নেপালে রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে চলা বিক্ষোভে সহিংসতায় নিহত ২, গাড়িতে আগুন-দোকান লুট

নেপালে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে চলা বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান ও এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন অন্তত ১১২ জন। খবর এনডিটিভির
গতকাল শুক্রবার রাজধানী কাঠমাণ্ডুর বিভিন্ন অংশে সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহের হাজার হাজার সমর্থক তথা রাজতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে হামলা চালান। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। সেইসঙ্গে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাট লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
পরে বিক্ষুব্ধ জনতা পার্লামেন্ট ভবনের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এসব ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাঠমাণ্ডু ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৪.২৫ মিনিটে রাজধানীর কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়, যা শনিবার সকাল ৭টায় তুলে নেওয়া হয়। বিক্ষোভে ঘরবাড়ি ও যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১০৫ জন বিক্ষোভকারীকে পুলি গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির সাধারণ সম্পাদক ধাওয়াল শমসের রানা এবং দলের কেন্দ্রীয় সদস্য রবীন্দ্র মিশ্র প্রমুখ রয়েছেন।
২০০৮ সালে পার্লামেন্টে রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর নেপালে ফেডারেল ও রিপাবলিকান শাসন ব্যবস্থা চালু হয়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধীরগতির কারণে রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্রধর্ম ফিরিয়ে আনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আগে মিনা সুবেদী নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে 'পরিস্থিতির কেবল অবনতি হয়েছে'।
৫৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তি বলেন, 'দেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়া উচিত ছিল। জনগণের আরও ভাল কাজের সুযোগ, শান্তি, নিরাপত্তা এবং সুশাসন থাকা উচিত ছিল। আমাদের দুর্নীতিমুক্ত হওয়া উচিত ছিল।'
এদিকে রাজধানীর অন্য স্থানে প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষা করতে হাজারো মানুষ জড়ো করে রাজনৈতিক দলগুলো। সাবেক নেতা ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহল বলেছেন, নেপালিরা অতীতে ফিরে যাবে না।