বিবাহবিচ্ছেদে মেলিন্ডাকে ৮ বিলিয়ন ডলার দিতে হলো বিল গেটসের
বিল গেটস ও তার সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের শতকোটি ডলারের বিবাহবিচ্ছেদের পর তাদের সম্পদ ও দাতব্য কর্মকাণ্ড কীভাবে ভাগ হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
২০২৪ সালে বিল গেটস তার সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার প্রদান করেছেন। তাদের বিচ্ছেদ এবং মেলিন্ডার তাদের নামাঙ্কিত জনহিতকর ফাউন্ডেশন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পূর্ববর্তী একটি চুক্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে 'পিপল' নিশ্চিত করেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইক্রোসফটের এই সহ-প্রতিষ্ঠাতা তার সাবেক স্ত্রীর সাথে হওয়া সমঝোতার অংশ হিসেবে এই ৭ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন। নতুন ট্যাক্স রেকর্ডের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য প্রথম প্রকাশ করে।
এই অনুদানটি, যা এ যাবৎ জনসমক্ষে আসা বৃহত্তম দাতব্য অবদানগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত। এটি মেলিন্ডার ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত 'পিভোটাল ফিলানথ্রোপিস ফাউন্ডেশন'-এ দেওয়া হয়েছে।
পিভোটাল-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, মেলিন্ডা যখন নিজের দাতব্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন ছেড়ে যান, তখনই এই অনুদানের বিষয়ে বিল ও মেলিন্ডা একমত হয়েছিলেন।
এটি সেই ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ যা নারী ও পরিবারের কল্যাণে কাজ করার জন্য মেলিন্ডাকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এই অর্থের বাকি অংশ ঠিক কবে দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট নয়—ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ বা ২০২৬ সালে তা দেওয়া হয়েছে—তবে পিভোটাল-এর মুখপাত্র বলেছেন, 'চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে পূরণ করা হয়েছে'।
প্রায় ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০২১ সালের মে-তে বিল ও মেলিন্ডা তাদের বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা দেন। তারা তাদের ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের মধ্যে যৌথভাবে গেটস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাদের দুই কন্যা ও এক পুত্র রয়েছে।
বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার তিন বছর পর মেলিন্ডা জানান, তিনি গেটস ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগ করছেন।
২০২৪ সালের মে মাসে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ''এটি এমন কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না যা আমি খুব সহজে নিয়েছি। বিল এবং আমি মিলে যে ফাউন্ডেশনটি গড়ে তুলেছি এবং বিশ্বজুড়ে বৈষম্য দূর করতে এটি যে অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছে, তার জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।'
তিনি আরও বলেন, 'ফাউন্ডেশনের টিম, বিশ্বজুড়ে আমাদের অংশীদার এবং এর কাজের মাধ্যমে যারা উপকৃত হয়েছেন—তাদের প্রত্যেকের কথা গভীরভাবে ভাবি বা তাদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল।'
মেলিন্ডা আরও বলেন, উল্লিখিত ১২.৫ বিলিয়ন ডলারের অনুদান ব্যবহার করে তিনি নিজের দাতব্য কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেবেন।
তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়—এবং সমতা রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ে যারা যুক্ত, তাদের এখন জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রয়োজন।'
এপ্রিলে প্রকাশিত তার স্মৃতিকথা দ্য নেক্সট ডে-তে মেলিন্ডা লেখেন, গেটস ফাউন্ডেশন ছাড়ার সিদ্ধান্তটি তার জীবনের অন্যতম গঠনমূলক মুহূর্ত ছিল।
তিনি লেখেন, 'আমি কোনোভাবেই এই ধারণাটি মেনে নিতে রাজি নই যে, আমার নাতনিরা আমার চেয়ে কম স্বাধীনতা নিয়ে বড় হবে। এবং আমি জানতাম যে ফাউন্ডেশন ছেড়ে দিলে আমি এই লড়াইয়ে নিজেকে উৎসর্গ করার জন্য আরও বেশি সময় এবং সম্পদ পাব—পাশাপাশি আমার দাতব্য জীবনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই সম্পদের ব্যবহারের ওপর আমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।'
এপ্রিলে প্রকাশিত 'পিপল' ম্যাগাজিনের একটি কভার স্টোরিতে মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস বলেন, তার 'অস্বাভাবিক' পরিমাণ সম্পদ ব্যবহার করে অভাবী মানুষকে সাহায্য করাকে তিনি তার 'একমাত্র দায়িত্ব' বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, এই সম্পদগুলোর ক্ষেত্রে একমাত্র দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হলো—যতটা সম্ভব চিন্তাভাবনা করে এবং সর্বোচ্চ প্রভাব তৈরি করে—সেগুলো দান করে দেওয়া।' তিনি আরও বলেন, 'আমার জীবনের অন্যতম প্রধান আদর্শ বা মূল্যবোধ হলো—যাকে অনেক কিছু দেওয়া হয়, তার কাছ থেকেও অনেক কিছু প্রত্যাশাও করা হয়।'
