রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন, পুতিনও ছিলেন লক্ষ্যবস্তু
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে একটি বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছিলেন।
সময়টা ছিল ২০১৮ সালের জুন। তার প্রায় এক বছর আগে জাতিসংঘে রাশিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন হঠাৎ মারা যান। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) প্রকাশিত নতুন নথি অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অবস্থানকালে চুরকিনের সঙ্গে এপস্টেইন নিয়মিত সাক্ষাৎ করতেন। এমনকি চুরকিনের ছেলে ম্যাক্সিমকে নিউইয়র্কের একটি সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন এপস্টেইন।
চুরকিনের মৃত্যুর পর এপস্টেইন নজর দেন আরেক শীর্ষ রুশ কর্মকর্তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এর দিকে। ২০১৮ সালের ২৪ জুন তিনি নরওয়ের রাজনীতিক থরবিয়র্ন ইয়াগল্যান্ডকে ই-মেইল করেন। ইয়াগল্যান্ড তখন কাউন্সিল অব ইউরোপের মহাসচিব। ই-মেইলে এপস্টেইন লেখেন, "আমার মনে হয় আপনি পুতিনকে প্রস্তাব দিতে পারেন, যাতে ল্যাভরভ আমার সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে ধারণা পান। ভিতালি চুরকিন আগে করতেন, কিন্তু তিনি মারা গেছেন?!"
ইয়াগল্যান্ড জবাবে জানান, তিনি পরের সোমবার ল্যাভরভের এক সহকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং বিষয়টি উত্থাপন করবেন।
এরপর এপস্টিন জবাবে লেখেন, "চুরকিন অসাধারণ ছিলেন। আমাদের কথোপকথনের পর তিনি ট্রাম্পকে বুঝতেন। বিষয়টা জটিল নয়। তাকে এমনভাবে দেখাতে হবে যেন সে কিছু পাচ্ছে—ব্যাপারটা এতটাই সহজ।"
রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ থেকে নারী মডেল খোঁজার ক্ষেত্রে এপস্টেইনের আগ্রহ আগে থেকেই জানা থাকলেও, মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত সর্বশেষ নথিগুলো রুশ শীর্ষ কর্মকর্তাদের—এমনকি পুতিন পর্যন্ত—ঘনিষ্ঠ হওয়ার তার প্রচেষ্টার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। নথিগুলোতে দেখা যায়, তিনি একাধিকবার পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিকদের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ সংক্রান্ত নতুন নথি প্রকাশের পর তার উদ্দেশ্য নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। এ সপ্তাহে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে এপস্টেইনের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে তার দেশ তদন্ত শুরু করবে।
টাস্ক বলেন, "ক্রমশ আরও সূত্র, আরও তথ্য এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমে আরও মন্তব্য সামনে আসছে—যেগুলো এই নজিরবিহীন শিশুদের যৌন শোষণের কেলেঙ্কারিকে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় সংগঠিত হওয়ার সন্দেহকে শক্তিশালী করছে।"
তিনি আরও বলেন, "রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই অপারেশনটি সহ-সংগঠিত করেছে—এমন সম্ভাবনা ক্রমেই বাস্তব হয়ে উঠছে, যা পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুতর। এর অর্থ হলো, তাদের হাতে এখনো সক্রিয় বহু রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আপত্তিকর তথ্য থাকতে পারে।"
তবে ক্রেমলিন এপস্টেইনকে রুশ গুপ্তচর বলে যে ধারণা উঠেছে, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার বলেন, "এপস্টেইন রুশ গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রণে ছিলেন—এই তত্ত্ব যেকোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, তবে সিরিয়াসভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।" তিনি সাংবাদিকদের এ ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে "সময় নষ্ট না করার" আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকেরা সিএনএনকে বলেছেন, নথিগুলো মূলত এপস্টেইনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে থাকার এবং নিজেকে তার একধরনের ভূরাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাধর হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা ছাড়া খুব বেশি কিছু প্রমাণ করে না।
তাছাড়া এপস্টেইন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সত্যিই কখনো যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন—নথিগুলোয় এমন কোনো প্রমাণও দেখা যায় না।
নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৯ মে এপস্টেইন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাককে লেখেন যে, ইয়াগল্যান্ড ২০ মে সোচিতে পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। ইয়াগল্যান্ড জানতে চেয়েছেন, রাশিয়ায় পশ্চিমা বিনিয়োগ আকর্ষণের কাঠামো কীভাবে তৈরি করা যায়—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে এপস্টেইন পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি আছেন কি-না।
