খুন হওয়া স্বামীর মৃত্যুশোক কাটাতে লিখেছিলেন ছোটদের বই; সেই খুনের দায়েই বিচারের মুখোমুখি মার্কিন নারী
স্বামীর মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর তিন সন্তানকে সান্ত্বনা দিতে একটি শিশুতোষ বই লিখেছিলেন মার্কিন নারী কুরি রিচিনস। বইটির বিষয় ছিল—কীভাবে প্রিয়জনের শোক কাটিয়ে ওঠা যায়। অথচ সেই বই প্রকাশের এক মাস পরই নিজের স্বামীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার শুরু হচ্ছে সোমবার।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২২ সালে কুরি তাঁর সাবেক স্বামী এরিক রিচিনসকে 'ফেন্টানিল' (একধরনের শক্তিশালী মাদক) নামের বিষাক্ত উপাদানের প্রাণঘাতী ডোজ খাইয়ে হত্যা করেছেন। শুধু তা–ই নয়, এরিক মারা যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে ভালোবাসা দিবসেও তাঁকে একবার বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন কুরি।
প্রসিকিউটরদের দাবি, মূলত বীমার অর্থ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পেতে এবং প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতেই এরিককে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই নারী।
কুরি রিচিনস অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বীমা জালিয়াতি ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
২০২২ সালের মার্চে সল্টলেক সিটির অদূরে কামাস এলাকায় নিজের শোয়ার ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ৩৯ বছর বয়সী এরিক রিচিনসকে। তদন্তকারীদের দেওয়া কুরির বয়ান অনুযায়ী, সেদিন রাতে নিজের রিয়েল এস্টেট ব্যবসার একটি সাফল্য উদ্যাপনে স্বামীর জন্য 'ককটেল' বানিয়েছিলেন তিনি। কুরি জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর এক ছেলে ভয়ের স্বপ্ন দেখছিল বলে তিনি ছেলের ঘরে ঘুমাতে যান। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে নিজের শোয়ার ঘরে ফিরে এরিককে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
রাত ৩টা ২১ মিনিটে কুরি জরুরি সেবা ৯১১-এ ফোন করেন। প্রথম সাড়াদানকারীরা যখন পৌঁছান, তাঁদের কাছে মনে হয়েছিল এরিক বেশ অনেকক্ষণ আগেই মারা গেছেন। কুরি দাবি করেছিলেন, তিনি ফোনটি শোয়ার ঘরেই ফেলে গিয়েছিলেন এবং স্বামীকে মৃত দেখামাত্রই ৯১১-এ ফোন করেছেন।
তবে প্রসিকিউটররা বলছেন, কুরির ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, রাত ৩টা ২১ মিনিটে জরুরি ফোন করার ঠিক ১৫ মিনিট আগেই তাঁর ফোনটি অন্তত ছয়বার আনলক করা হয়েছিল।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, এরিক রিচিনস মারা গেছেন ফেন্টানিলের ওভারডোজে। তাঁর রক্তে সাধারণ প্রাণঘাতী মাত্রার চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি ফেন্টানিল পাওয়া গেছে।
কুরি রিচিনস তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছিলেন, তাঁর স্বামী মাঝেমধ্যে ঘুমের আগে 'টিএইচসি গামিজ' (একধরনের ক্যান্ডি) খেতেন। কুরির ধারণা ছিল, হয়তো ওই ক্যান্ডিতেই ফেন্টানিল মেশানো ছিল। তবে এরিকের শরীরে কোনো টিএইচসি পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁদের বাড়িতে থাকা ক্যান্ডিগুলো পরীক্ষা করেও কোনো ফেন্টানিল খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা।
তবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ২০২২ সালের শুরুর দিকে কুরি তাঁর বাড়ির পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাছে 'ফেন্টানিল' চেয়েছিলেন। ওই নারী জানান, সে বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫টি ফেন্টানিল বড়ি কিনে কুরিকে দেন।
এর কয়েক দিন পরই ছিল ভালোবাসা দিবস। প্রসিকিউটরদের দাবি, সেদিন নিজের 'প্রেমিকের' সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে স্বামীর জন্য একটি স্যান্ডউইচ ও একটি চিরকুট রেখে যান কুরি। স্যান্ডউইচটি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই এরিক তাঁর স্ত্রীকে খুদে বার্তায় লেখেন, 'আমি একটু শুতে যাচ্ছি। শরীর ভালো না লাগলে হাসপাতালে যাব।'
