আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতা, সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নে ধারাবাহিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) মার্কিন স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার বেসরকারি খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি মনে করে।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতায় 'আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ' এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
উপদেষ্টা বলেন, 'বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন ও আইনের শাসন জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে পাশে থাকার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, 'বিনিয়োগ সহজতর করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে।' তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই বাংলাদেশের লক্ষ্য।
বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, 'আমেরিকান বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক অনুশীলনের প্রসারে অবদান রেখেছে, যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে।'
বর্তমান প্রশাসনকে ব্যবসাবান্ধব হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, 'সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে লভ্যাংশ বা মুনাফা বিদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, উদার অর্থনৈতিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প পার্ক ও হাই-টেক পার্কগুলোতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।'
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অতীতে অসম আচরণের কারণে উদ্বেগের মুখে পড়েছিলেন—এমনটি স্বীকার করে মাহদী আমিন বলেন, দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের ব্যবসায়ের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।' এ সময় তিনি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প অংশীদারিত্ব এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা যারা বিদেশে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তারা যাতে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ব্রেন ড্রেনকে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তরের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বিমান চলাচল, জ্বালানি, আইসিটি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং উচ্চ-মূল্যের উৎপাদন খাতকে প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। নতুন সুযোগগুলো খুঁজতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত 'রোডশো' আয়োজন এবং নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করারও আমন্ত্রণ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ব্রেড ক্রিস্টেনসেন বলেন, 'ওয়াশিংটন বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং যৌথ সমৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ন্যায্য, পারস্পরিক এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।'
তিনি বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) এবং উন্নয়ন সহায়তাকেন্দ্রিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-চালিত সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।'
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং বিকাশমান বেসরকারি খাত বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থার উৎস উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, 'দেশের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আরও সংস্কার প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি এবং একটি আরও বেশি পূর্বাভাসযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা।'
ক্রিস্টেনসেন আরও যোগ করেন, 'প্রস্তাবিত ইউএস-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে সাহায্য করতে পারে।' এছাড়া জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতার সুযোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