এপস্টেইন ওই ই-মেইলে যোগ করেন, "আমি কখনো তার সঙ্গে দেখা করিনি—আপনাকে এটা জানাতে চেয়েছিলাম।"
এর কয়েক দিন পর, ২০১৩ সালের ১৪ মে ইয়াগল্যান্ড এপস্টেইনকে জানান, তিনি পুতিনের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেবেন যে, এপস্টিন কাজে লাগতে পারেন। ইয়াগল্যান্ড লেখেন, "আমার এমন একজন বন্ধু আছে, যে আপনাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করতে পারে (এবং পরে আপনার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে)।"
জবাবে এপস্টেইন লেখেন, "তিনি এমন এক অনন্য অবস্থানে আছেন, যেখানে তিনি স্পেস রেসে স্পুতনিকের মতো কিছু অসাধারণ করতে পারেন। আপনি তাকে বলতে পারেন, আপনি আর আমি ঘনিষ্ঠ, আর আমি গেটসকে পরামর্শ দিই—এটা গোপনীয়। আমি তার সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী, তবে কমপক্ষে দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য—এর কম নয়।"
একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে বিল গেটস পরে স্বীকার করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ছিল "গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত", তবে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এরপরও ২০১৩ সালের ২১ মে এহুদ বারাককে আরেক ই-মেইলে এপস্টেইন কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, সেন্ট পিটার্সবার্গে এক অর্থনৈতিক সম্মেলনের সময় পুতিনের সাক্ষাতের অনুরোধ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুতিন যদি সত্যিই দেখা করতে চান, তবে "যথেষ্ট সময় ও গোপনীয়তা" নিশ্চিত করতে হবে। তবে পুতিন আদৌ এমন অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এপস্টেইন ও এহুদ বারাকের যোগাযোগের এসব বার্তা আদান-প্রদান নিয়ে মন্তব্য জানতে সিএনএন ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এর এক বছরেরও বেশি সময় পর, ২০১৪ সালের জুলাইয়ে একটি ই-মেইল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এপস্টেইনের পুতিনের সঙ্গে একটি বৈঠক নির্ধারিত হয়েছিল এবং তিনি লিংকডইনের প্রতিষ্ঠাতাকে সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তখন এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের পরিচালক জোই ইতো এপস্টেইনকে লেখেন, "তোমার সঙ্গে গিয়ে পুতিনের সাথে দেখা করার জন্য সময়সূচি বদলাতে রিডকে আমি রাজি করাতে পারিনি।"
পরে জোই ইতো এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের জন্য তার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের জন্য ক্ষমা চান।
এপস্টেইনের কিছু যোগাযোগ ঘটে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল—বিশেষত ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠার পর, যে নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতাসীন হন।
২০১৮ সালের জুনে ইয়াগল্যান্ড এপস্টেইনকে ই-মেইল করে জানান, তিনি প্যারিসে এপস্টেইনের বাসায় থাকতে চান। তিনি মস্কো থেকে সেখানে আসবেন। মস্কোতে তার পুতিন, ল্যাভরভ ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
এপস্টেইন জবাবে লেখেন, "রাশিয়ানদের সঙ্গে তোমার সাক্ষাতে আমি থাকতে না পারায় দুঃখিত।"
এদিকে বৃহস্পতিবার নরওয়ের তদন্ত সংস্থা ওকোক্রিম ঘোষণা দেয়, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথির তথ্যের ভিত্তিতে তারা ইয়াগল্যান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।
ইয়াগল্যান্ডের আইনজীবী অ্যান্ডার্স ব্রসভেট এক বিবৃতিতে বলেন, তার মক্কেল তদন্তে সহযোগিতা করবেন এবং সংস্থাটিকে "গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান ও প্রাসঙ্গিক নথি" সরবরাহ করবেন। তিনি বলেন, "এখন পর্যন্ত আমরা যা পেয়েছি, তাতে ফলাফল নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।"
ইয়াগল্যান্ড এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এপস্টেইন নথিতে আরও ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তার অন্তত একজন রুশ নাগরিক সের্গেই বেলিয়াকভের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যার সঙ্গে আবার রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির সংশ্লিষ্টতা ছিল। ২০১৫ সালে এক ই-মেইলে তিনি ধনকুবের ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট পিটার থিয়েলকে বলেন, বেলিয়াকভ "আমার খুব ভালো বন্ধু"। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা তাস জানায়, বেলিয়াকভ ১৯৯৯ সালে মস্কোর এফএসবি একাডেমি থেকে গ্রাজুয়েশন করেন।
নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন বেলিয়াকভের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন বেলিয়াকভ সেন্ট পিটার্সবার্গ ইকোনমিক ফোরাম ফাউন্ডেশনের প্রধান ছিলেন, এই সংস্থা রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সম্মেলন আয়োজন করে থাকে।
২০১৫ সালে ওই ফোরামে অংশ নেওয়ার পর সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এপস্টেইনকে জানান, তিনি ল্যাভরভ, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান এলভিরা নাবিউলিনা এবং কয়েকজন শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি ই-মেইলে লেখেন, "সবকিছু আয়োজন করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।"
বারাকের দপ্তর সিএনএনকে জানায়, তার সফরগুলো সব সময় পুতিনের দপ্তরের আমন্ত্রণেই হয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, এপস্টেইন রাশিয়ার নানা বিষয়ে ও পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী ছিলেন, তবে এহুদ বারাক কখনো ক্রেমলিনে এপস্টেইনের নাম নেননি। যদিও বৈশ্বিক নানান বিষয়ে তাদের মধ্যে কথাবার্তা হতো।
২০১৬ সালে বেলিয়াকভ এপস্টেইনকে জানান, তিনি রাশিয়ার প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ তহবিলে (আরডিআইএফ) নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং রুশ প্রকল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চান। জবাবে এপস্টেইন লেখেন, "আপনাকে যা সাহায্য করবে, আমি তার সবই করব।"
২০১৫ সালে এপস্টেইন একবার বেলিয়াকভের সাহায্যও চেয়েছিলেন। তিনি লেখেন, মস্কোর এক 'মেয়ে' নিউইয়র্কের একদল প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে, যা "সবার ব্যবসার জন্য খারাপ।" তিনি ওই নারী কখন নিউইয়র্কে পৌঁছাছেন এবং কোন হোটেলে অবস্থান করছেন— সেসব বেলিয়াকভকে জানিয়ে তার কাছে পরামর্শও চান।
সিএনএন বেলিয়াকভের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে এবং আরডিআইএফের কাছেও মন্তব্য চেয়েছে।
এপস্টেইন ২০১৮ সালে রাশিয়ান অলিগার্ক ওলেগ দেরিপাস্কাকে পরামর্শ দেওয়ার দাবিও করেন। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র দেরিপাস্কার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ঠিক এক মাস পর, কোচ নামক একটি সংস্থার সাবেক সিইও ও বিনিয়োগকারী জাইড জাইটলিন তাকে "দেরিপাস্কার বিষয়ে চিন্তাভাবনার" জন্য ধন্যবাদ জানান। পরে এপস্টেইন সেই ই-মেইলটি স্টিভ ব্যাননের কাছে ফরোয়ার্ড করেন।
২০১০ সালের নভেম্বরে পাঠানো আরেক ই-মেইলে এপস্টেইন ও "ওলেগ" নামে এক ব্যক্তির মস্কো বা প্যারিসে সাক্ষাৎ আয়োজনের চেষ্টার কথা উল্লেখ আছে। তবে এপস্টেইন ও দেরিপাস্কার মধ্যে আদৌ যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। দেরিপাস্কার মুখপাত্র ব্লুমবার্গকে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এপস্টেইনকে চিনতেন না।
এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ আরেক রুশ নাগরিক ছিলেন ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মাশা দ্রোকোভা বুচার। ২০১৭ সালে তিনি এপস্টেইনের জনসংযোগকর্মী ছিলেন এবং ২০০৮ সালে এপস্টেইন প্রথমবার দণ্ডিত হওয়ার পর তার ভাবমূর্তি সামলাতে সহায়তা করেন। রাশিয়ায় তিনি পরিচিত ছিলেন পুতিনপন্থী যুব সংগঠন– নাশির সদস্য হিসেবে। ২০১২ সালের 'পুতিনস কিস' প্রামাণ্যচিত্রেও তিনি ছিলেন।
ইউক্রেন আগ্রাসনের পর ২০২২ সালে মাশা বুচার তার রাশিয়ান নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন বলে জানান। এপস্টেইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ২০১৭ সালে রাশিয়ায় গবেষণাকাজে জড়িত কিছু কোম্পানির ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তিনি এপস্টেইনের সাথে যোগাযোগ করেন, এবং বলেন নিষেধাজ্ঞায় তার "কয়েকজন ভালো বন্ধু" ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এপস্টেইন তাকে থিয়েলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
২০১৮ সালে নিজের ভেঞ্চার ফান্ড গঠনে এপস্টেইনের সহায়তার কথা স্বীকার করে মাশা বুচার ২০১৯ সালে এক বার্তায় লেখেন, "আপনি যে ধারণা ও জ্ঞান আমাকে দিয়েছেন, তা ছাড়া আমি কখনোই আমার ফান্ড গড়তে পারতাম না।"
এপস্টেইন রাশিয়ায় কতবার গিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত ফ্লাইট লগ অনুযায়ী, তিনি ২০০২ সালে তার বান্ধবী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে কোপেনহেগেন থেকে মস্কো ও পরে সেন্ট পিটার্সবার্গে যান এবং সেখান থেকে আয়ারল্যান্ডে ফিরে আসেন।