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন এরিক তাঁর দুই বন্ধুকে বলেছিলেন স্যান্ডউইচটি খাওয়ার পর তাঁর মনে হচ্ছে তিনি মারা যাবেন। এক বন্ধুকে এরিক সরাসরি বলেছিলেন, 'আমার মনে হয় আমার স্ত্রী আমাকে বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে।' অন্য বন্ধুকে এরিক জানিয়েছিলেন, স্যান্ডউইচ খাওয়ার পর তাঁর সারা শরীরে অ্যালার্জি ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন তিনি ইনজেকশন ও ওষুধ খেয়ে কোনোমতে রক্ষা পান। বন্ধুদের তিনি বলেছিলেন, 'সেদিন অল্পের জন্য বেঁচে ফিরেছি।'
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে কুরি ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাছে আবারও ফেন্টানিল চান। এবার তিনি আরও শক্তিশালী ড্রাগ দাবি করেন। ওই নারী তদন্তকারীদের জানান, কুরি তাঁর কাছে 'মাইকেল জ্যাকসনের সেই জিনিসটা' চেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন 'প্রপোফল' নামের এক ড্রাগের অতিরিক্ত সেবনে মারা গিয়েছিলেন।
প্রসিকিউটররা জানান, ওই নারী ২৬ ফেব্রুয়ারি আবারও একই মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ওষুধ কেনেন। এর ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় এরিক রিচিনস মারা যান।
তদন্তে দেখা গেছে, কুরি তাঁর ফোন থেকে ওই নারীর সঙ্গে করা অন্তত ৮০০টি বার্তা নিজ হাতে মুছে ফেলেছেন। শুধু তা–ই নয়, স্বামীর মৃত্যুর কারণ জানার পর তিনি ইন্টারনেটে নিয়মিত 'ইউটার নারী কারাগার', 'জীবন বীমার অর্থ প্রদান' এবং 'পুলিশ কীভাবে মুছে ফেলা তথ্য উদ্ধার করে'—এমন সব বিষয় সার্চ করেছিলেন।
সে বছরের মাঝামাঝি সময়ে কুরির ফোন থেকে গুগল সার্চ করা হয়েছিল—'কাউকে বিষ খাইয়ে মারা হলে মৃত্যুসনদে কী লেখা থাকে?' কুরির তৎকালীন আইনজীবী অবশ্য দাবি করেছিলেন, তদন্ত চলার কারণে কুরি কৌতূহলবশত এসব বিষয় সার্চ করেছিলেন, খুনের উদ্দেশ্যে নয়।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এরিক রিচিনসের লাভজনক ব্যবসা এবং জীবন বীমার বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতেই তাঁকে হত্যা করেছেন কুরি। নিজের ডুবতে বসা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য কুরির ওই অর্থের খুব প্রয়োজন ছিল।
আদালতের নথিতে বলা হয়, কুরি তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে একটি সাজানো ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি জানতেন, এরিকের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হলে তিনি না পাবেন ব্যবসার ভাগ, না পাবেন সন্তানদের দায়িত্ব। এর চেয়ে এরিকের মৃত্যু তাঁর জন্য অনেক বেশি লাভজনক ছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এক বন্ধুকে কুরি বলেছিলেন, তিনি এই বৈবাহিক জীবনে আটকে গেছেন। এরিক মারা গেলেই তাঁর জন্য বরং ভালো হতো—এমন মন্তব্যও করেছিলেন তিনি।
এরিক যেদিন মারা যান, তখন তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ লাখ ডলার। অন্যদিকে কুরি তখন চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। এরিকের নামে ২০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের কয়েকটি জীবন বীমা পলিসি ছিল। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে জালিয়াতি করে একটি বীমার আবেদন করেছিলেন কুরি।
তবে কুরি ঘুণাক্ষরেও জানতেন না যে এরিক আগেই সতর্ক হয়েছিলেন। ২০২০ সালেই তিনি আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে নিজের সব সম্পদ থেকে স্ত্রীকে বাদ দিয়ে দেন। এরিক তাঁর আইনজীবীকে বলেছিলেন, কুরি তাঁর অর্থের অপব্যবহার করছেন। তাই নিজের ও তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে বোনকে সম্পত্তির ট্রাস্টি নিয়োগ করেন তিনি। এমনকি ৫ লাখ ডলারের একটি জীবন বীমা থেকেও কুরির নাম সরিয়ে দেন এরিক। স্বামীর মৃত্যুর পর যখন সম্পদের হিসাব সামনে আসে, তখনই কুরি প্রথম জানতে পারেন যে তিনি কানাকড়িও পাচ্ছেন না।
স্বামীর মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর তিন সন্তানকে সান্ত্বনা দিতে একটি শিশুতোষ বই লিখেছিলেন মার্কিন নারী কুরি রিচিনস। বইটির বিষয় ছিল—কীভাবে প্রিয়জনের শোক কাটিয়ে ওঠা যায়। অথচ সেই বই প্রকাশের এক মাস পরই নিজের স্বামীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার শুরু হচ্ছে সোমবার।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২২ সালে কুরি তাঁর সাবেক স্বামী এরিক রিচিনসকে 'ফেন্টানিল' (একধরনের শক্তিশালী মাদক) নামের বিষাক্ত উপাদানের প্রাণঘাতী ডোজ খাইয়ে হত্যা করেছেন। শুধু তা–ই নয়, এরিক মারা যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে ভালোবাসা দিবসেও তাঁকে একবার বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন কুরি।
