ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে 'সন্ত্রাসী সংগঠনের' তালিকাভুক্ত করল ইইউ
ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জবাবে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসিকে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া ক্যালাস জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী বাহিনী আইআরজিসি এখন আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর কাতারে গণ্য হবে।
তবে ইইউর এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিষয়টিকে 'বোকামি' উল্লেখ করে বলেছেন, এটি ইইউর একটি 'বড় ধরনের কৌশলগত ভুল'।
গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ওই সময় আইআরজিসিসহ ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজারো বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা ৬ হাজার ৩০১ জন নিহতের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯২৫ জনই বিক্ষোভকারী। অন্যদিকে নরওয়েভিত্তিক সংগঠন 'ইরান হিউম্যান রাইটস'-এর দাবি, নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে ইরান সরকারের ভাষ্যমতে, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১০০-এর বেশি। তাদের দাবি, নিহতদের বেশির ভাগই নিরাপত্তাকর্মী অথবা পথচারী, যারা 'দাঙ্গাবাজদের' হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
সমাজমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া ক্যালাস বলেন, 'যে সরকার নিজ দেশের হাজারো মানুষকে হত্যা করে, তারা মূলত নিজেদের পতনের পথই তৈরি করে।'
যদিও আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় ফেলার পরও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ছাড়াও ইরানের ৬টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইইউ। এ তালিকায় রয়েছে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসকান্দার মোমেনি, প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ ও বিচারক ইমান আফশারির নাম।
ইইউর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সহিংস দমন-পীড়ন এবং রাজনৈতিক কর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের নির্বিচার গ্রেপ্তারে এসব ব্যক্তি জড়িত। সন্ত্রাসী তালিকায় থাকার কারণে তাঁদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে এবং ইউরোপে থাকা তাঁদের সম্পদ জব্দ করা হবে, যাতে তাঁরা কোনো ধরনের সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে না পারেন।
ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী এই আইআরজিসি। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরপরই দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থা রক্ষার লক্ষ্যে এটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে বাহিনীটিতে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। স্থল, আকাশ ও নৌপথে নিজস্ব সক্ষমতার পাশাপাশি ইরানের কৌশলগত অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে।
দেশের বাইরেও আইআরজিসির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। মিত্র সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ, অস্ত্র, প্রযুক্তি ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে তারা। এ ছাড়া ইরানের ভেতরে আধাসামরিক বাহিনী 'বাসিজ'-এর নিয়ন্ত্রণও আইআরজিসির হাতে। কয়েক লাখ সদস্যের এই বাসিজ বাহিনীকে সরকারবিরোধীদের দমনে ব্যবহার করা হয়।
