১১এ আসন বাঁচাল প্রাণ: এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার একমাত্র জীবিতের সঙ্গে থাই অভিনেতার চমকে দেওয়া মিল
প্রায় তিন দশক ও হাজার মাইল ব্যবধান সত্ত্বেও বিমানের 'একই আসনে' বসে প্রাণে বেঁচে গেলেন দুই ব্যক্তি—একজন থাইল্যান্ডে, অন্যজন ভারতে। এই আশ্চর্য কাকতালীয় ঘটনা এখন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত।
দুই দুর্ঘটনা, এক আসন
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাই অভিনেতা ও গায়ক জেমস রুয়াংসাক লোইচুসাক ১৯৯৮ সালে থাই এয়ারওয়েজের টিজি২৬১ ফ্লাইট দুর্ঘটনায় বেঁচে যান। থাইল্যান্ডের সুরাট থানি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হওয়া ওই বিমানে ১৪৬ আরোহীর মধ্যে ১০১ জনের মৃত্যু হয়। সেসময় লোইচুসাক বিমানের ১১এ আসনে বসা ছিলেন।
দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়াই ছিল এক অলৌকিক ঘটনা। কিন্তু ২৭ বছর পর আরও এক ভয়াবহ বিমানে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীর সঙ্গেও এই ১১এ আসন মিল খুঁজে পাওয়ার পর তা নতুন মাত্রা পায়।
ভারতের আহমেদাবাদে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট এআই-১৭১ দুর্ঘটনার একমাত্র জীবিত যাত্রী ছিলেন ৪০ বছর বয়সী ব্রিটিশ-ভারতীয় নাগরিক বিশ্বাস কুমার রমেশ। তিনিও বসেছিলেন আসন ১১এ-তে।
এ ঘটনা জানার পর রীতিমতো শিহরিত লোইচুসাক নিজের ফেসবুকে লেখেন, 'ভারতে বিমান দুর্ঘটনার একজন জীবিত যাত্রী। সে আমার মতো একই আসনে ছিল—১১এ।'
মাত্র ৩৩ সেকেন্ডে বিধ্বস্ত বিমান
এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি আহমেদাবাদ থেকে লন্ডন গ্যাটউইকের পথে রওনা দেয়। কিন্তু উড্ডয়নের মাত্র ৩৩ সেকেন্ড পরই একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে আছড়ে পড়ে। প্রাণ হারান ২৪১ জন যাত্রী। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান বিশ্বাস কুমার রমেশ।
তার সঙ্গে একই ফ্লাইটে ছিলেন বড় ভাই অজয় কুমার রমেশ (৪৫)। তবে তিনি অন্য আসনে ছিলেন। দুই ভাই সদ্য দিউ সফর শেষে ফিরে এসেছিলেন।
'চারপাশে শুধু মৃতদেহ, আমি দৌড়ে বের হয়ে আসি'
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বাস বলেন, 'উড্ডয়নের ৩০ সেকেন্ড পরই বিকট শব্দ হয়, তারপরই প্লেন ভেঙে পড়ে। সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে কিছুই বোঝার সুযোগ পাইনি।'
তিনি আরও জানান, 'যখন জ্ঞান ফিরল, চারপাশে শুধু মৃতদেহ। আমি ভীত হয়ে পড়ি। উঠে দাঁড়িয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসি। প্লেনের টুকরো ছড়িয়ে ছিল। তখন কেউ একজন আমাকে ধরে অ্যাম্বুলেন্সে তোলে এবং হাসপাতালে নিয়ে যায়।'
বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং নিখোঁজ ভাইয়ের খোঁজে উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন। 'তিনি আমার সঙ্গে ছিলেন, এখন আর খুঁজে পাচ্ছি না,' বলেন বিশ্বাস।
