Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Wednesday
March 18, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
WEDNESDAY, MARCH 18, 2026
ফ্রেডরিক ফোরসাইথ: ছিলেন থ্রিলার লেখক, ফাইটার পাইলট, সাংবাদিক ও গুপ্তচরও

আন্তর্জাতিক

টিবিএস ডেস্ক
10 June, 2025, 02:20 pm
Last modified: 10 June, 2025, 02:30 pm

Related News

  • ইসরায়েলের গুপ্তচর হওয়ার অভিযোগে ইরানে বাড়ছে গ্রেপ্তার
  • সাংবাদিকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা উচিত নয়: মির্জা ফখরুল
  • আনিস আলমগীরের জামিন শুনানি ৮ মার্চ
  • একটি নির্দিষ্ট মহল গোপনে ‘মব’ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডে মদত দিচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী 
  • প্রস্তুতি সম্পন্ন, ভোট পর্যবেক্ষণে আসবেন ১৯ দেশের ৫৪০ জন সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব 

ফ্রেডরিক ফোরসাইথ: ছিলেন থ্রিলার লেখক, ফাইটার পাইলট, সাংবাদিক ও গুপ্তচরও

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের 'ডেথ ইন দ্য আফটারনুন' বইটির মোহে এমনভাবেই মুগ্ধ হয়েছিলেন ফোরসাইথ, মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্পেনে পাড়ি দিয়ে নিজেই শিখতে শুরু করেন লাল কেপ নিয়ে ষাঁড়ের সামনে দাঁড়ানোর কৌশল।
টিবিএস ডেস্ক
10 June, 2025, 02:20 pm
Last modified: 10 June, 2025, 02:30 pm
ফ্রেডরিক ফোরসাইথ। ছবি: এপি

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় থ্রিলার উপন্যাস 'দ্য ডে অফ দ্য জ্যাকাল'-এর লেখক ফ্রেডরিক ফোরসাইথ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। খবর বিবিসি'র।

মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হওয়া থ্রিলার উপন্যাসের লেখক ফ্রেডেরিক ফোরসাইথ প্রতিটি গল্প লেখার আগে গভীরভাবে গবেষণা করতেন।

যুদ্ধবিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল তার, ছিলেন সাংবাদিক, এমনকি গুপ্তচরও। তাই তার অনেক উপন্যাসই তিনি লিখেছেন নিজের দেখা ও জানার ওপর ভিত্তি করে।

গল্পে তিনি নানা জটিল কারিগরি বিষয় এমনভাবে তুলে ধরতেন, যা কাহিনির গতি একটুও কমাত না—বরং পাঠককে ধরে রাখত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

তার এই নিখুঁত গবেষণাই কখনো কখনো বিপাকে ফেলত কর্তৃপক্ষকে। কারণ, যে সব রহস্যময় কৌশলের কথা তিনি তুলে ধরতেন, সেগুলোর অনেকটাই বাস্তব জীবনের গুপ্তচরবৃত্তিতে সত্যিই ব্যবহার করা হয়—এমন স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হতো সংশ্লিষ্টরা।

ফ্রেডরিক ম্যাকার্থি ফোরসাইথ-এর জন্ম ১৯৩৮ সালের ২৫ আগস্ট, ইংল্যান্ডের কেন্টের অ্যাশফোর্ডে।

একজন চামড়া ব্যবসায়ীর একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। নিঃসঙ্গতা কাটাতে ডুবে গিয়েছিলেন দুঃসাহসিক অভিযানের গল্পে।

জন বুচান ও এইচ রাইডার হ্যাগার্ডের রচনা ছিল তার প্রিয় পাঠ, তবে সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা ছিল আর্নেস্ট হেমিংওয়ের 'ডেথ ইন দ্য আফটারনুন' বইটির প্রতি—যেখানে স্পেনের ষাঁড়ের লড়াই ও তার নায়কদের জীবন ধরা পড়েছে।

ফোরসাইথ-এর জন্ম ১৯৩৮ সালের ২৫ আগস্ট, ইংল্যান্ডের কেন্টের অ্যাশফোর্ডে। ছবি: সংগৃহীত