প্রসিকিউটরদের দাবি, মূলত বীমার অর্থ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পেতে এবং প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতেই এরিককে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই নারী।
কুরি রিচিনস অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বীমা জালিয়াতি ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
২০২২ সালের মার্চে সল্টলেক সিটির অদূরে কামাস এলাকায় নিজের শোয়ার ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ৩৯ বছর বয়সী এরিক রিচিনসকে। তদন্তকারীদের দেওয়া কুরির বয়ান অনুযায়ী, সেদিন রাতে নিজের রিয়েল এস্টেট ব্যবসার একটি সাফল্য উদ্যাপনে স্বামীর জন্য 'ককটেল' বানিয়েছিলেন তিনি। কুরি জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর এক ছেলে ভয়ের স্বপ্ন দেখছিল বলে তিনি ছেলের ঘরে ঘুমাতে যান। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে নিজের শোয়ার ঘরে ফিরে এরিককে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
রাত ৩টা ২১ মিনিটে কুরি জরুরি সেবা ৯১১-এ ফোন করেন। প্রথম সাড়াদানকারীরা যখন পৌঁছান, তাঁদের কাছে মনে হয়েছিল এরিক বেশ অনেকক্ষণ আগেই মারা গেছেন। কুরি দাবি করেছিলেন, তিনি ফোনটি শোয়ার ঘরেই ফেলে গিয়েছিলেন এবং স্বামীকে মৃত দেখামাত্রই ৯১১-এ ফোন করেছেন।
তবে প্রসিকিউটররা বলছেন, কুরির ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, রাত ৩টা ২১ মিনিটে জরুরি ফোন করার ঠিক ১৫ মিনিট আগেই তাঁর ফোনটি অন্তত ছয়বার আনলক করা হয়েছিল।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, এরিক রিচিনস মারা গেছেন ফেন্টানিলের ওভারডোজে। তাঁর রক্তে সাধারণ প্রাণঘাতী মাত্রার চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি ফেন্টানিল পাওয়া গেছে।
কুরি রিচিনস তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছিলেন, তাঁর স্বামী মাঝেমধ্যে ঘুমের আগে 'টিএইচসি গামিজ' (একধরনের ক্যান্ডি) খেতেন। কুরির ধারণা ছিল, হয়তো ওই ক্যান্ডিতেই ফেন্টানিল মেশানো ছিল। তবে এরিকের শরীরে কোনো টিএইচসি পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁদের বাড়িতে থাকা ক্যান্ডিগুলো পরীক্ষা করেও কোনো ফেন্টানিল খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা।
তবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ২০২২ সালের শুরুর দিকে কুরি তাঁর বাড়ির পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাছে 'ফেন্টানিল' চেয়েছিলেন। ওই নারী জানান, সে বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫টি ফেন্টানিল বড়ি কিনে কুরিকে দেন।
এর কয়েক দিন পরই ছিল ভালোবাসা দিবস। প্রসিকিউটরদের দাবি, সেদিন নিজের 'প্রেমিকের' সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে স্বামীর জন্য একটি স্যান্ডউইচ ও একটি চিরকুট রেখে যান কুরি। স্যান্ডউইচটি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই এরিক তাঁর স্ত্রীকে খুদে বার্তায় লেখেন, 'আমি একটু শুতে যাচ্ছি। শরীর ভালো না লাগলে হাসপাতালে যাব।'
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন এরিক তাঁর দুই বন্ধুকে বলেছিলেন স্যান্ডউইচটি খাওয়ার পর তাঁর মনে হচ্ছে তিনি মারা যাবেন। এক বন্ধুকে এরিক সরাসরি বলেছিলেন, 'আমার মনে হয় আমার স্ত্রী আমাকে বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে।' অন্য বন্ধুকে এরিক জানিয়েছিলেন, স্যান্ডউইচ খাওয়ার পর তাঁর সারা শরীরে অ্যালার্জি ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন তিনি ইনজেকশন ও ওষুধ খেয়ে কোনোমতে রক্ষা পান। বন্ধুদের তিনি বলেছিলেন, 'সেদিন অল্পের জন্য বেঁচে ফিরেছি।'
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে কুরি ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাছে আবারও ফেন্টানিল চান। এবার তিনি আরও শক্তিশালী ড্রাগ দাবি করেন। ওই নারী তদন্তকারীদের জানান, কুরি তাঁর কাছে 'মাইকেল জ্যাকসনের সেই জিনিসটা' চেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন 'প্রপোফল' নামের এক ড্রাগের অতিরিক্ত সেবনে মারা গিয়েছিলেন।
