রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভন; ইনফ্লুয়েন্সারের ‘ভাইরাল’ ভিডিও নিয়ে তরুণীদের সতর্ক করল দ. আফ্রিকা
বিদেশে লোভনীয় চাকরির সুযোগের কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো প্রচারণায় পা না দিতে তরুণীদের সতর্ক করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার।
সম্প্রতি রাশিয়ায় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশটির কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের তৈরি করা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়।
সায়ান বুজি নামের এক ইনফ্লুয়েন্সারের একটি প্রচারমূলক ভিডিও নিয়ে তদন্ত চলছে, যা এরই মধ্যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ভিডিওটিতে তিনি তরুণীদের জন্য রাশিয়ায় দুই বছর মেয়াদী একটি 'স্টার্ট প্রোগ্রামের' বর্ণনা দেন, যার মাধ্যমে কর্মজীবনের শুরুতে পেশাগত দক্ষতা অর্জন করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী বেকার। এ অবস্থায় অনেকেই চাকরির খোঁজে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই প্রতারক চক্রগুলো তরুণীদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার।রাশিয়ার তাতারস্তানে ধারণ করা বুজির সেই ভিডিওটিতে তরুণীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনের চিত্র তুলে ধরা হয়।
সায়ান বুজি, যার আসল নাম অনার জুমা, এই কর্মসূচিকে 'নতুন করে জীবন শুরুর সুযোগ' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, 'আপাতদৃষ্টিতে এখানে মেয়েদের, বিশেষ করে আফ্রিকান, এশীয় বা লাতিন আমেরিকানদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হয়।'
টিকটকে ১৭ লাখ অনুসারী থাকা বুজি আরও জানান যে, যারা এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন, তাদের চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি রুশ ভাষাও শেখানো হবে। তবে তরুণীদের ঠিক কোন ধরনের কাজে নিযুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে ভিডিওতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বিজ্ঞাপনটি মূলত ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণীদের উদ্দ্যেশে বানানো হয়েছে।
যদিও বুজি বেআইনি কিছু করেছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই। সপ্তাহজুড়ে চলা সমালোচনার বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্যও করেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি বিভাগের প্রধান ক্লেইসন মনিয়েলার মতে, বিদেশে চাকরির প্রচারণায় ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহারের এই প্রবণতা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার 'গভীরভাবে উদ্বিগ্ন'।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি তরুণ-তরুণী, বিশেষ করে মেয়েদের, 'যাচাই-বাছাই ছাড়া বিদেশি চাকরির প্রস্তাবে' পা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন।কোনো প্রস্তাব যদি বিশ্বাস করার মতোও মনে হয়, তবে দ্বিতীয় কোনো মতামত নেয়ার উপদেশ দেন তিনি।
এর মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে যে, তাতারস্তানে নিয়োগ পাওয়াদের অনেককেই শেষ পর্যন্ত একটি অস্ত্র কারখানায় কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যেখানে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর ব্যবহৃত ড্রোন তৈরি করা হয়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাতারস্তানের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলেরনাম উঠে এসেছে, যেখানে এই বিধ্বংসী অস্ত্রগুলো তৈরি করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
'গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ এগেইনস্ট ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম' নামের একটি সংস্থা গত মে মাসে এই 'স্টার্ট' কর্মসূচির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, 'কাজের ধরন, কাজের পরিবেশ এবং শিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে মিথ্যা আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে প্রলুব্ধ করা হয়।' এতে আরও যোগ করা হয় যে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার 'ড্রোন উৎপাদন কর্মসূচিকে' সহায়তা করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই সরাসরি ড্রোন উৎপাদনের কাজে যুক্ত হন, আর বাকিরা সহায়ক কর্মী—যেমন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা খাবার সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করেন।
