ডলার ঋণকে ইউয়ানে রূপান্তরের নতুন ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করল আইএমএফ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলো চীনের কাছ থেকে নেওয়া ডলার ঋণ ইউয়ানে রূপান্তর করতে গিয়ে নতুন ধরনের মুদ্রা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক এই বৈশ্বিক ঋণদাতা এক ইমেইল বিবৃতিতে জানায়, ঋণ ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় পদক্ষেপ হিসেবে মুদ্রা পরিবর্তন একটি যৌক্তিক উদ্যোগ হলেও, দেশগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে এ ধরনের সুবিধা যেন নতুন দুর্বলতা তৈরি না করে।
আইএমএফ এর একজন মুখপাত্র বলেন, "এই ধরনের লেনদেন ঋণের ব্যয় কমাতে পারে, কিন্তু এর কাঠামোর ওপর নির্ভর করে তা মুদ্রা বিনিময় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "দেশগুলো যেন এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আগে মধ্যমেয়াদি ঋণ ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ হিসেবে সেগুলো মূল্যায়ন করে— যাতে খরচ ও ঝুঁকির মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে।"
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ বছর ইউয়ান-নির্ভর সরকারি ও কর্পোরেট বন্ডের গড় সুদের হার ২.৪%, যা ডলার-নির্ভর ঋণের প্রায় অর্ধেক।
কেনিয়া ইতোমধ্যে চীনের রেলপথ প্রকল্পে নেওয়া ডলার ঋণ ইউয়ানে রূপান্তর করেছে, যার ফলে তাদের বার্ষিক ঋণ ব্যয় ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার কমেছে। অপরদিকে ইথিওপিয়া চীনের কাছে থাকা ৫.৩৮ বিলিয়ন ডলারের অন্তত কিছু অংশ ইউয়ানে রূপান্তরের বিষয়ে আলোচনা করছে। আফ্রিকার এই অঞ্চলের দেশটি সম্প্রতি এক বিলিয়ন ডলারের ইউরোবন্ড ঋণে খেলাপি হয়েছে এবং এখন জি-২০ কমন ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে ঋণ পুনর্গঠন আলোচনায় রয়েছে।
এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে বৈশ্বিক পর্যায়ে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়াতে নতুন ও ব্যয়বহুল কৌশল নিচ্ছে।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা একটি মহাসড়ক প্রকল্পের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ইউয়ান ঋণ চাইছে, যা মূলত ডলারে অর্থায়নের জন্য পরিকল্পিত ছিল। হাঙ্গেরিও পূর্বমুখী নীতি অনুসরণ করছে, যেখানে দেশটি ৫ বিলিয়ন ইউয়ানের "পান্ডা বন্ড" ইস্যু করেছে।
জোহানেসবার্গভিত্তিক অটোনমি ক্যাপিটালের পরিচালক দীপক দাভে বলেছেন, ইউয়ানে ঋণ নেওয়ার ফলে দেশগুলোকে তাদের জাতীয় রিজার্ভের একটি অংশ ইউয়ানে রুপান্তর করতে হবে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, একাধিক মুদ্রায় রপ্তানি বাণিজ্য করে না এবং যাদের জন্য ডলারই বাণিজ্যের সবচেয়ে কার্যকর মুদ্রা, এমন ছোট অর্থনীতিগুলোর জন্য এটি "একটি বড় বাধা" হয়ে দাঁড়াতে পারে।