এই বইয়ের মোহে এমনভাবেই মুগ্ধ হয়েছিলেন ফোরসাইথ, মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্পেনে পাড়ি দিয়ে নিজেই শিখতে শুরু করেন লাল কেপ নিয়ে ষাঁড়ের সামনে দাঁড়ানোর কৌশল।

ফোরসাইথ কখনো সত্যিকারের ষাঁড়ের সঙ্গে লড়েননি। বরং গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ মাস কাটিয়ে ফিরে আসেন, এরপর শুরু করেন রয়্যাল এয়ার ফোর্সে (আরএএফ) তার জাতীয় পরিষেবা।

ছোটবেলা থেকেই বৈমানিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সে স্বপ্ন পূরণে নিজের বয়স পর্যন্ত গোপন করেছিলেন, যেন ডি হ্যাভিল্যান্ড ভ্যাম্পায়ার জেট উড়াতে পারেন।

১৯৫৮ সালে তিনি সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইস্টার্ন ডেইলি প্রেস-এ স্থানীয় প্রতিবেদক হিসেবে। তিন বছরের মাথায় যোগ দেন বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এ।

টনব্রিজ স্কুলে পড়াকালীন ফোরসাইথ বিদেশি ভাষায় পারদর্শিতার জন্য নজর কেড়েছিলেন, যদিও পড়ালেখার অন্য বিষয়ে খুব একটা সাফল্য তার ছিল না।

ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও রুশ ভাষায অনর্গল কথা বলতে পারতেন তিনি—যেন জন্ম থেকেই বিদেশে সাংবাদিক হওয়ার জন্য জন্ম নিয়েছিলেন ফোরসাইথ।

প্যারিসে নিযুক্ত থাকার সময় ফোরসাইথ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গলকে হত্যার একের পর এক চেষ্টার খবর কভার করেন। এসব ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল 'অর্গানিজাসিয়ঁ দ্য ল'আর্মে সেক্রেত' (ওএএস) নামে একটি সংগঠন, যেটির সদস্যরা ছিল সাবেক সেনা।

আলজেরিয়াকে স্বাধীনতা দেওয়ার সিদ্ধান্তে শার্ল দ্য গলের প্রতি তীব্র ক্ষোভ জন্মায় এই সাবেক সেনাদের। কারণ, আলজেরীয় জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে তাদের বহু সাথী প্রাণ হারিয়েছিল।

ফোরসাইথ এই গোষ্ঠীকে আখ্যা দিয়েছিলেন 'শ্বেত ঔপনিবেশিক' ও 'নব্য ফ্যাসিবাদী' হিসেবে।

তার মনে হয়েছিল, যদি তারা সত্যিই দ্য গলকে হত্যা করতে চায়, তাহলে তাদের এক পেশাদার খুনির আশ্রয় নিতে হবে।

ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও রুশ ভাষায অনর্গল কথা বলতে পারতেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত

১৯৬৫ সালে বিবিসিতে যোগ দেন ফোরসাইথ।

দুই বছর পর তাকে পাঠানো হয় নাইজেরিয়ায়—দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল বায়াফ্রার বিচ্ছিন্নতার পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ কভার করার জন্য।

কিন্তু সেই সংঘাত প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে। ফোরসাইথ তখন বিবিসির কাছে অনুরোধ জানান, তিনি থেকে যেতে চান—যুদ্ধের পুরোটা কভার করবেন। তার আত্মজীবনীর বর্ণনা অনুযায়ী, বিবিসি তখন জানায়, 'এই যুদ্ধ কভার করাটা আমাদের নীতির মধ্যে পড়ে না।'

ফোরসাইথের মনে হয়, খবর নিয়ন্ত্রণের গন্ধ আছে এর পেছনে। তিনি বলেন, 'আমি খবরের ব্যবস্থাপনা পছন্দ করি না।'

অবশেষে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। পরবর্তী দুই বছর যুদ্ধ কভার করেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে।

এই অভিজ্ঞতারই বিবরণ তিনি তুলে ধরেন দ্য বায়াফ্রা স্টোরি গ্রন্থে, যা প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। পরে তিনি দাবি করেন, নাইজেরিয়ায় অবস্থানের সময়ই শুরু হয় তার এমআই৬-এর সঙ্গে সম্পর্ক, যা স্থায়ী হয় পরবর্তী দুই দশক ধরে।

