ইরান যুদ্ধ আরও খারাপের দিকে যেতে পারে, সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো কী?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পূর্বাভাসের চেয়ে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ইতোমধ্যে লেবানন ও সাইপ্রাস এতে জড়িয়ে পড়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে বেসামরিক অবকাঠামোতেও আঘাত করেছে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র। খবর বিবিসির।
তবু পরিস্থিতি আরও অবনতির ঝুঁকি রয়ে গেছে। সম্ভাব্য কয়েকটি দৃশ্যপট:
১) আরও বড় পরিসরে সামরিক অভিযান
যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে ইরানের ওপর আরও বড় আঘাত আসতে পারে। এতে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়বে এবং বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
২) লক্ষ্যবস্তু হতে পানি সরবরাহের অবকাঠামো
উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টগুলো আরব দেশগুলোর জনসংখ্যার পানীয় জলের প্রধান উৎস। এগুলোতে হামলা হলে তা তাৎক্ষণিক মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে এই আশঙ্কা ব্যাপক। আবুধাবিতে দিনের বেলার তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে রয়েছে।
৩) তেল-গ্যাস স্থাপনায় আঘাত
২০১৯ সালে সৌদি আরামকো–এর স্থাপনায় ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি সাময়িকভাবে অর্ধেকে নেমে এসেছিল। তেমন হামলার পুনরাবৃত্তি হলে জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ সংকট বাড়তে পারে।
৪) সাইবার হামলার ঢেউ
সরাসরি সামরিক আঘাতের পাশাপাশি সাইবার আক্রমণও বাড়তে পারে—শুধু ইরানের প্রতিবেশী আরব দেশ নয়, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও এর লক্ষ্য হতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য সরকার কোম্পানিগুলোকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
