ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে না হলেই 'সবচেয়ে ভালো হবে': ট্রাম্প
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন করার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সামরিক হামলা এড়াতে ইরানকে অবশ্যই 'দুটি কাজ' করতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'প্রথমত, কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি নয়। এবং দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা।' তিনি আরও বলেন, 'তারা হাজারে হাজারে মানুষকে হত্যা করছে।'
তিনি বলেন, 'এই মুহূর্তে আমাদের অনেক বড়, অত্যন্ত শক্তিশালী জাহাজ ইরানের দিকে এগোচ্ছে। আমরা যদি এগুলো ব্যবহার না করেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি, তাহলে সেটাই সবচেয়ে ভালো হবে।'
তার এই মন্তব্যগুলো গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর চাপের ধারাবাহিকতায় এসেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের 'তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব' দিতে 'ট্রিগারে আঙুল রেখে' প্রস্তুত।
শুক্রবার আরাগচি ইস্তাম্বুলে পৌঁছান, যেখানে মার্কিন সামরিক হামলার হুমকি এড়ানোর বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
পরবর্তীতে, ইরানি সমকক্ষ মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা 'হ্রাস' করতে তুরস্ক সাহায্য করতে ইচ্ছুক।
ট্রাম্প তাঁর স্ত্রী মেলানিয়ার ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে এসব মন্তব্য করেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, 'আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ চুক্তি করবে—যেখানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।'
তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি 'বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে' এবং এটি 'প্রয়োজনে দ্রুততা ও সহিংসতার সঙ্গে মিশন পূর্ণ করতে প্রস্তুত ও সক্ষম'।
এর জবাবে আরাগচি বলেন, 'ইরান সবসময়ই পারস্পরিক লাভজনক এবং ন্যায্য একটি পারমাণবিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে—যা হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে এবং ভয়ভীতি বা হুমকিমুক্ত—যা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তিতে ইরানের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার গ্যারান্টি দেবে।'
তিনি আরও বলেন, 'এ ধরনের অস্ত্রের আমাদের নিরাপত্তা কৌশলে কোনো স্থান নেই এবং আমরা কখনোই তা অর্জনের চেষ্টা করিনি।'
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, বার্তা আদান–প্রদান হলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায় তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের 'উদ্ধার' করতে এগিয়ে আসবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রার মানের ব্যাপক পতনের পর বিক্ষোভ শুরু হয়, যা দ্রুত দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বের বৈধতার সংকটে রূপ নেয়।
তেহরানের স্থানীয় বাসিন্দারা বিবিসি-কে জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর এবারের দমনপীড়ন তাদের আগে দেখা যেকোনো ঘটনার চেয়ে ভিন্ন।
যদিও ট্রাম্প শুরুতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, 'সাহায্য আসছে', পরে তিনি জানান যে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তিনি শুনেছেন যে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হরানা জানায়, অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে তারা এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় হাজার ৪৭৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ছয় হাজার ৯২ জন বিক্ষোভকারী, ১১৮ জন শিশু এবং ২১৪ জন সরকারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন। সংস্থাটি আরও প্রায় ১৭ হাজার মৃত্যুর খবর তদন্ত করছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, তিন হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে তাদের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা 'দাঙ্গাকারীদের' দ্বারা আক্রান্ত পথচারী।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (আইআরজিসি) তাদের সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ইরানের ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
