রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের ওপর ‘ব্যাপকভাবে’ শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর 'ব্যাপকভাবে' শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও দীর্ঘদিন ধরেই উভয় দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে চেষ্টা চলছিল।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ভারত 'অধিক পরিমাণে' রুশ তেল কিনে তা আবার বিক্রি করে 'বড় মুনাফা' করছে। তিনি লিখেছেন, 'রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্র ইউক্রেনে কত মানুষ মারছে, সেটা নিয়ে ভারতের কোনো ভাবনা নেই। তাই আমি যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছি। বিষয়টির খেয়াল রাখায় ধন্যবাদ!!!'
তবে কতটা শুল্ক বাড়ানো হবে বা কখন থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যমতে, ২০২৪ সালে দেশটি ভারত থেকে ৮৭.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে বেশি শুল্ক বসায় এবং রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কিনছে।
রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা সোমবার প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। তারা জানায়, যুদ্ধের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার পণ্য ও জ্বালানি কিনছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের আমদানি মূলত দেশের মানুষের জন্য সস্তা ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করতেই করা হয়। তিনি আরও বলেন, 'এই পরিস্থিতিতে শুধু ভারতকে লক্ষ্যবস্তু বানানো অন্যায় এবং অযৌক্তিক। যেকোনো বড় দেশের মতো ভারতও নিজের স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।'
ভারত ও রাশিয়ার 'মজবুত' সম্পর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত রাশিয়ার তেল কম দামে কিনছে। ইআইএর রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধের পর ভারতের রাশিয়ার তেল কেনার পরিমাণ ছয় গুণের বেশি বেড়ে গেছে।
শনিবার রণধীর জয়সওয়াল জানান, ট্রাম্পের সমালোচনার মাঝেও ভারত রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে। তিনি বলেন, 'আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অন্য দেশের কারণে বদলাবে না। ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে মজবুত ও পরীক্ষিত।'
গত বছর ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধে দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও যুদ্ধ এখনও চলছে। শুরুতে তিনি নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়ার কঠোর সমালোচনা করে আরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন।
রোববার হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ নিশ্চিত করেছেন, তিনি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনা করবেন।
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা চালায়। তবে প্রথমেই তারা রাজধানী কিয়েভ দখল করতে পারেনি। এরপর থেকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
রোববার হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তা স্টিফেন মিলার বলেন, ভারত রাশিয়ার যুদ্ধে অর্থ যোগাচ্ছে। মিলার ফক্স নিউজকে বলেন, 'মানুষ বিস্মিত হবে জানতে পেরে যে, ভারত চীনের মতোই রাশিয়া থেকে বেশি করে তেল কিনছে। এটা একটি চমকপ্রদ বিষয়।'