প্রসিকিউটররা জানান, ওই নারী ২৬ ফেব্রুয়ারি আবারও একই মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ওষুধ কেনেন। এর ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় এরিক রিচিনস মারা যান।
তদন্তে দেখা গেছে, কুরি তাঁর ফোন থেকে ওই নারীর সঙ্গে করা অন্তত ৮০০টি বার্তা নিজ হাতে মুছে ফেলেছেন। শুধু তা–ই নয়, স্বামীর মৃত্যুর কারণ জানার পর তিনি ইন্টারনেটে নিয়মিত 'ইউটার নারী কারাগার', 'জীবন বীমার অর্থ প্রদান' এবং 'পুলিশ কীভাবে মুছে ফেলা তথ্য উদ্ধার করে'—এমন সব বিষয় সার্চ করেছিলেন।
সে বছরের মাঝামাঝি সময়ে কুরির ফোন থেকে গুগল সার্চ করা হয়েছিল—'কাউকে বিষ খাইয়ে মারা হলে মৃত্যুসনদে কী লেখা থাকে?' কুরির তৎকালীন আইনজীবী অবশ্য দাবি করেছিলেন, তদন্ত চলার কারণে কুরি কৌতূহলবশত এসব বিষয় সার্চ করেছিলেন, খুনের উদ্দেশ্যে নয়।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এরিক রিচিনসের লাভজনক ব্যবসা এবং জীবন বীমার বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতেই তাঁকে হত্যা করেছেন কুরি। নিজের ডুবতে বসা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য কুরির ওই অর্থের খুব প্রয়োজন ছিল।
আদালতের নথিতে বলা হয়, কুরি তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে একটি সাজানো ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি জানতেন, এরিকের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হলে তিনি না পাবেন ব্যবসার ভাগ, না পাবেন সন্তানদের দায়িত্ব। এর চেয়ে এরিকের মৃত্যু তাঁর জন্য অনেক বেশি লাভজনক ছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এক বন্ধুকে কুরি বলেছিলেন, তিনি এই বৈবাহিক জীবনে আটকে গেছেন। এরিক মারা গেলেই তাঁর জন্য বরং ভালো হতো—এমন মন্তব্যও করেছিলেন তিনি।
এরিক যেদিন মারা যান, তখন তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ লাখ ডলার। অন্যদিকে কুরি তখন চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। এরিকের নামে ২০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের কয়েকটি জীবন বীমা পলিসি ছিল। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে জালিয়াতি করে একটি বীমার আবেদন করেছিলেন কুরি।
তবে কুরি ঘুণাক্ষরেও জানতেন না যে এরিক আগেই সতর্ক হয়েছিলেন। ২০২০ সালেই তিনি আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে নিজের সব সম্পদ থেকে স্ত্রীকে বাদ দিয়ে দেন। এরিক তাঁর আইনজীবীকে বলেছিলেন, কুরি তাঁর অর্থের অপব্যবহার করছেন। তাই নিজের ও তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে বোনকে সম্পত্তির ট্রাস্টি নিয়োগ করেন তিনি। এমনকি ৫ লাখ ডলারের একটি জীবন বীমা থেকেও কুরির নাম সরিয়ে দেন এরিক। স্বামীর মৃত্যুর পর যখন সম্পদের হিসাব সামনে আসে, তখনই কুরি প্রথম জানতে পারেন যে তিনি কানাকড়িও পাচ্ছেন না।
এদিকে যে মাদক ব্যবসায়ীর দেওয়া ফেন্টানিলে এরিকের মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল, সেই ব্যবসায়ী এখন তাঁর আগের জবানবন্দি বদলে ফেলেন।
২০২৩ সালে ওই মাদক ব্যবসায়ী তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, তিনি কুরির বাড়ির পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাছে ফেন্টানিল বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু গত বছর তিনি তাঁর আগের কথা অস্বীকার করে বসেন। নতুন বক্তব্যে তিনি বলেন, সেটি আসলে ফেন্টানিল ছিল না, অন্য কোনো ওষুধ ছিল।
কুরির আইনজীবীদের মতে, 'রাষ্ট্রপক্ষ যদি কুরির হাতে ফেন্টানিল পৌঁছানোর বিষয়টিই প্রমাণ করতে না পারে, তবে এই মামলার আর কোনো ভিত্তি থাকে না। অবশ্য রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউটররা দাবি করেছেন, মাদক ব্যবসায়ীর এই নতুন বক্তব্য মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, জুরি যদি ব্যবসায়ীর এই দাবি আমলে নেনও, তবুও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে কুরিকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হবে।
