যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার আহ্বান
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখনই দেশটিতে সামরিক হামলার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও তিনি যুদ্ধের পথ খোলা রেখেছেন। জেনেভায় কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ার পর গতকাল শুক্রবার প্রথমবারের মতো এ নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'আমাদের যা প্রয়োজন, ইরান তা দিতে রাজি হচ্ছে না। এতে আমি মোটেও খুশি নই।' তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইচ্ছা নেই বললেও ট্রাম্প যোগ করেন, 'মাঝেমধ্যে হামলা করতে হয়।'
ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশ মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করতে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে তেহরানে তাদের দূতাবাস থেকে সাময়িকভাবে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েল ভ্রমণেও সতর্কতা জারি করেছে দেশটি।
চীন, ভারত ও কানাডাও তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। ফ্রান্স ও জার্মানি তাদের নাগরিকদের ইসরায়েল ভ্রমণে 'জরুরি' সতর্কতা দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের ইরান থেকে 'অবিলম্বে' চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি ইসরায়েলে থাকা দূতাবাসের কর্মীদেরও বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকতেই দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের দাবি, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই এ দাবি অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পরমাণু কর্মসূচি কেবল বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য। যদিও দেশটি ইতিমধ্যে অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। এ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, 'আমি কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চাই না। এটি অসভ্যতা।'
গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে 'উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি' হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবুসাইদি। তবে এই অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটাতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
দুই দেশই খুব দ্রুত আবারও আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছে। আগামী সপ্তাহে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি এখনো তাদের বিবেচনায় রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী বা টানা কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না। ভ্যান্স বলেন, 'আমরা সবাই কূটনৈতিক সমাধানই পছন্দ করি। তবে সবকিছু নির্ভর করছে ইরানিরা কী বলছে এবং কী করছে তার ওপর।'
মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশাল নৌবহর 'আর্মাডাতে' দুটি বিমানবাহী রণতরি, বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান রয়েছে।
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে—তা আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, 'আমাদের একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, নতুবা খুব খারাপ কিছু ঘটবে।'