ফোরসাইথ বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন কিছু ভাড়াটে সৈনিকের সঙ্গে। তাদের কাছ থেকেই তিনি শিখেছিলেন কীভাবে ভুয়া পাসপোর্ট বানাতে হয়, আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করতে হয়, কিংবা শত্রুর ঘাড় ভাঙতে হয় নিঃশব্দে।

এই সব গোপন কৌশল জায়গা করে নেয় এক দুনিয়া কাপানো উপন্যাসে—ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গল–কে হত্যার চেষ্টার গল্প, 'দ্য ডে অফ দ্য জ্যাকাল'-এ। মাত্র ৩৫ দিনে, একটা পুরোনো টাইপরাইটারে, নিজের ছোট্ট কামরায় বসে উপন্যাসটি লিখে ফেলেন ফোরসাইথ।

কিন্তু লেখার কাজ শেষ হলেও শুরু হয় আরেক যুদ্ধ—মাসের পর মাস ধরে প্রকাশকের দরজায় দরজায় ঘুরেও শুধু প্রত্যাখ্যানই জোটে।

'সমস্যাটা ছিল শুরুতেই,' এক সাক্ষাৎকারে বলেন ফোরসাইথ, 'কারণ তখন দ্য গল জীবিত। ফলে পাঠক আগেই জানত, ১৯৬৩ সালের এক হত্যাচেষ্টার গল্প সফল হতে পারে না।'

শেষ পর্যন্ত এক প্রকাশক ঝুঁকি নিয়ে সীমিত সংখ্যায় বইটা ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় সাফল্যের যাত্রা—প্রথমে যুক্তরাজ্যে, পরে যুক্তরাষ্ট্রে। এই বইকে একসময় বলা হতো 'একজন খুনির নির্দেশিকা'।

আর ফোরসাইথ? তিনি থেমে থাকেননি। লিখে গেছেন আরও অনেক গল্প—গভীর গবেষণায় ভরা, রোমাঞ্চে ভরা।

'দ্য ডে অফ দ্য জ্যাকাল' উপন্যাসটি ফোরসাইথের থ্রিলার রচনার এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলে। এতে সত্য ও কাল্পনিক কাহিনি একসঙ্গে মিশে থাকে, যেখানে প্রায়শই বাস্তব ব্যক্তির নাম ও ঘটনাও ব্যবহৃত হয়।

জ্যাকালের একটি ব্রিটিশ পাসপোর্ট জালিয়াতির কাহিনি—যেখানে তিনি এক মৃত শিশুর নাম ব্যবহার করেছিলেন, যেটা এক গির্জার প্রাঙ্গণ থেকে নেওয়া হয়েছিল—সেই সময়কার ইলেকট্রনিক ডেটাবেস এবং ক্রস-চেকিংয়ের অভাবে পুরোপুরি সম্ভব ছিল।

১৯৭৩ সালে এই কাহিনি নিয়ে তৈরি হয় এক পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্র, যেখানে এডওয়ার্ড ফক্স অভিনয় করেছিলেন একজন গোপন অস্ত্রধারীর ভূমিকায়।

ফোরসাইথ-এর পরের কাজ ছিল 'দ্য ওডেসা ফাইল', যেখানে একটি জার্মান সাংবাদিক এডুয়ার্ড রশম্যান নামক এক কুখ্যাত নাজিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। রশম্যান ছিলেন সাবেক এসএস সদস্যদের গোপন সংঘ 'ওডেসা'র সুরক্ষায়।

১৯৭৩ সালে 'দ্য ডে অভ দ্য জ্যাকাল’ থেকে তৈরি হয় চলচ্চিত্র। সেখানে এডওয়ার্ড ফক্স অভিনয় করেছিলেন একজন গোপন অস্ত্রধারীর ভূমিকায়। ছবি: সংগৃহীত

গবেষণার অংশ হিসেবে ফোরসাইথ হ্যামবুর্গে যান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশ ধারণ করেন। পরে তিনি বলেছিলেন, 'আমি ওদের জগতে ঢুকে গিয়েছিলাম এবং নিজেকে যথেষ্ট গর্বিত অনুভব করছিলাম।'

