কারা পেতে পারেন নোবেল পুরস্কার? বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যদ্বাণী যা বলছে
প্রতি বছর অক্টোবর মাসের শুরুতে বিজ্ঞানীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন, কার কাছে আসবে সুইডেন থেকে সেই বিশেষ ফোন কলটি। এই বছর, নোবেল কমিটি ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবে ৬ থেকে ১৩ই অক্টোবরের মধ্যে। এই ঘোষণার আগে, 'দ্য সায়েন্টিস্ট' পত্রিকার সম্পাদকেরা গবেষকদের কাছে জানতে চেয়েছেন, এ বছর কারা পেতে পারেন এই সম্মান।
লি ঝাও, বিবর্তনীয় জেনেটিসিস্ট, দ্য রকফেলার ইউনিভার্সিটি
বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন অনেক অসামান্য গবেষণা রয়েছে যা পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। এমনকি আমার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই এমন কয়েকজন গবেষক রয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি আশা করি আমার রকফেলার সহকর্মী স্ভেতলানা মোজিসভ এবং জেফরি ফ্রিডম্যান সম্মানিত হবেন।
মোজিসভ গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড-১ (GLP-1) এর সক্রিয় রূপটি শনাক্ত ও তার বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে, জেফরি ফ্রিডম্যান লেপটিন হরমোন আবিষ্কার করেছেন। তাদের দুজনের কাজই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে।
ফিলিপ উইগে, উদ্ভিদ জীববিজ্ঞানী, পটসডাম বিশ্ববিদ্যালয়
আমি মনে করি, ড্রেসডেনের অ্যান্টনি হাইম্যানের নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত। তিনি প্রোটিন-প্রোটিন ফেজ সেপারেশন (protein-protein phase separation) এর ধারণাটি প্রবর্তন করেছেন। এটি ইউক্যারিওটিক কোষের একটি সার্বজনীন প্রক্রিয়া, যেখানে প্রোটিন দুটি অবস্থার মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে এবং একটি তরল-তরল পৃথক দশায় (liquid-liquid phase separation state) প্রবেশ করে। আমাদের শরীরের অর্ধেক প্রোটিনের মধ্যেই অ্যামিনো অ্যাসিডের এমন অংশ রয়েছে যা অনিয়মিত বা বিশৃঙ্খল । এই অংশগুলোই তরল-তরল পৃথক দশায় যাওয়ার প্রবণতা দেখায়। আগে আমরা প্রোটিন নিয়ে গবেষণার জন্য এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফির উপর নির্ভর করতাম, যা এই বিশৃঙ্খল অঞ্চলগুলো সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারত না। কিন্তু প্রোটিনের কার্যকারিতার জন্য এই অঞ্চলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো প্রোটিনকে বিভিন্ন গঠনে পরিবর্তিত হতে সাহায্য করে।
তরল-তরল পৃথক দশা এবং প্রোটিনের অবস্থার পরিবর্তন আবিষ্কার বিজ্ঞানে একটি চলমান বিপ্লবের মতো। এটি সত্যিই অসাধারণ। আমার জীবনে এমন কোনো আবিষ্কারের কথা মনে পড়ে না, যা কোষের কার্যকারিতা সম্পর্কে এত নতুন প্রশ্ন এবং সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এটা এমন একটা আবিষ্কার, যা নিয়ে বলাই যায় যে, এটি অবশ্যই নোবেল পুরস্কার পাবে, শুধু সময়ের অপেক্ষা।
পিটার ভ্যানডেন বার্গে, নিউরোসায়েন্টিস্ট, লিউভেন ব্রেন ইনস্টিটিউট
বহু বছর ধরে আমি আশা করছিলাম কার্ল ডাইসেরথ অপটোজেনেটিক্স এবং চ্যানেলরোডোপসিন আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পাবেন, কিন্তু আমার এখন আর মনে হয় না সেটা হবে।
ইভান ডি আরাউজো, নিউরোসায়েন্টিস্ট, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল সাইবারনেটিক্স
আমি মনে করি জেফরি ফ্রিডম্যান, যিনি লেপটিন আবিষ্কার করেছেন, তাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত। এর মতো প্রভাবশালী আবিষ্কার খুব কমই আছে। লেপটিন হলো চর্বি কোষ থেকে নিঃসৃত একটি হরমোন, যা মস্তিষ্ককে শরীরে চর্বির পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। আমরা জানি যে লেপটিনের অভাবে মারাত্মক স্থূলতার মতো ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।
এছাড়াও, এই হরমোন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ক্ষুধা, মানসিক তৃপ্তি এবং নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজনন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই আবিষ্কারের পরিসর অনেক বড়। এটি চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞানের একটি বড় আবিষ্কার যা স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।
ডেভিড গেট, নিউরোইমিউনোলজিস্ট, নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অপটোজেনেটিক্স গবেষক কার্ল ডাইসেরথ এখনও নোবেল পুরস্কার পাননি। তিনি নোবেল পুরস্কারের কিছু পূর্বসূরী পুরস্কার জিতেছেন, কিন্তু নোবেল পাননি। অপটোজেনেটিক্স নিউরোসায়েন্সে অবিশ্বাস্যভাবে প্রভাবশালী একটি প্রযুক্তি। আমি মনে করি কার্ল ডাইসেরথের নামটা জোরালোভাবে আসবে। অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি গতবারই পুরস্কারটা পাবেন।
আরেকজন যাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য উপেক্ষা করা হয়েছে এবং সম্ভবত এখন আর বিবেচনা করা হবে না, তিনি হলেন প্যাস্কো রাকিচ। তিনি ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে মস্তিষ্কের স্টেম সেল আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি অনেক পুরস্কার জিতেছেন, কিন্তু নোবেল পাননি।
