কাতারের ওপর হামলা হলে পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র, নির্বাহী আদেশ জারি ট্রাম্পের
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কাতারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নতুন নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, কাতারের ওপর পুনরায় কোনো হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় কয়েকজন হামাস সদস্য নিহত হন। ইসরায়েল দাবি করে, তারা হামাস নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল যারা কাতারের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তবে শীর্ষ নেতারা বেঁচে যান, কিন্তু এক কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন।
ঘটনার পর সোমবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যৌথ ফোন কলে কাতারি প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল থানিকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
নতুন নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, 'আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, যৌথ স্বার্থ ও দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার অবিচ্ছেদ্য অংশীদার।' তিনি কাতারকে 'শান্তি ও স্থিতিশীলতার এক নির্ভরযোগ্য সহযোগী' আখ্যা দেন।
ট্রাম্প বলেন, 'কাতারের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কাতারের বিরুদ্ধে যে কোনো সামরিক আক্রমণকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করব।'
ঘটনার এক সপ্তাহ পর ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দোহায় পৌঁছান। আরব ও ইসলামিক নেতাদের জরুরি সম্মেলনের পরপরই এই সফরে তিনি কাতারের সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। কাতারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, 'আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাতার অটল থাকবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেবে।'
তবে ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতির প্রকৃত সীমা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর করতে সাধারণত সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। যদিও পূর্বে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি করেছিলেন কংগ্রেস ছাড়াই। শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের হাতেই থাকে।
কাতার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অংশীদার। দেশটির বিশাল আল উদেইদ এয়ারবেসে রয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অগ্রবর্তী ঘাঁটি। ২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কাতারকে 'নন-ন্যাটো মিত্র' হিসেবে ঘোষণা করেন।
কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও উপসাগরীয় বিষয় বিশ্লেষক বাদের আল-সাইফ মন্তব্য করেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে উপসাগরের গুরুত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর তাৎপর্য আরও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি করে, যা কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মৌখিক প্রতিশ্রুতি বা কূটনৈতিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।'