'কিন্তু আমি জানতাম না, আমাদের সাক্ষাৎকারের পর আমার যোগাযোগ এক বইয়ের দোকানের সামনে দিয়ে গিয়েছিল। সেখানে দোকানের জানালায় দ্য ডে অফ দ্য জ্যাকাল–এর একটি বড় ছবি ছিল, যার পেছনের মোড়কে আমার ছবি ছিল।'

এই বইয়ের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্রের কারণেই আসল 'রিগার কসাই' (দ্য বুচার অফ রিগাই) শনাক্ত হয়, যিনি আর্জেন্টিনায় বাস করছিলেন। একজন প্রতিবেশী স্থানীয় সিনেমা হলে ছবিটি দেখে তাকে শনাক্ত করেন। এরপর আর্জেন্টিনিয়ান কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেফতার করে, কিন্তু তিনি জামিনে মুক্তি নিয়ে পালিয়ে যান পারাগুয়ে।

বইটিতে ১৯৪৪ সালে সুইজারল্যান্ডে রপ্তানি করা এক বড় নাজি সোনার গোপন ভান্ডারের কথাও উল্লেখ ছিল। প্রকাশের ২৫ বছর পর, ইহুদি বিশ্ব কংগ্রেস ওই অংশটি খুঁজে পায় এবং অবশেষে প্রায় এক বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সেই সোনার খোঁজ পায়।

সানডে টাইমসের খবর অনুযায়ী, ফোরসাইথের তৃতীয় উপন্যাস দ্য ডগস অফ ওয়ার তার আফ্রিকায় এক অভ্যুত্থান আয়োজনের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা।

সংবাদপত্র জানিয়েছিল, ফোরসাইথ একসময় দুই লাখ ডলার খরচ করে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন এবং ইউরোপীয় ও আফ্রিকান ভাড়াটে সৈনিকদের নিয়োগ দিয়েছিলেন ১৯৭২ সালে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির প্রেসিডেন্টকে উৎখাতের জন্য একটি অভিযান চালানোর উদ্দেশ্যে।

কিন্তু পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয় যখন সেই আয়োজন ভেঙে পড়ে এবং সৈনিকদের স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে, যেখানে তাদের লক্ষ্য থেকে প্রায় তিন হাজার মাইল দূরে, স্প্যানিশ পুলিশ আটক করে।

এরপর আসে 'ডেভিলস অলটারনেটিভ', যেখানে ব্রিটেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী জোয়ান কার্পেন্টার চরিত্রটি স্পষ্টভাবে মার্গারেট থ্যাচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যাকে ফোরসাইথ গভীরভাবে সম্মান করতেন। পরবর্তীতে আসল নামেই তিনি ফোরসাইথের চারটি উপন্যাসে হাজির হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে ফোরসাইথ এর বেশ সুনাম ছিল। ছবি: সংগৃহীত

১৯৮২ সালে ফোরসাইথ জীবনী রচনায় হাত দেন 'এমেকা' দিয়ে, যা তার বন্ধু কলোনেল চুকুএমেকা ওডুমেগু ওজুকুর জীবনকাহিনি—যিনি বায়াফ্রার স্বাধীনতার পর অল্পদিনের শাসক ছিলেন।

১৯৮৪ সালে ফোরসাইথ আবার উপন্যাস লেখা শুরু করেন 'দ্য ফোর্থ প্রোটোকল' দিয়ে, যা সোভিয়েত সরকারের একটি জটিল ষড়যন্ত্রের গল্প, যেখানে তারা ব্রিটিশ সাধারণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে কঠোর বামপন্থী লেবার সরকার গঠনের চেষ্টা করে।

এই বইটি এতটাই প্রশংসিত হয় যে, স্যার মাইকেল কেইন ফোরসাইথকে এটি চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার জন্য রাজি করান। সেখানে অভিজ্ঞ এই অভিনেতা পিয়ার্স ব্রসনানের সঙ্গে অভিনয় করেন।

১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে ফোরসাইথ তার প্রথম স্ত্রী, প্রাক্তন মডেল ক্যারল কানিংহামের সঙ্গে বিচ্ছেদে জড়ান এবং তখন অভিনেত্রী ফে ডানাওয়ের সঙ্গে তার ছবি প্রকাশ পায়।

