'নিজেকে অপমান করব না’: ট্রাম্পের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় আগ্রহ নেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার
যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় আগ্রহী নন। লুলার মতে, এখন আলোচনায় বসা অপমানজনক হতে পারে।
রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লুলা বলেন, 'যেদিন আমি অন্তর থেকে অনুভব করব ট্রাম্প আলোচনায় প্রস্তুত, সেদিন আমি বিনা দ্বিধায় তাকে ফোন করব। কিন্তু আজ আমার মন বলছে, তিনি কথা বলতে চান না। আর আমি নিজেকে অপমানও করব না।'
তবে পাল্টা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ব্রাজিল সরকার। লুলা জানান, তার প্রশাসন এখনই কোনো প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করবে না। একইসঙ্গে মন্ত্রিসভা পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে। যদিও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর শুল্ক ব্রাজিলের রপ্তানিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করলেও দেশটির অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধাক্কা লাগবে না। ফলে পশ্চিমা বিশ্বের অনেক নেতার তুলনায় ট্রাম্পের চাপ মোকাবেলায় লুলার কৌশলগত সুবিধা বেশি।
লুলার মতে, ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন ২০০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প এই নতুন শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ব্রাজিলের সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান মামলার অবসান চেয়েছেন।' উল্লেখ্য, বলসোনারো ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বর্তমানে বিচারের মুখোমুখি।
এ বিষয়ে লুলা বলেন, 'ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প কী বলছেন, তা আমলে নেয় না এবং তা নেয়াও উচিত নয়।' তিনি মনে করেন, বলসোনারো ট্রাম্পকে হস্তক্ষেপে প্ররোচিত করেছেন এবং এজন্য তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হওয়া উচিত। লুলা বলসোনারোকে 'জাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতক' বলেও আখ্যায়িত করেন।
লুলা আরও বলেন, 'আমরা ইতিমধ্যে ১৯৬৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে ক্ষমা করেছি। কিন্তু এবারের ঘটনা একেবারেই আলাদা। এটি কোনো ছোট হস্তক্ষেপ নয়। এটি এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মনে করছেন, তিনি ব্রাজিলের মতো একটি সার্বভৌম দেশের জন্য নিয়ম বানাতে পারেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।'
তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই বলেও জানিয়েছেন লুলা। তার মতে, আগামী মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন কিংবা নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু সম্মেলনে তাদের দেখা হতে পারে। যদিও তিনি মনে করিয়ে দেন, ট্রাম্প অতীতে হোয়াইট হাউসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মতো নেতাদের অপমানজনকভাবে গ্রহণ করেছিলেন। আর এটি তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
