যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিলের পর বাণিজ্য আলোচনা পেছাল ভারত
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন দেশের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিল করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে নির্ধারিত বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা স্থগিত করেছে।
আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত মার্কিন শুল্ক নীতি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ের পর এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকেই প্রথম এমন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক বাতিলের রায় দেওয়ার পর, শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হারে অস্থায়ী শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
মূলত ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পরই ভারত তাদের প্রতিনিধি দলের সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্রটি জানায়, দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর সফর স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফরের জন্য নতুন কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, গত শুক্রবারের আদালতের রায়ের পর শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, মূলত সেটিই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলটির রোববারই ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জেরে ভারতের কিছু রফতানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল, তা কমানোর বিষয়ে উভয় দেশ আগে একটি কাঠামোতে একমত হয়েছিল। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল সেই সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করা।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার কথা ছিল। এর বিনিময়ে ভারত আগামী পাঁচ বছরে জ্বালানি সম্পদ, উড়োজাহাজ ও এর যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু এবং প্রযুক্তি পণ্যসহ প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য আমদানিতে সম্মত হয়েছিল।
তবে এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি আপাতত স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটি পুরো বিষয়টি নিয়ে পুনরায় আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে আদালতের রায়ের আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আদালতের রায় এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ঘোষণাগুলোর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, প্রতিনিধি দলের ওয়াশিংটন সফরে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান হয়ে গেলে আগামী এপ্রিল মাস থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন এই চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে।
