্রজেক্টের গবেষণা অনুযায়ী, গত বছরের ওই হামলায় ২.০৪ থেকে ২.২৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল। ওই অভিযানে প্রধান খরচের খাত ছিল ৪০টি এমওপি (৩০ হাজার পাউন্ডের বোমা), ৭টি বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান এবং ২৪টি টমাহক মিসাইল।
মোট খরচ হতে পারে ৯৫ বিলিয়ন ডলার
এই অভিযান কতদিন চলবে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কখনো দুই সপ্তাহ, কখনো চার বা ছয় সপ্তাহের কথা বলছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, 'আমরা কেবল শুরু করেছি।' তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন বাহিনী তাদের অভিযানের গতি আরও বাড়াবে।
পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের ফ্যাকাল্টি ডিরেক্টর কেন্ট স্মেটার্স বলেন, যুদ্ধের ধরন এবং গোলাবারুদ সরবরাহের গতির ওপর ভিত্তি করে দুই মাসের এই যুদ্ধে ৪০ থেকে ৯৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। তবে তিনি একটি ভিন্ন যুক্তিও তুলে ধরেন। স্মেটার্স বলেন, 'আজ আমরা যে বিনিয়োগের কথা বলছি, তা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা ব্যবহারের ফলে হতে যাওয়া ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় নগণ্য।' তার মতে, ইরান পারমাণবিক শক্তিধর হলে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারত।
