নিরাপত্তাজনিত কারণে কূটনীতিকদের জন্য বাংলাদেশকে ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং ঘোষণার সিদ্ধান্ত ভারতের
নিরাপত্তাজনিত কারণে নিজেদের কূটনীতিকদের জন্য বাংলাদেশকে 'নন-ফ্যামিলি' পোস্টিং হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।
তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ভারতের পাঁচটি কূটনৈতিক মিশনই (ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা) পুরোদমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
এদিকে, প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, বিশেষ করে বাংলাদেশে চরমপন্থী ও উগ্রপন্থী উপাদানগুলোর সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বেশ কিছুদিন ধরেই এই পদক্ষেপটি আলোচনায় ছিল।
একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, 'সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা হাইকমিশনের কর্মকর্তা এবং চারটি সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবারকে ভারতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। তবে ঢাকার হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের চারটি সহকারী হাইকমিশন খোলা থাকবে এবং পূর্ণ শক্তিতে কাজ করবে।'
উল্লেখ, 'নন-ফ্যামিলি পোস্টিং'-এ নিরাপত্তা বা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে কোনো দেশে একজন কূটনীতিককে পরিবার ছাড়া একা দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ ধরনের পোস্টিংয়ে কূটনীতিকের স্ত্রী–সন্তান বা পরিবারের সদস্যদের ওই দেশে থাকার অনুমতি দেওয়া হয় না।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার কবে আবার বাংলাদেশে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত দেশটির কূটনীতিকদের সংখ্যা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা। ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য 'নন-ফ্যামিলি' পোস্টিংকে দেশটির সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সে দেশে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য 'নো চিলড্রেন পোস্টিং' চালু আছে, অর্থাৎ তাদের সন্তানদের সেখানে রাখার অনুমতি নেই। তবে কূটনীতিকদের স্বামী বা স্ত্রী তাদের সঙ্গে থাকতে পারেন—এমন ব্যবস্থা রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ভারত বারবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করেছে বলে যে দাবি উঠেছে, ঢাকা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে দিল্লি বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রাখার অভিযোগও তুলেছে বলে হিন্দুস্তান টাইমসসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিক্ষোভের ঘটনার পর উভয় দেশই নয়াদিল্লি ও ঢাকায় নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের বাইরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে।
তবে, গত ৩১ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পৌঁছানোর পর জাতীয় সংসদ ভবনে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে তিনি ভারত সরকারের শোকবার্তা তুলে দেন।
সেসময় ভারতীয় হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে ভারত সরকার এবং সে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন।'