১৯৯১ সালে প্রকাশিত 'দ্য নেগোশিয়েটর' তার সফলতার ধারাবাহিকতা নজায় রাখে। আর 'দ্য ডিসিভার'—একজন বিচিত্র কিন্তু দুর্ধর্ষ এমআই৬ এজেন্টের গল্প—বিবিসির একটি মিনি-সিরিজে রূপ নেয়।

এরপর তার দুটি থ্রিলার 'দ্য ফিস্ট অফ গড' এবং 'আইকন' প্রকাশিত হয়। এরপর ফোরসাইথ এর লেখা এক অবাক করা মোড় নেয় 'দ্য ফ্যান্টম অফ ম্যানহাটান' নিয়ে, যা ফ্যান্টম অফ দ্য অপেরা মিউজিকালের সিকোয়েল ছিল।

যদিও এটি খুব সফল হয় নি, তবে ২০১০ সালে অ্যান্ড্রু লয়েড ওয়েবার এই গল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে 'লাভ নেভার ডাইজ' নামে 'ফ্যান্টম'-এর মিউজিক্যাল সিকোয়েল তৈরি করেন।

তার দ্বিতীয় গল্পসংকলন 'ভেটেরান' মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়। কিন্তু ফোরসাইথ তার পরিচিত রীতি অনুসরণ করে ফিরে আসেন ২০০৩ সালে প্রকাশিত রাজনৈতিক থ্রিলার 'এভেঞ্জার' দিয়ে। তিন বছর পরে প্রকাশিত হয় 'দ্য আফগান', যা আগের 'ফিস্ট অফ গড' গল্পের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

এই সময়ে ফোরসাইথ একজন স্বনামধন্য সম্প্রচারক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

তিনি নিয়মিত অতিথি ছিলেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান 'কোয়েশ্চেন টাইম'-এ, যেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শের ডানপন্থী দৃষ্টিকোণ থেকে মতামত ব্যক্ত করতেন।

একজন দৃঢ় ইউরোপ-বিরোধী হিসেবে, তিনি একবার ওই অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেড হিথকে যুক্তি দিয়ে পরাজিত করেন—প্রমাণ দেখিয়ে যে, টেড হিথ স্বীকার না করলেও একসময় যুক্তরাজ্যের সোনার মজুদ ফ্রাঙ্কফুর্টে স্থানান্তরের দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন।

ফোরসাইথ সব বই-ই টাইপরাইটারে লিখতেন। ছবি: হাল্টন আর্কাইভ

ফোরসাইথ সাতাত্তর বছর পূর্ণ করার পর তার লেখার গতি কিছুটা ধীর হয়ে যায়।

২০১০ সালে প্রকাশিত হয় 'দ্য কোবরা', যেখানে 'অ্যাভেঞ্জার' এর কিছু চরিত্র আবার ফিরে আসে।

২০১৩ সালে তিনি প্রকাশ করেন 'দ্য কিল লিস্ট', যা এক মুসলিম উগ্রবাদী 'দ্য প্রিচার' নামে এক ব্যক্তির চারপাশে আবর্তিত একটি দ্রুতগামী গল্প। প্রিচারের অনলাইন ভিডিওগুলো তরুণ মুসলিমদের একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালাতে প্ররোচিত করতো।

ফোরসাইথ সব বই-ই টাইপরাইটারে লিখতেন এবং গবেষণার জন্য কখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন না।

তার ১৮তম উপন্যাস 'দ্য ফক্স', ২০১৮ সালে প্রকাশিত, একটি গুপ্তচর থ্রিলার যা এক দক্ষ কম্পিউটার হ্যাকারকে কেন্দ্র করে লেখা।

ফোরসাইথ ঘোষণা দিয়েছিলেন এটি তার শেষ বই হবে। কিন্তু ২০২৪ সালে তার দ্বিতীয় স্ত্রী স্যান্ডির মৃত্যুর পর তিনি নিজে থেকেই অবসর থেকে ফিরে আসেন।

তিনি জানিয়ে দেন, নতুন এক অভিযানের গল্প লিখছেন এবং এমনকি এক র‍্যাফেল হতে পারে, যেখানে কেউ নিজের নামে চরিত্রের নাম রাখার সুযোগ পেতে পারে।

