‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে ভারতের কেরালায় হিন্দু শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫
ভারতের কেরালা রাজ্যে 'বাংলাদেশি' সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল লোক তাকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে বেদম মারধর করছে। এই ঘটনায় তদন্তের জন্য বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ।
পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, গত সপ্তাহে কেরালার পালাক্কাড় জেলায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত রামনারায়ণ বাঘেল (৩১) ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের বাসিন্দা। তিনি দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। তিনি কাজের খোঁজে কেরালায় গিয়েছিলেন। ঘটনাটি কয়েক দিন আগের হলেও গত দুদিনে তা সামনে আসে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি চুরির ঘটনার পর রামনারায়ণকে চোর এবং 'বাংলাদেশি' সন্দেহে একদল লোক তাকে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মারা যান।
হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে কেরালা পুলিশ।
নিহত রামনারায়ণের ভাই শশীকান্ত জানান, কেরালার রাজ্য সরকার তাঁদের মরদেহ রায়পুরে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল সিপিআইএমের দাবি, আরএসএসের ছড়ানো 'ঘৃণার রাজনীতি'র কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে বিজেপি বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সিপিআইএম ও কংগ্রেসের সমর্থকও রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে বিজেপির কয়েকজন সমর্থক থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেছে দলটি।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তিনি বলেন, 'এ ধরনের ঘটনা কেরালার মতো একটি সভ্য সমাজের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।রামনরায়ণ বাঘেলের পরিবার যাতে ন্যায্য বিচার পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