১৯৭০-এর দশকে 'দ্য ডে অফ দ্য জ্যাকাল' এর চলচ্চিত্র স্বত্ব থেকে তিনি ২০ হাজার পাউন্ড পেয়েছিলেন। কিন্তু গত বছর স্কাইতে টেলিভিশনের জন্য নতুনভাবে তৈরি এডি রেডমেইনের সংস্করণের জন্য কোনো পারিশ্রমিক পাননি।

বয়স ৮০ ছোঁয়ার পর দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পৃথিবীর দূর-দুরান্তে গবেষণার জন্য যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন—এর আগে গিনি-বিসাউ সফরে গিয়ে একটি সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে প্রায় পা হারানোর শঙ্কায় পড়েন।

'এটা এক ধরনের মাদক সদৃশ, সাংবাদিকতা,' তিনি স্বীকার করেছিলেন। 'আমার মনে হয়, এই প্রবৃত্তি কখনো মরে না।'

এই প্রবৃত্তিই তার জীবনকে তার থ্রিলারের মতোই পরিপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর করে তুলেছিল।

 


অনুবাদ: তাসবিবুল গনি নিলয়

Related Topics

টপ নিউজ

ফ্রেডরিক ফোরসাইথ / দ্য ডে অফ দ্য জ্যাকাল / থ্রিলার লেখক / সাংবাদিক / গুপ্তচর / ফাইটার পাইলট

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
    'এমনটা ঘটার কথা ছিল না; আমরা স্তম্ভিত': উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর ইরানের পাল্টা হামলায় বিস্মিত ট্রাম্প
  • ফাইল ছবি: ইউএস নেভি
    মার্কিন রণতরীতে ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে আগুন, অসুস্থ কয়েক সেনা, মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন ৬০০ নাবিক
  • ছবি: সংগৃহীত
    কয়েক মিনিটের ব্যবধানে রক্ষা, যেভাবে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে 'বেঁচে ফিরলেন' মোজতবা খামেনি
  • ইরানের হরমুজগান প্রদেশের অন্তর্গত কেশম দ্বীপের স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি: আল জাজিরা
    কেশম দ্বীপ: হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও ভূতাত্ত্বিক বিস্ময়
  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ দ্রুত সম্পন্ন করার বিকল্প নেই: গভর্নর
    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ দ্রুত সম্পন্ন করার বিকল্প নেই: গভর্নর
  • ছবি: ইপিএ
    হরমুজ রক্ষায় ‘হয়তো আমাদের থাকারই দরকার নেই, কারণ আমাদের তেলের অভাব নেই’: ট্রাম্প

Related News

  • ইসরায়েলের গুপ্তচর হওয়ার অভিযোগে ইরানে বাড়ছে গ্রেপ্তার
  • সাংবাদিকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা উচিত নয়: মির্জা ফখরুল
  • আনিস আলমগীরের জামিন শুনানি ৮ মার্চ
  • একটি নির্দিষ্ট মহল গোপনে ‘মব’ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডে মদত দিচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী 
  • প্রস্তুতি সম্পন্ন, ভোট পর্যবেক্ষণে আসবেন ১৯ দেশের ৫৪০ জন সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব 

Most Read

1
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

'এমনটা ঘটার কথা ছিল না; আমরা স্তম্ভিত': উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর ইরানের পাল্টা হামলায় বিস্মিত ট্রাম্প

2
ফাইল ছবি: ইউএস নেভি
আন্তর্জাতিক

মার্কিন রণতরীতে ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে আগুন, অসুস্থ কয়েক সেনা, মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন ৬০০ নাবিক

3
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

কয়েক মিনিটের ব্যবধানে রক্ষা, যেভাবে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে 'বেঁচে ফিরলেন' মোজতবা খামেনি

4
ইরানের হরমুজগান প্রদেশের অন্তর্গত কেশম দ্বীপের স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক

কেশম দ্বীপ: হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও ভূতাত্ত্বিক বিস্ময়

5
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ দ্রুত সম্পন্ন করার বিকল্প নেই: গভর্নর
অর্থনীতি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ দ্রুত সম্পন্ন করার বিকল্প নেই: গভর্নর

6
ছবি: ইপিএ
আন্তর্জাতিক

হরমুজ রক্ষায় ‘হয়তো আমাদের থাকারই দরকার নেই, কারণ আমাদের তেলের অভাব নেই’: ট্রাম্প

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net